দেশের সব বিমানবন্দরে ‘রেড অ্যালার্ট’ বা উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা জারির মাত্র এক দিন পরই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অতি সুরক্ষিত অ্যাপ্রোন এলাকায় ঢুকে পড়েছেন এক যুবক। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের একটি গেট দিয়ে কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই তিনি সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করেন। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে আটক করতে সক্ষম হন।
আটক যুবকের নাম জান্নাতুল ফেরদৌস (২২)। তার বাড়ি মেহেরপুর জেলায়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটকের পর তাকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ভোরে জান্নাতুল ফেরদৌস অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের একটি গেট ব্যবহার করে ভেতরে প্রবেশ করেন। সাধারণত বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোন এলাকা (যেখানে উড়োজাহাজ পার্ক করা থাকে এবং যাত্রী ওঠানামা করানো হয়) অত্যন্ত সুরক্ষিত থাকে এবং সেখানে প্রবেশে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা তল্লাশি পার হতে হয়। তবে এই যুবক কোনো বাধা ছাড়াই সব কটি নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে সরাসরি রানওয়ের পাশের অ্যাপ্রোন এলাকায় পৌঁছে যান।
আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক জানান, তিনি এক আত্মীয়কে রিসিভ করতে বিমানবন্দরে এসেছিলেন। ফ্লাইট বিলম্ব হওয়ায় কৌতূহলবশত উড়োজাহাজ কাছ থেকে দেখার উদ্দেশ্যে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘটনার পর তাকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, সোমবার দেশের সব বিমানবন্দরে উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোয় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মূলত দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার গোয়েন্দা সতর্কতার পর রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করার ঘোষণা দেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
বেবিচক জানায়, বিমানবন্দরে কর্মরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব ইউনিটকে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের ভেতরে ও বাইরে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আগমন (অ্যারাইভাল) ও প্রস্থান (ডিপারচার) উভয় ক্ষেত্রেই যাত্রী ও মালামালের তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সম্প্রতি গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনশিয়াল) স্বাক্ষরিত একটি দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে ২৩ এপ্রিল এ সতর্কতা জারি করা হয়।