মুসলিম শব্দটি সালাম শব্দ থেকে উৎপত্তি যার শাব্দিক অর্থ শান্তি ও নিরাপত্তা বিধান করা। মুসলিম শব্দের অর্থ আত্নসর্মপনকারী।
পারিভাষিক অর্থে:
যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামিনকে মহান প্রতিপালক হিসেবে গ্রহন করবে, আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশিত পথে নিজের জীবন চালাবে, হালালকে হালাল বলে মানবে এবং হারামকে বয়কট করবে, সলাত প্রতিষ্ঠা করবে, রোজা রাখবে, নিসাবের অধিকারী হলে যাকাত আদায় করবে এবং হাজ্জে গমন করবে। এই সব গুনাবলীর অধিকারী হলে তাকে মুসলিম বলা হয়। পবিত্র কুরআন থেকে বিশদ জানি:
“সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা সলাত প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।”
(2: 177)
“মু’মিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে”
(23: 2)
“যারা নিজেদের সলাতে বিনয়-নম্র;”
(23: 3)
“যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত,”
(23: 4)
“যারা যাকাত দান করে থাকে”
(23: 5)
“এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে।”
(23: 6)
হাদীস থেকে ব্যখ্যা:
আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ জু’ফী (রা.) আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেন, “ঈমানের শাখা রয়েছে ষাটের কিছু বেশী। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।”
(সহীহ বুখারী ১ম খন্ড ঈমান অধ্যায় হাদীস নং ৮)
“প্রকৃত মুসলিম সেই যার হাত ও জিহবা থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।”
(সহীহ বুখারী হাদিস নং ৯)
এখানে হাত থেকে নিরাপদ বলতে কারো উপর আক্রমন করবে না এবং জিহবা থেকে নিরাপদ বলতে কারো নামে কুৎসা গিবত মিথ্যা অপবাদ এবং অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ ফল ফলাদি গ্রাস না করা বুঝানো হয়েছে।
মুহাম্মদ ইবনুন মুসান্না (র) আনাস ইবনে মালিক (রা.)থেকে বর্নিত, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেন, তিনটি গুণ যার মধ্য থাকে সে ঈমানের স্বাদ পায়:
১.আল্লাহ ও তার রাসূল তার কাছে অন্য সব কিছু হতে প্রিয় হওয়া।
২. কাউকে খালিস আল্লাহর জন্যই মুহব্বত করা।
৩. কূফরীতে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মত অপসন্দ করা।
(সহীহ বুখারী হাদীস নং ১৫ ঈমান অধ্যায়)
আম্মার (রা.) বলেন, তিনটি গুণ যে আয়ত্ব করে, সে (পূর্ণ) ঈমান লাভ করে:
১. নিজ থেকে ইনসাফ করা।
২. সালামের প্রচলন করা।
৩. অভাবগ্রস্হ অবস্হায়ও দান করা।
(সহীহ বুখারী হাদীস নং ২৬)
হাদিসটি পড়ে একটু চিন্তা করুন: আমরা কি আসলেই ‘প্রকৃত মুসলিম’ হতে পেরেছি?
নাকি জুমু’আবারে মাসজিদে হাজিরা আর কুরবানীর গরুর মাংস খাওয়ার দাবীদার মুসলিম?আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের কুরআন বুঝার তৌফিক দান করুন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) এর নির্দেশিত পথে চলার তাওফিক দান করুন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান পুরোপুরি মেনে চলার তাওফিক দান করুন (আমীন।)
IFM desk