আমরা অনেকে সফলতার কথা বলি, সফলতার রোডম্যাপ নিয়ে জ্ঞানগর্ব আলোচনা করি, সফলতার পথে মানুষকে উজ্জীবিত করি। সফলতার জন্য উদ্যোগী হওয়া নি:সন্দেহে ভাল কাজ কিন্তু আমরা কোন সফলতার উপর গুরুত্বারোপ করছি তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।
ধরুন, একজন মুসাফির সকালে পথ চলতে শুরু করল, তার পরিকল্পনা হচ্ছে প্রথম গন্তব্যে গিয়ে পানি পান করে কয়েক সেকেন্ড বিশ্রাম নিবে। তারপর পথ চলতে চলতে দ্বিতীয় গন্তব্যে গিয়ে কিছু শুকনো খাবার খেয়ে কয়েক মিনিট বিশ্রাম নিবে। তারপর তৃতীয় গন্তব্যে গিয়ে দুপরের খাবার খেয়ে কয়েক ঘন্টা বিশ্রাম নিবে। তারপর চতুর্থ গন্তব্যে পৌঁছে রাতের খাবার খেয়ে সেখানে রাত্রি যাপন করবে। তারপর পঞ্চম গন্তব্যে গিয়ে কয়েকদিন অবস্থান করবে এবং পরের গন্তব্যে পৌঁছে জীবনের বাকী সময়টুকু কাটানোর জন্য বসবাস শুরু করবে।
আচ্ছা বলুনতো কোন গন্তব্যের জন্য তার সকল প্রস্তুতি, আয়োজন, পরিশ্রম সবচেয়ে বেশী হবে, কোন গন্তব্যের সফলতা তার কাছে সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে। জানি সবাই সঠিক উত্তর দিবেন, বলবেন সর্বশেষ গন্তব্যের কথা। কারণ আমরা কেউই অতটা বোকা নই যে, কয়েক সেকেন্ডের, কয়েক মিনিটের, কয়েক ঘন্টার কিংবা কয়েকদিনের সাময়িক অবস্থানের জন্য অপ্রয়োজনীয় বাড়তি কোন আয়োজন করবো।
উদাহরণটি দেয়া হয়েছে বিষয়টি অনুধাবন করার সুবিধার্থে, তবে প্রকৃত বিষয়ের সাথে তা একেবারেই সংগতিপূর্ন নয়। কারণ চিরস্থায়ী পরকালের তুলনায় ক্ষণস্থায়ী ইহকাল কয়েকটি মূহুর্ত মাত্র। একটু ভেবে দেখুন তো, বাস্তবে আমরা বুদ্ধিমানের পরিচয় দিচ্ছি কি না!
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা চিরস্থায়ী পরকালের সাফল্যকে মহাসাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং কাংখিত সেই মহাসাফল্যের রোডম্যাপও পরিস্কার ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। এখন আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব হচ্ছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেই রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে মহাসাফল্যের পথে এগিয়ে যাওয়া। প্রসংগত: উল্লেখ্য, ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে আমাদের সকলের হায়াত এবং রিযিক পূর্বনির্ধারিত।
IFM desk