শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন




বিশ্ব শিশু ক্যান্সার দিবস আজ

বিশ্ব শিশু ক্যান্সার দিবস আজ: দশ বছরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ১ লাখ ৩০ হাজার শিশু

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১:৫৯ pm
heart হৃদরোগ বিশ্ব হার্ট দিবস চিকিৎসকরা হার্ট হৃৎপিণ্ড lung cancer Cancer Cancer Treatment Cancer disease body's cells grow uncontrollably spread parts of the body ক্যান্সার চিকিৎসা ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা ডাক্তার নার্স রোগ সংক্রমণব্যাধি হার্ট অ্যাটাক ব্রেস্ট ক্যান্সার গলার গলা ক্যান্সার ধূমপান পরিবেশ দূষণ খাবার দূষণ ক্যান্সার ক্যান্সার হাসপাতাল চিকিৎসক স্ক্রিনিং হেলথ কেয়ার lung cancer কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ Heart Disease lung cancer Cancer Cancer Treatment Cancer disease body's cells grow uncontrollably spread parts of the body ক্যান্সার চিকিৎসা ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা ডাক্তার নার্স রোগ সংক্রমণব্যাধি হার্ট অ্যাটাক ব্রেস্ট ক্যান্সার গলার গলা ক্যান্সার ধূমপান পরিবেশ দূষণ খাবার দূষণ ক্যান্সার ক্যান্সার হাসপাতাল চিকিৎসক স্ক্রিনিং হেলথ কেয়ার medicine ক্যানসার medicine-ক্যানসার
file pic

জনসংখ্যা অনুপাতে গত এক দশকে অন্তত এক লাখ ৩০ হাজার শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৩ হাজার নতুন শিশু ক্যান্সার রোগী শনাক্ত হচ্ছে বলে দ্য ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব পেডিয়াট্রিক অনকোলজির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসা পেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিরাময় সম্ভব হলেও অবকাঠামো ও চিকিৎসায় ব্যয়ের চাপ বড় বাধা।

এমন পরিস্থিতিতে আজ রোববার বাংলাদেশে ‘বিশ্ব শিশু ক্যান্সার’ দিবস পালন করা হচ্ছে। দিবসটির প্রতিপাদ্য– ‘শিশু ক্যান্সারের প্রভাব তুলে ধরা: চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে পরিবর্তন’। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি সভার আয়োজন করা হয়েছে।

চিকিৎসা কেন্দ্র আছে, সেবা সীমিত
দেশের ১৪টি সরকারি হাসপাতালসহ কয়েকটি স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিশু ক্যান্সারের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম ছাড়া অধিকাংশ জেলায় উন্নত পরীক্ষা– বিশেষ করে জেনেটিক অ্যানালাইসিসের সুবিধা সীমিত।

পরিবারের লড়াই
রাজধানীর উত্তরার একটি পরিবারের জন্য গত দুই বছর যেন এক অন্তহীন দুঃস্বপ্ন। সাত বছরের আব্দুল্লাহ মাহাদী এখন রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) চিকিৎসাধীন। দুই বছর আগে হঠাৎ জ্বর আসে তার। সঙ্গে চোখের পাপড়ি ফুলে ওঠে। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ অসুস্থতা মনে হলেও স্থানীয় একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরা পড়ে ব্লাড ক্যান্সার। এরপর শুরু হয় লম্বা চিকিৎসা-সংগ্রাম। এক বছর ধরে তার চিকিৎসা চলে ঢাকা শিশু হাসপাতালে।

মাহাদীর মা মৌসুমী আক্তার বলেন, ‘প্রথমে বুঝতেই পারিনি এত বড় রোগ। একের পর এক পরীক্ষা, কেমোথেরাপি– সব মিলিয়ে জীবনটাই ওলটপালট হয়ে গেছে। চিকিৎসার খরচ সামাল দিতে গিয়ে পরিবারটি ইতোমধ্যে দুবার বিদেশ যেতে বাধ্য হয়েছে। দুই বছরে ছেলের চিকিৎসায় খরচ হয়েছে ১০ লাখ টাকার বেশি। বর্তমানে প্রতি ১৫ দিন পর পর মাহাদীকে একটি বিশেষ ইনজেকশন দিতে হয়, যার প্রতিটির দাম ৪৫ হাজার টাকা। মৌসুমী আক্তার বলেন, ধারদেনা করে চিকিৎসা চালাচ্ছি। এখন আর কোথা থেকে টাকা জোগাড় করব– বুঝতে পারছি না। ছেলেকে বাঁচাতে যা দরকার, তাই করছি।
শিশু মাহাদীর মতো অনেক পরিবারই ক্যান্সারের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যয়ের ভার বইতে গিয়ে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে সরকারি ও সামাজিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে এই ছোট্ট শিশুর লড়াই।

প্রশিক্ষিত শিশু সার্জনের অভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠিন টিউমার অপসারণে প্রশিক্ষিত শিশু সার্জনের অভাব রয়েছে। বর্তমানে পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি ও অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশে প্রায় ৬০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সদস্য আছেন।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. এ কে এম আমিরুল মোরশেদ খসরু বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশের বেশি শিশু ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য। তবে অধিকাংশ রোগী শেষ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। বড় সংকট সারাদেশে শিশু ক্যান্সারের রোগী বাড়লেও চিকিৎসা ব্যবস্থা ঢাকা। ২০০৮ সালে ৮ বিভাগীয় হাসপাতালে এই ক্যান্সার চিকিৎসা শুরু হয়। অন্যদের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণের কারণে ক্যান্সার হলেও শিশুদের ক্যান্সার হচ্ছে জন্মগত কারণে। মা বাবা থেকে এই ক্যান্সার হতে পারে।

যেসব ক্যান্সার বেশি দেখা যাচ্ছে
বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় রক্তে ক্যান্সার, হজকিন লিম্ফগ্রন্থির ক্যান্সার, নন-হজকিন লিম্ফগ্রন্থির ক্যান্সার, উইলমস টিউমার (কিডনির ক্যান্সার), মস্তিষ্কের টিউমার, স্নায়ুকোষের ক্যান্সার (নিউরোব্লাস্টোমা) এবং হাড়ের ক্যান্সার (অস্টিওসারকোমা)। মৃত্যুহার তুলনামূলক বেশি তীব্র রক্তক্যান্সার, স্নায়ুকোষের ক্যান্সার, হাড়ের ক্যান্সার ও মস্তিষ্কের টিউমারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ ক্যান্সার রোগী রয়েছে। প্রতিবছর দেড় থেকে দুই লাখ নতুন রোগী শনাক্ত হয়। অথচ জনসংখ্যা অনুপাতে প্রয়োজন প্রায় ১৮০টি রেডিওথেরাপি মেশিন; সারাদেশে আছে মাত্র ২০টি। ফলে একজন রোগীকে রেডিওথেরাপির জন্য অপেক্ষা করতে হয় তিন থেকে চার মাস।

চিকিৎসা ব্যয় বড় বাধা
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা অনুযায়ী, ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যয় সর্বনিম্ন ৮১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। একজন রোগীর গড় ব্যয় প্রায় পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার ৮৪০ টাকা। ব্যয়ভার বহন করতে না পেরে প্রায় ৪০ শতাংশ রোগী মাঝপথে চিকিৎসা ছেড়ে দেন। অধিকাংশ ওষুধ আমদানিনির্ভর হওয়ায় দাম ও সরবরাহ অনিশ্চিত।

জাতীয় নিবন্ধন নেই
দেশে এখনও জাতীয় ক্যান্সার নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হয়নি। ফলে কোন এলাকায় কী ধরনের ক্যান্সার বেশি, মৃত্যুহার কত– এসব নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যকর নীতিনির্ধারণ ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচির জন্য জাতীয় নিবন্ধন জরুরি।
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, ক্যান্সার চিকিৎসায় শুরু থেকেই প্যালিয়েটিভ কেয়ার প্রয়োজন। কিন্তু দেশে শতকরা এক ভাগেরও কম শিশু এ সেবা পায়। প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন মাত্র ১২ জনের মতো। প্রয়োজনীয় ওষুধ, বিশেষ করে মরফিন সিরাপেরও ঘাটতি রয়েছে। চিকিৎসা, অবকাঠামো, বিশেষজ্ঞ সংকট ও ব্যয়ের ভার— সব মিলিয়ে শিশু ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই এখনও কঠিন। সেবা বিকেন্দ্রীকরণ, জাতীয় নিবন্ধন চালু এবং পর্যাপ্ত রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপন করা গেলে শিশু ক্যান্সার চিকিৎসায় দৃশ্যমান অগ্রগতি সম্ভব। ক্যান্সার হাসপাতালে সেবা বাড়াতে এরই মধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD