জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করার পরপরই বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। এ সময় তাদের হাতে ‘জুলাইয়ের গাদ্দার’ লেখা সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি যখন তার নির্ধারিত ভাষণ দিতে ডায়াসের দিকে এগোচ্ছিলেন, তখনই এই ঘটনা ঘটে। পরে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউটও করেন।
বিকেল সাড়ে ৩টার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। এর প্রতিবাদে জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। তাদের হাতে প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’ সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
এ অবস্থার মধ্যে সংসদের অধিবেশনে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি স্পিকারের পাশে বসেন। সংসদে হইচই করতে থাকেন বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা। স্পিকার এ সময় সবাইকে শান্ত থাকতে আহ্বান জানান বারবার। পরে বক্তব্য শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার বক্তব্য চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়াতে দেখা যায়। পরে একপর্যায়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ওয়াক আউট করেন।
এর আগে নামাজের বিরতির পর বেলা দেড়টার পরেই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। স্পিকার হিসেবে রাখা প্রথম বক্তব্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন “সবার আগে বাংলাদেশ, এই হোক আমাদের মূলমন্ত্র।
তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এ সময় । এছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলনের কথাও উঠে আসে তার বক্তব্যে।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
ঘোষিত তালিকায় রয়েছেন ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির এমপি মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা-২ আসনে বিএনপির এমপি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নরসিংদী-১ আসনে বিএনপির এমপি আব্দুল মইন খান, কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির এমপি মোহাম্মদ মনিরুল হক চৌধুরী এবং রংপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর এমপি এটিএম আজহারুল ইসলাম।