অনেকেই চিন্তায় থাকেন, ওমরাহ বা হজে যাওয়ার সময় কি কি সাথে নিতে হবে? কোনটা বাদ গেলো। আবার কোনটা বেশি নেয়া হলো কিনা। ইত্যাদি ইত্যাদি চিন্তায় থাকেন। এবার দেখা যাক আপনি যখন ওমরাহ বা হজে যাবেন কি কি সাথে নিবেন।
১. গলায় ঝুলিয়ে ব্যবহারযোগ্য ব্যাগ: যাতে পাসপোর্ট, টিকেট, বই ও প্রয়োজনীয় জিনিস রাখা যায়।
২. ভিসার কপি: কারণ, সৌদি সরকার ই-ভিসা চালু করেছে। এই ভিসা পাসপোর্টের সঙ্গে লাগানো থাকে না। কাগজে প্রিন্ট করে দেয়। ফলে যাত্রীদের এটি আলাদা সংরক্ষণ করতে হয়। আগে পাসপোর্টের সঙ্গে ভিসা লাগানো থাকত বলে আলাদা করে ভিসা সংরক্ষণের প্রয়োজন হতো না। বিমানের টিকিট, প্রয়োজনীয় রিয়াল বা ডলার। কিছু টাকা যা দিয়ে উমরাহ শেষে বিমানবন্দর থেকে বাসায় যাওয়া যায়। ছবি ও ঠিকানা সম্বলিত পাসপোর্টের প্রথম দুই পৃষ্ঠা, ভিসা ও টিকিটের ফটোকপি করে দুই তিন জায়গায় রাখুন। অনেক সময় প্রয়োজন হয়।
৩. ইহরামের কাপড়: একটু মোটা হলে সতর ঢাকতে সুবিধা হয়। টাওয়েল হতে হবে এমন নয়। তবে শীতকালে টাওয়েল ভালো হতে পারে। ইহরামের কাপড় সাদা ও সুতি হওয়া ভালো। আড়াই হাত বহরের আড়াই গজের পিস নিচে পরার জন্য, আর তিন গজের পিস গায়ের চাদরের মতো ব্যবহারের জন্য। একটি হাজীবেল্ট ইহরামের পরনের কাপড় আটকানোর জন্য ও কিছু রিয়াল রাখার জন্য খুবই উপকারী।
৪. মহিলারা বোরকা, সেলোয়ার, কামিজ ও ব্যবহারের কাপড় প্রয়োজন অনুযায়ী নেবেন। মার্জিত ঢিলে-ঢালা বোরকা ব্যবহার করবেন। সাদা বোরকা জরুরি নয় বরং তা তাড়াতাড়ি ময়লা হয়। যেহেতু হোটেলে থাকবেন তাই কাঁথা নেয়ার দরকার নেই। হোটেল থেকেই কম্বল সরবরাহ করা হয়।
৫. লুঙ্গি, গেঞ্জি, পায়জামা, পাঞ্জাবী, টুপি, গামছা ও রুমাল প্রয়োজন অনুযায়ী নিন।
৬. মেছওয়াক, পেস্ট ও ব্রাশ, গুড়া সাবান, গোসলের সাবান, শ্যাম্পু, ছোট ছাতা (অনেক সময় হোটেল থেকো সরবরাহ করা হয়)। আরামদায়ক ও মজবুত দু ফিতার সেন্ডেল, পারলে হালকা কেডস, জুতার ব্যাগ, কিছু সুতলি, কয়েক গজ নাইলনের রশি, স্কচ টেপ, কোনো কিছু লিখে রাখতে চাইলে কাগজ কলম ডায়েরি।
৭. প্লেট, গ্লাস, চামচ ও দস্তরখান নিতে পারেন। তবে চোপড়া নামের পলিথিন দস্তরখান হিসাবে এবং খাবার দেয়া ওয়ানটাইম বক্সেই খাবার গ্রহণ ও বোতলে জমজম সংরক্ষণ করেই খাওয়া যায়।
৮. তায়াম্মুমের জন্য মাটি নিতে পারেন। ভেসলিন সাথে রাখুন।
৯. রেজারসহ ব্রেড, নেইল কাটার, ছোট চাকু, ছোট আয়না ও কাচি, সেফটিপিন নিতে পারেন। অনুগ্রহপূর্বক লৌহজাত সকল দ্রব্যাদি মনে করে বিমানে বড় বুকিং লাগেজে দিবেন, সঙ্গে হাতব্যাগে রাখবেন না।
১০. একটি মজবুত ট্রলিব্যাগ ব্যাগ ও প্লেনের কেবিন বক্সে ঢোকার উপযোগী হাত ব্যাগ এবং একটি ছোট পিঠে ব্যবহার উপযোগী ব্যাগ নিন।
১১. মাথাব্যথা, ঠাণ্ডা, জ্বর, কাশি, বমি, পেটখারাপ, আমাশয় ও ডায়াবেটিকের ঔষধ। এ ছাড়া খাওয়ার স্যালাইন, এন্টিবায়োটিক, গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট, ইনসুলিন এবং প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ঔষধ সঙ্গে নিন। শুধুমাত্র আট-দশ ঘন্টায় প্রয়োজনীয় ঔষধ সাথে রেখে বাকিগুলো লাগেজে দিলেই ভালো।
১২. মোবাইল চার্জার, জামা আয়রনের ছোট একটি ইস্ত্রিও সঙ্গে নিতে পারেন। আমাদের হোটেল মান অনুযায়ী মাল্টিপ্লাগ লাগবে না আশা করি। অনেক হোটেলে লাগে। চা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে ছোট ইলেকট্রিক কেটলি নিতে পারেন। কারণ গরম পানিতে টি ব্যাগ চুবিয়ে এককাপ লাল চা ২ রিয়াল আর কয়েক ফোটা কৌটার দুধ মিশিয়ে দুধ চায়ের দাম ৩ রিয়াল। তবে কেটলি আয়রন এসবকিছু বুকিং লাগেজে দিবেন দয়া করে।
১৩. অল্প কিছু শুকনা খাবার ও পছন্দের কোনো বিস্কুট ইত্যাদি নিতে পারেন। না নিলেও সমস্যা নাই, লাগলে গিয়ে কিনতে পারবেন।
১৪. লাগেজের ওপরে নাম ঠিকানা ইংরেজিতে লিখুন। সাধারণত নাম ঠিকানা ও পাসপোর্ট নম্বর, দেশের ফোন নং লেখা হয়।
একনজরে উমরাহ সফরের প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র
ইহরামের কাপড়, লুঙ্গী, ট্রাউজার, সেন্ডেল, ছোট সাবান, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ, সানগ্লাস, ছুরি, ওলিভ অয়েল, কাচি, পমেড/ভেসলিন, নেইলকাটার, চিরুনি, রেজার, ব্রাশ ও টুথপেস্ট, রশি, স্যালাইন, স্কচ টেপ, তালা/মোবাইল/চার্জার, মেডিসিন (প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী), Napa, monocast, fexo, filmet, acufix, deflux, azith, savlon cream, nebanol.