মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ন




যায় না বলা কথা, ইন্টারনেটও অযথা

মোবাইল নেটওয়ার্ক: ভোগান্তির দায় নিতে চায় না কেউ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৩ ৫:১৬ pm
mobile tower Cell site cellular tower antenna network মোবাইল টাওয়ার রেডিয়েশন বিকিরণ নেটওয়ার্ক অপারেটর
file pic

যায় না বলা কথা, ইন্টারনেটও অযথা
গ্রাহকের অভিযোগ বিস্তর
সরকার ও অপারেটরদের দাবি, সেবার মান বেড়েছে

মোবাইল ফোনে নেটওয়ার্ক সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। এক কলে কথা শেষ করতে পারছে না গ্রাহক। কথা বলতে বলতে মাঝপথে সংযোগ কেটে যাচ্ছে (কলড্রপ)। কথোপকথনের মধ্যেই অনেক সময় একপাশের কথা শোনা যাচ্ছে না। দু-তিনবার কল দেওয়ার পর মিলছে সংযোগ। ইন্টারনেট গতির অবস্থা আরও করুণ। পর্যাপ্ত ডেটা থাকলেও ভিডিও কল, ইন্টারনেট ব্রাউজিং কিংবা ভিডিও দেখা সেই টুজি আমলের কথা মনে করিয়ে দেয়।

তবে মোবাইল নেটওয়ার্ক কোম্পানিগুলোর দাবি, সমস্যা তাদের নেটওয়ার্কে তেমন নেই। বিভিন্ন স্থানে সরকারি-বেসরকারি জ্যামারের কারণে নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। এর মধ্যেও কলড্রপ হলে গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। আর গত কয়েক দিন ইন্টারনেট প্যাকেজ-সংক্রান্ত ডেটা আপডেটের কারণে কিছু ভোগান্তি হয়েছে গ্রাহকের।

খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকার মতো বড় শহরে জ্যামার একটি কারণ। বিশেষ করে এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জনসমাবেশের স্থলগুলোর আশপাশে এমনটি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু মোবাইলের নেটওয়ার্ক সমস্যা দেশজুড়ে। এর কারণ বড় অপারেটরগুলোর নেটওয়ার্ক সক্ষমতার চেয়ে গ্রাহক সংখ্যা অনেক বেশি। তাই সেবার মান কমছে।

এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, সেবার মানোন্নয়নে অপারেটরদের নিয়মিত চাপ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা বেশ উন্নতি করেছে। বিশেষ বিশেষ স্থানে, যেখানে লোকসমাগম বেশি হয়, সেখানে নেটওয়ার্ক ঝামেলা করে।

দেশে এখন মোবাইল গ্রাহক ১৮ কোটি ৮৬ লাখ। ইন্টারনেট গ্রাহক ১৩ কোটি ১৯ লাখ। এর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক ১১ কোটি ৯৮ লাখ।

নেটওয়ার্ক ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহবুব নামের একজন সম্প্রতি ফেসবুকে লেখেন, একজনকে ফোন করে সালাম দিয়ে কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করে ১৩ সেকেন্ড পর ওপাশ থেকে বলে– চুপ কেন? ছোট বোনের ফোনে চারবারের চেষ্টায় সংযোগ পাওয়ার জানা গেল, প্রথম তিনবার ওই ফোনে রিংই হয়নি। এমন কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে মাহবুব লেখেন, ‘ওপর প্রান্তের কথা ঠিকমতো বোঝা যায় না, আচ্ছা আচ্ছা, ঠিক আছে বলে কথা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘প্রিয় মোবাইল অপারেটর, আপনারা যদি জানতেন আপনাদের দুর্বল ও মানহীন নেটওয়ার্কের কারণে প্রতিদিন কী পরিমাণ ও কী ধরনের বিব্রতকর, আপত্তিকর, ক্লান্তিকর, দুঃখজনক ও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে এবং বিড়ম্বনায় আমাকে, আমাদেরকে পড়তে হয়!’

তথ্য বলছে, বছরে ২০ থেকে ২৫ হাজার অভিযোগ জমা হয় টেলিযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি)। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ভয়েস কল ও মোবাইল ইন্টারনেট সেবা নিয়ে। ২০২১ সালে বিটিআরসিতে ২৩ হাজার ১৬টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে নেটওয়ার্ক কাভারেজ নিয়ে চার হাজার ৫২৩টি অভিযোগ এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। আর ২০২২ সালে জমা পড়া ১৫ হাজার ৭৪৯টির মধ্যে নেটওয়ার্ক কাভারেজ নিয়ে ১ হাজার ৬২২টি অভিযোগের এখনও সমাধান মেলেনি।

খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃত অভিযোগের পরিমাণ এই সংখ্যার কয়েক গুণ। কারণ, প্রায় সব গ্রাহকই মোবাইল সেবা নিয়ে প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

মোবাইল ফোনে গ্রাহকের অন্যতম ভোগান্তির নাম কলড্রপ। যদিও গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবি– তিন অপারেটরই দাবি করেছে, তাদের কলড্রপ কমছে। বিটিআরসির নির্দেশনা অনুসারে, প্রথম কলড্রপ থেকেই গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা অপারেটরদের। কিন্তু গ্রাহকের অভিযোগ, তারা ক্ষতিপূরণ পান না। [samakal]




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD