মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন




জ্বালানি: যেসব কারণে পেট্রোল, অকটেন সংকট

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:৫৬ pm
CNG stations CNG stationFiling stations Filing station ফিলিং স্টেশন Petrol Octane Pump Price পেট্রোল অকটেন পাম্প Fuel energy জ্বালানি তেল Fuel Oil
file pic

ঈদের ছুটির পর রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে কোথাও দীর্ঘ লাইন, কোথাও ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড। মোটরসাইকেল চালক থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক, সবার প্রশ্ন একটাই– দেশে পর্যাপ্ত উৎপাদন হলে পেট্রোল-অকটেনের সংকট কেন?

খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজার কারসাজি, আতঙ্কে অতিরিক্ত ক্রয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা পেট্রোল ও অকটেন সংকটের মূল কারণ। তারা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হলে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, কঠোর নজরদারি এবং ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা– এই তিনটি দিকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। জ্বালানি খাতের তথ্য বলছে, পেট্রোলের বর্তমান চাহিদার পুরোটাই দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হয়।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে পেট্রোলের মোট চাহিদা ছিল চার লাখ ৬২ হাজার ৪৭৫ টন, যার শতভাগই দেশে উৎপাদন হয়েছে। অপরিশোধিত তেল থেকে এর ১৬ শতাংশ উৎপাদন করে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। বাকি ৮৪ শতাংশ বেসরকারি রিফাইনারি থেকে উৎপাদিত হয়।

অকটেনের ক্ষেত্রেও বড় অংশ দেশে উৎপাদিত হয় মূলত কনডেনসেট থেকে। প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের সময় পাওয়া এই উপজাত তরল পদার্থ পরিশোধন করে অকটেন তৈরি করা হয়। গত অর্থবছরে প্রায় পাঁচ লাখ ৯৭ হাজার টন কনডেনসেট সংগ্রহ ও পরিশোধন করা হয়েছে। তবে অকটেনের চাহিদার পুরোটা দেশীয় উৎপাদন থেকে পূরণ হয় না। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চার লাখ ১৫ হাজার টন চাহিদার বিপরীতে দুই লাখ ৩৪ হাজার ৮৩ টন অকটেন আমদানি করেছে বিপিসি।

গত পাঁচ বছরে পেট্রোল ও অকটেনের ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে পেট্রোল বিক্রি হয়েছিল তিন লাখ ৭৮ হাজার টন, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৬২ হাজার টনে। একই সময়ে অকটেনের ব্যবহার তিন লাখ টন থেকে বেড়ে চার লাখ ১৫ হাজার টনে পৌঁছেছে।

পাম্প মালিকদের অভিযোগ, সমস্যার বড় অংশ সরবরাহ চেইনে। পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম বলেন, পেট্রোল-অকটেন দেশেই উৎপাদিত। তাই এমন সংকট হওয়ার কথা নয়। তাঁর দাবি, বেসরকারি কনডেনসেট রিফাইনারি ইউনিটগুলো দাম বাড়ার আশায় সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সাউদার্ন পাম্পে বুধবার দুপুরে দেখা যায়, অকটেন নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ৩০-৪০ জন চালক। তাদের একজন রাইডার শামীম বলেন, তেলের জন্য এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরতে হচ্ছে। পাম্পটির এক কর্মকর্তা জানান, গত বছর এই সময়ে তারা প্রতিদিন প্রায় ১৬ হাজার লিটার অকটেন বিক্রি করতেন। কিন্তু এখন সরবরাহ অনিয়মিত। মঙ্গলবার পেয়েছেন মাত্র চার হাজার লিটার এবং বুধবার ৯ হাজার লিটার। তাই সবাইকে দিতে পারছেন না।

বিপিসির এক কর্মকর্তা বলেন, মজুত মোটামুটি রয়েছে; কিন্তু আগামী দিনগুলোর কথাও ভাবতে হবে। হুট করে কোনো চালান আটকে গেলে যেন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়, তাও দেখতে হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেইন বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। তাঁর মতে, উৎপাদনের উৎস ঠিক আছে, কিন্তু সরবরাহে সমস্যা হলে সেটি বাজার কারসাজির ইঙ্গিত দেয়। সরকারকে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে।

সরকার বলছে, সংকটকে আরও তীব্র করছে আতঙ্কে কেনাকাটা। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, যে পরিমাণ তেল কয়েক দিনে শেষ হওয়ার কথা, তা কয়েক ঘণ্টায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ছে। জ্বালানির দাম বাড়ছে না– এটি স্পষ্ট। তাই কেউ মজুত করে লাভবান হতে পারবে না।

সংকট মোকাবিলায় বিশেষ সভা
যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গতকাল সচিবালয়ে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, আগে ১৫ দিনের জ্বালানি তেলের মজুত থাকত। এখনও যথেষ্ট রয়েছে। কিন্তু আতঙ্কে মানুষ বেশি তেল কিনছে। মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরে এলে কয়েক দিন পর এ অবস্থা কেটে যাবে। জ্বালানি তেল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সরকারের সক্ষমতা ও কার্যক্রম যাচাই করেছেন বলেও জানান সচিব।

সূত্র জানিয়েছে, সভায় জ্বালানি সাশ্রয় এবং অতিরিক্ত কেনা বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টিতে বিশেষ প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মজুতের চিত্র
দেশে অকটেনের মজুত সক্ষমতা ৫৩ হাজার ৩৬১ টন। মার্চ মাসে গড় চাহিদা ছিল ৩৬ হাজার ৭০০ টন।

গত মঙ্গলবারের তথ্য বলছে, অকটেন মজুত আছে ৯ হাজার ৮২৯ টন। এখন দৈনিক এক হাজার ১৯৩ টন সরবরাহ করা হয়।
দেশে পেট্রোলের মজুত সক্ষমতা ৩৭ হাজার ১৩ টন। চলতি মার্চ মাসে গড় চাহিদা ছিল ৪২ হাজার ১০০ টন। বর্তমানে পেট্রোলের মজুত রয়েছে ১৬ হাজার ২২৫ টন। দৈনিক গড়ে এক হাজার ৪৯৬ টন সরবরাহ করা হচ্ছে। সমকাল




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD