শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন




কক্সবাজার শহরের ঝাউতলায়

পানিতে নয় স্থলে মাছের রাজ্য রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৪ ৮:৪১ pm
radiant fish world Cox'Bazar radiant-fish-world পানিতে নয় স্থলে মাছের রাজ্য রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড ফিস ওয়ার্ল্ড কক্সবাজার
file pic

রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে প্রথম আন্তর্জাতিক মানের ফিস অ্যাকুরিয়াম দেখার সুযোগ। পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরের ঝাউতলায় বিনোদনের নতুন সংযোজন এই ফিশ মিউজিয়াম। সময়-সুযোগ হলে ঘুরে আসুন যে কোনো মুহূর্তে। এযেন সাগর ও মিঠা পানির বর্ণিল রাজত্ব। নান্দনিক শিল্পকর্ম ও বৈদ্যুতিক ঝলমলে আলোয় তৈরি হয়েছে জলচর প্রাণীদের এক আশ্চর্য জগৎ। কয়েকশ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণীদের সংমিশ্রণে গড়া সৈকতের শহর কক্সবাজারের রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড এখন হয়ে উঠেছে সাগর তলদেশের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

সমুদ্র নিয়ে কোনো সময়েই মানুষের আগ্রহের কমতি ছিল না। আর যদি সাগরতলের আশ্চর্য জগৎ হয়, তাহলেতো আগ্রহের মাত্রার শেষ নেই। সেই মাত্রায় সরাসরি সাগরতলের প্রাণীর দেখা পেলে বিস্ময়ে চোখ যেন কপালে উঠে যায়! কক্সবাজারের রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ডে বঙ্গোপসাগরের মাছ, জীবন্ত জীবজন্তু দেখে বিস্ময়ে চোখ যেন কপালে ওঠার দশা।

রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড নির্মাণে সময় লেগেছে প্রায় দুই বছর। রেডিয়েন্ট গ্রুপ প্রায় একশো কোটি টাকা ব্যয় করে নির্মাণ করেছে ফিস ওয়ার্ল্ডটি। লোনা পানি ও মিঠা পানির মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সংগ্রহ শালা এটি।

কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকায় ৮০ শতক জমির উপর ৪ তলা ভবনের  তৃতীয় তলা জুড়ে এই অ্যাকুরিয়াম অবস্থিত। শতাধিক ছোট-বড় অ্যাকুরিয়ামে কয়েকশো প্রজাপতি সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণীদের সংরক্ষণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি কক্সবাজার শহরের ঝাউতলায় অবস্থিত রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড ঘুরে দেখা গেলো, বঙ্গোপসাগরের তলদেশের প্রায় শতাধিক প্রজাতির মাছ ও জীবজন্তু অ্যাকুরিয়ামে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। সাগরতলের নাম না জানা হরেক প্রজাতির মাছ ও জীবজন্তু দেখতে ফিশ ওয়ার্ল্ডে প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন দর্শনার্থী ও পর্যটকরা। কক্সবাজারের রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড যেন সাগরতলের এক আশ্চর্য জগৎ। বঙ্গোপসাগরের দূর্লভ মাছ-প্রাণী নিয়ে সাজানো হয়েছে এই ফিশ ওয়ার্ল্ড। সত্যিই এই ফিশ ওয়ার্ল্ড যেন কক্সবাজারের বিস্ময়!

ফিশ ওয়ার্ল্ডের নিচতলায় প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে বিশাল এক সামুদ্রিক কচ্ছপের ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য। একটু এগোলেই বড় বড় ক্যাট ফিশ। আরেকটু সামনে বড় সামুদ্রিক কোরাল মাছের খুনসুঁটি। সামুদ্রিক ইল খাবি খাচ্ছে পানির নিচে। চিংড়ির খেলাও দেখা যাবে। আছে লাল কাঁকড়া। বিচিত্র ভঙ্গিতে খেলা দেখাচ্ছে জেলি ফিশ!

রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ডের চারতলা ভবনের তিনতলাজুড়েই নান্দনিক শিল্পকর্ম সমৃদ্ধ ছোট-বড় শতাধিক অ্যাকুরিয়াম। বৈদ্যুতিক আলোয় ঝলমলে অ্যাকুরিয়ামের স্বচ্ছ পানিতে সাঁতার কাটছে হাঙর, কোরাল, পাঙাশ, মাইট্যা, কামিলা, রুপচাঁদা, ইলিশ, জেলি ফিশ, লবস্টারসহ নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। সুড়ঙ্গের ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে গেলে সেগুলোও যেনো পা মেলায়। অ্যাকুরিয়ামগুলোয় রাখা হয়েছে কৃত্রিম প্রবাল। সেই প্রবালের ফাঁকে ফাঁকেই নানা রং-বেরংয়ের মাছ সাঁতরে বেড়াচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড অ্যাকুরিয়ামে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত নতুন মাছ সংযোজন করা হচ্ছে।

রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, এসব মাছ ও প্রাণী কোনোটাই দেশের বাইরের নয়। দেশের সমুদ্রকে সবার সামনে তুলে ধরতে এর সবই বঙ্গোপসাগর থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

ফিশ ওয়ার্ল্ডে আসা দর্শনার্থী রিনভী বলেন, সাধারণত সমুদ্র সৈকতে গেলে মানুষ সাগরের বিশাল জলরাশি দেখতে পায়। কিন্তু সমুদ্রের সেই বিচিত্র মাছ, প্রাণী দেখতে পায় না। এখানে এসে নতুন অনেক মাছ সম্পর্কে জানতে পারলাম।

 

মাছের রাজ্য

অ্যাকুরিয়াম কমপ্লেক্সে আছে সাগর ও মিঠা পানির প্রায় ১০০ প্রজাতির মাছ। এই অ্যাকুরিয়ামে থাকা মাছগুলোর মধ্যে রয়েছে- হাঙ্গর, পাঙ্গাস, থাই সরপুটি, মহাশোল বা গজার, কোরাল, পুঁটি, কুরুমা স্প্রিং, লাল কাঁকড়া, রাইল্যা, কামিলা, বাগদা ও গলদা চিংড়ি, স্টিং রে, আফ্রিকান মাগুর, দেশিয মাগুর, ফলি, পটকা, ভোল কোরাল, অক্টোপাস, কামিলা, বিদ্যুৎ মাছ, ব্ল্যাক কিং, নীলরঙা ভোল, বাইল্লা, রাজকাঁকড়া, স্টার ফিস, স্টোন ফিস, জেলি ফিসসহ নানা প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী। ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পুকুর ও সাগরের তলদেশের বৈচিত্র্যময় পরিবেশ।

যা পাবেন

মাছের রাজ্যে ঘুরে বেড়াতে গিয়ে ভিন্ন বিনোদনের স্বাদও নিতে পারেন পর্যটকরা। এখানে ঢুকলে মনে হবে সাগরের তলদেশে আছেন। চারপাশে খেলা করে বর্ণিল প্রজাতির মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী। এছাড়া রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ডে আছে থ্রি-নাইন ডি মুভি দেখার নান্দনিক স্পেস, লাইফ ফিশ রেস্টুরেন্ট, দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির পাখি, শিশুদের খেলার জায়গা, ছবি তোলার আকর্ষণীয় ডিজিটাল কালার ল্যাব, মার্কেটিং করার জন্য শপ ও ছাদে প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করার পাশাপাশি বার-বি-কিউয়ের আয়োজন করার ব্যবস্থা।

সময়

প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে এ অ্যাকুরিয়াম। প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগবে এ অ্যাকুরিয়াম পুরোটা ঘুরে দেখতে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই অ্যাকুরিয়ামে মাছের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে নিমিষেই পর্যটকদের কয়েক ঘণ্টা কেটে যায়। অ্যাকুরিয়ামে থাকা কৃত্রিম প্রবাল ও কৃত্রিম ঝর্না আর বর্ণিল আলোকসজ্জা যে কাউকে মুগ্ধ করে।

প্রবেশমূল্য

রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড  বাংলাদেশের প্রথম মেরিন ফিশ অ্যাকুরিয়াম। প্রতিদিন শতশত দর্শনার্থী এ মাছের রাজ্য দেখতে ছুটে আসেন। সময় ও উপলক্ষ অনুযায়ী টিকিট মূল্যের ওপর ১০-৫০% ডিসকাউন্ট থাকে। এই ফিশ ওয়ার্ল্ডে প্রবেশ মূল্য ৩০০ টাকা। তবে শিশুরা বিনা মূল্যেই প্রবেশ করতে পারে।

যেভাবে যাবেন

দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে চলে আসুন কক্সবাজার। কক্সবাজার বাস টার্মিনাল বা রেল স্টেশন অথবা বিমান বন্দর থেকে সিএনজি, ইজিবাইক বা অটোরিকশা দিয়ে যেতে পারবেন। কলাতলী বীচের সড়কেই পাবেন সব যানবাহন। এখান থেকে যেতে হবে ঝাউতলা। পৌষী রেস্টুরেন্টের সামনের মোড় থেকে হাতের বামপাশে কিছুদূর গেলেই পেয়ে যাবেন রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড।

যেখানে থাকবেন

কক্সবাজারে প্রায় পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল বা কটেজ আছে। পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো একটাতে থাকতে পারেন। তবে সব কিছুর আগে দরদাম করে নেওয়াই ভালো।

যা খাবেন

কক্সবাজারে বিভিন্ন ধরনের রেস্টুরেন্ট আছে। এছাড়া প্রায় প্রতিটি হোটেলেই খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা আছে। অ্যাকুরিয়াম কমপ্লেক্সেও রেস্টুরেন্ট পাবেন।

সমুদ্র তলদেশের জীবন্ত প্রাণীদের এমন দৃশ্য দেখা সত্যি অসাধারণ। এখানে এসে সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির অপার রহস্যের সমুদ্রের প্রাণীদের একাংশ দেখে চক্ষু হয় শীতল আর মনটা ভরে ওঠে সজীবতায়।

কোরআনে মাছ প্রসঙ্গ

মাছ একটি জলজ মেরুদণ্ডী প্রাণী, যা জোড়-বিজোড় পাখনার সাহায্যে সাঁতার কাটে এবং ফুলকার মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়। সাধারণত মাছ দেহের বহির্ভাগ আঁশ দ্বারা আচ্ছাদিত থাকে। তবে আঁশবিহীন মাছের সংখ্যাও কম নয়। সাগরের লোনা ও মিষ্ট পানি, সাধু পানির খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়, নদী, হ্রদ, পুকুর, ডোবা-যেখানেই পানি আছে, সেখানেই মাছের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র মাছ মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্থলভূমিতে পশুপালনের জন্য মানুষকে অনেক কষ্ট করতে হয়। কিন্তু সাগরে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন জাতের মাছের ব্যবস্থা করেছেন। মাছ খাদ্য হিসেবে যেমন উত্কৃষ্ট, তেমনি সহজলভ্য। মহান আল্লাহর তার কুদরতের নিদর্শন বর্ণনা করতে গিয়ে সাগর ও মাছের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। পবিত্র কুরআনেও সামুদ্রিক মাছের কথা উল্লেখ করা হয়েছে একাধিক প্রসঙ্গে।

সুরা নাহলের ১৪নং আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, “আর তিনিই (আল্লাহ) সে সত্তা, যিনি সমুদ্রকে নিয়োজিত করেছেন, যাতে তোমরা তা থেকে তাজা (মাছের) গোশত খেতে পার এবং তা থেকে বের করতে পার অলংকারাদি, যা তোমরা পরিধান কর। আর তুমি তাতে নৌযান দেখবে তা পানি চিরে চলছে এবং যাতে তোমরা তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করতে পার এবং যাতে তোমরা শুকরিয়া আদায় কর।”

একই রকম কথা সুরা ফাতিরের ১২নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘দু’টি সমুদ্র সমান নয়, একটির পানি সুমিষ্ট ও সুপেয়, অপরটির পানি অত্যন্ত লবণাক্ত। প্রতিটি হতে তোমরা তাজা গোশত (মাছ) আহার করো এবং আহরণ করো অলংকার (মণি–মুক্তা) যা তোমরা পরিধান করো এবং তোমরা দেখ উহার বুক চিরিয়া নৌযান চলাচল করে যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করতে পারো এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।’

কোরআন মাজিদে সুরা আম্বিয়ার ৩০নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা কুফরি করে তারা কি ভেবে দেখে না, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম এবং প্রাণবান সমস্ত কিছু সৃষ্টি করলাম পানি হতে। তবু কি তারা ইমান আনবে না।’

মাছ শিকার করা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে সুরা মায়েদার ৯৬নং আয়াতে এসেছে, ‘তোমাদের জন্য সাগরের শিকার ও তা খাওয়া হালাল করা হয়েছে-তোমাদের ও পর্যটকদের ভোগের জন্য…।’

Radiant Fish World ticket price, Radiant fish world online ticket, কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ভ্রমণ, কক্সবাজার বিনোদন পার্ক, কক্সবাজার থেকে ইনানী ভাড়া, একদিনে কক্সবাজার ভ্রমণ, সিলেট থেকে কক্সবাজার ভ্রমণ




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD