শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন




সিম ব্যবহারে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান নবম

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫ ৮:০৩ pm
eSIM e-SIM Card subscriber identification module sim integrated circuit service-subscriber key IMSI সাবসক্রাইবার আইডেনটিটি মডিউল গ্রাহক পরিচিতি মডিউল সমন্বিত বর্তনী সার্ভিস সাবসক্রাইবার কী সিম ই-সিম ইসিম কার্ড
file pic

সাইবার নিরাপত্তা, বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আগামী নির্বাচনের আগে সিম ব্যবহারের অপব্যবহার ঠেকাতে ব্যক্তিগত মোবাইলের সিমকার্ড ব্যবহার কমিয়ে আনতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

সাইবার নিরাপত্তা, বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আগামী নির্বাচনের আগে সিম ব্যবহারের অপব্যবহার ঠেকাতে ব্যক্তিগত মোবাইলের সিমকার্ড ব্যবহার কমিয়ে আনতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি প্রতি ১০টির বেশি সিম ব্যবহার করতে পারবেন না কোনো গ্রাহক।

আজ থেকে অতিরিক্ত সিম বন্ধ করে দিতে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি। ফলে বন্ধ হতে পারে অন্তত ৫০ লাখের বেশি সিমকার্ড। আগামী বছর গ্রাহকপ্রতি নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা আরো কমিয়ে পাঁচটিতে নিয়ে পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে সিম ব্যবহারে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। যেখানে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো।

অক্টোবরে বিটিআরসির সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যমতে দেশে বর্তমানে মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের ৮ কোটি ৫৯ লাখ, রবি আজিয়াটার ৫ কোটি ৭৫ লাখ, বাংলালিংকের ৩ কোটি ৭৯ লাখ এবং টেলিটকের ৬৬ লাখ ৭০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সিম ব্যবহারকারী সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ৯৯ লাখ। ২০২৩-এর অক্টোবরে ১৮ কোটি ৯৬ লাখ, ২০২২ সালে এ সময়ে ১৮ কোটি ১৬ লাখ, ২০২১ সালে ১৮ কোটি ১৩ লাখ। গত ১০ বছরে সিম ব্যবহারকারী সংখ্যা বেড়েছে সাড়ে পাঁচ কোটি। ২০১৫ সালে দেশে সিম ব্যবহারকারী গ্রাহক ছিলেন ১৩ কোটি ৩৭ লাখ। যেটি পাঁচ বছরে অর্থাৎ ২০২০-এ বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ কোটিতে।

দেশে সিম ব্যবহারের অপব্যবহার ঠেকাতে সিম বন্ধ করে দেয়ার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। তার অংশ হিসেবে গত আগস্টে এক ব্যক্তির নামে ১০টির অধিক সিম থাকলে অতিরিক্ত সিম ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারের মাধ্যমে নিজ দায়িত্বে বাতিল (ডি-রেজিস্ট্রার) বা মালিকানা পরিবর্তনে নোটিস দেয় বিটিআরসি। সংস্থাটির একটি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে ২৬ কোটি ৬৩ লাখ নিবন্ধিত সিম রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৯ কোটি সিম সক্রিয় রয়েছে। এ সংখ্যা ২০ কোটির বেশি হবে। বাকি সিমগুলো নিবন্ধিত কিন্তু নিষ্ক্রিয়। গত আগস্ট পর্যন্ত সক্রিয় এক ব্যক্তির ১০টির বেশি সিম ছিল ৬৭ লাখ। গত তিন মাসে প্রায় ১৫ লাখ সিম গ্রাহক স্বেচ্ছায় বাতিল করেছেন। বাকি রয়েছে ৫০-৫৩ লাখ সিম। সেগুলো যেহেতু তিন মাসেও বাতিল করা হয়নি তাই সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের মাধ্যমে বাতিল করা হবে।

এ বিষয়ে বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘‌আমরা তিন মাস সময় দিয়েছিলাম ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে, কিন্তু যেসব গ্রাহক এটি করেন নাই তাদের সক্রিয় সিম ডি-রেজিস্ট্রেশন করা হবে। কালকে (আজ) কি পরিমাণ সিম ডি-রেজিস্ট্রেশন হয়নি সেটা দেখে বাতিল করা হবে।’

বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি, শিল্প ও আর্থিক ডাটা, সূচক, চার্ট ও পূর্বাভাস সরবরাহ করে সিইআইসি। তাদের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে সক্রিয় মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যায় বাংলাদেশের অবস্থান নবম। বাংলাদেশের ১৮ কোটি ৭৯ লাখ সিম ব্যবহার হচ্ছে। চীনে সর্বোচ্চ ১৬১ কোটি সিম ব্যবহার করে মানুষ। এছাড়া ভারতে ১৫১ কোটি, ইন্দোনেশিয়ায় ৩৮ কোটি ৫৫ লাখ, যুক্তরাষ্ট্রে ৩৮ কোটি, ব্রাজিলে ২৮ কোটি, রাশিয়ায় ২৫ কোটি ৬১ লাখ, পাকিস্তানে ১৯ কোটি ৬০ লাখ এবং নাইজেরিয়ায় ১৯ কোটি সিম ব্যবহার হয়। বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে জাপান (১৪ কোটি ৬৪ লাখ), জার্মানি (১০ কোটি ৭০ লাখ), যুক্তরাজ্য (৮ কোটি), দক্ষিণ কোরিয়া (পাঁচ কোটি), কানাডা (তিন কোটি) এবং অস্ট্রেলিয়ায় (২ কোটি ৫৭ লাখ) মোবাইল সিম ব্যবহার করে মানুষ।

জাতীয় নির্বাচন কমিশন অনুযায়ী দেশে এনআইডির সংখ্যা ১২ কোটি ৬৩ লাখ। সিম ব্যবহার করে এমন এনআইডির সংখ্যা হচ্ছে ৭ কোটি ৪৮ লাখ, যার বিপরীতে সিম রয়েছে ২৬ কোটির অধিক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রামীণ পর্যায়ে মানুষের অসচেতনতা, ১৮ বছর বয়সের নিচের মোবাইল ব্যবহারকারী ও দুষ্কৃতকারীরা অপব্যবহার করতে অনেক সিম নিয়ে থাকে। সেখানে অসচেতন মানুষের এনআইডি, বায়োমেট্রিক ব্যবহার করে। আবার অনেক সময় অপারেটররা বেশি লাভের আশায় এখানে-সেখানে নানা অফার দেখিয়ে সিম বিক্রি করে, যার কারণে সিমের সংখ্যা বেড়েছে।

এ বিষয়ে সিস্টেমস্ অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘‌বর্তমানে গ্রাহক প্রতি ১০টার ওপরে সিম ছিল ৬৭ লাখ। এরমধ্যে গেল ১৫ তারিখ পর্যন্ত ১৪ লাখ সিম স্বেচ্ছায় গ্রাহকরা ফেরত দিয়েছে। বাকি ৫৩ লাখের মধ্যে গত ১৫ দিনে আরো প্রায় ৩ লাখ সিম এসেছে। যার ফলে ৫০ লাখের সিমের নিবন্ধন বাতিল করা হবে। একটি অসাধু গোষ্ঠী সিমের অপব্যবহার করে অপকর্ম করছে। কম সচেতন মানুষকে টাকার বিনিময়ে তার বায়োমেট্রিক দিয়ে সিম নিচ্ছে। বেশী সিম হওয়ার কারণে দুষ্কৃতিকারী বা যারা অপব্যবহার করতে চান তারা সহজে কাজে লাগাচ্ছেন। এটাকে এখন কমিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চান সিমের সংখ্যা আরো কমিয়ে আনতে। কারণ সিমের ব্যবহার কমানো গেলে শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। তবে সামাজিক কিছু বাস্তবতার জন্য ১০টা থাকা উচিত বলে মনে করছি। গ্রামের অনেক নারী ও ১৮ বছরের নিচের অনেকে মোবাইল ব্যবহার করছে। হুট করে ১৫টা থেকে ১০টাতে কমিয়ে আনাও সম্ভব নয়। এটি আরো কমিয়ে ৫ টাতে নিয়ে আসতে অনুমতি চেয়ে মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দিয়েছি। অনুমতি দিলে জানুয়ারি থেকে ৫ টাতে নামিয়ে আনবো।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌সিম অপারেটদের কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট থাকেই। কারণ অপারেটর যত সিম বিক্রি করবে ততই তো ব্যবসা হবে, খুবই স্বাভাবিক। এটা একটা ভারসাম্যের মধ্যে আনতে হবে যে, অপব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। অপব্যবহার তো হচ্ছে কিন্তু সেটা তারা ঠেকাতে পারছে না। তারা যদি ঠেকাতে পারতো তাহলে সমস্যা হতো না। কিন্তু ব্যবসার দৃষ্টিকোণ বাদ দিয়ে নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া উচিত।’

এদিকে শুধুমাত্র সিমের সংখ্যা কমানোই কার্যকর উপায় নয় বলে মনে করেন রবি আজিয়াটা পিএলসির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম। তিনি বলেন, ‘‌অপরাধমূলক কর্মকান্ডের মূল কারণগুলোর প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে শুধুমাত্র সিমের সংখ্যা সীমিত করা অপরাধ কমানোর কার্যকর উপায় নয়। অতীতের তথ্য-প্রমাণ স্পষ্টভাবে দেখায় যে, একজন গ্রাহকের কাছে থাকা সিমের সংখ্যা ও অপরাধের হারের মধ্যে কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। সিমের সীমা কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে টেলিযোগাযোগ খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে সরকারের রাজস্ব হ্রাস পাবে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কারণ ছোট তিনটি অপারেটর মূলত গ্রাহকদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সিম সংযোগ প্রদান করে থাকে। এরফলে বাজারের নেতৃত্বদানকারী অপারেটর আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এ ধরনের নীতিগত অনিশ্চয়তা বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করবে, তথ্যপ্রযুক্তি ও অনলাইনভিত্তিক সেবার প্রসার মন্থর করবে, ডিজিটাল বৈষম্য বাড়াবে এবং বহু বৈধ গ্রাহকের জন্য মারাত্মক অসুবিধা সৃষ্টি করবে—বিশেষ করে যারা পেশাগত, ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবহারের জন্য একাধিক সিম ব্যবহার করেন। এ সিদ্ধান্ত দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও অনলাইন সুবিধার বিস্তারকে বহু বছর পিছিয়ে দেবে।’ বণিক বার্তা




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD