রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তি আরও বিস্তৃত করতে সারাদেশে যুব বিভাগকে সক্রিয় করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তরুণদের সংগঠিত করা, সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা ও দেশের কল্যাণে কাজ করাসহ ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
জামায়াতের যুব বিভাগ সাংগঠনিকভাবে থাকলেও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইউনিট ছাড়া ধীরগতির কার্যক্রম ছিল। এছাড়া রাজনৈতিক মাঠে তৎপরতা বাড়াতে দলটির যুব বিভাগকে শক্তিশালী করা হবে। সাংগঠনিক কাঠামোতে রেখে দৃশ্যমান কাজ করবে দলের যুব বিভাগ।
গত ১৯ মে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের যুব বিভাগের কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। মহানগর উত্তর যুব বিভাগের একটি ইউনিট দায়িত্বশীল সম্মেলনে শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াসিন আরাফাতকে সভাপতি ও মোস্তফা ফয়সাল পারভেজকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মো. সেলিম উদ্দিন।
জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বলছেন, দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপির যুবদল, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুবশক্তি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুবলীগের মতো যুব সংগঠন রয়েছে। এসব সংগঠন রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, মাঠ পর্যায়ে শক্তি প্রদর্শন এবং তরুণদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কিন্তু জামায়াতে ইসলামীতে ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম শেষে সদস্যরা সরাসরি মূল দল জামায়াতে যুক্ত হন। এক্ষেত্রে যুব বিভাগের প্রয়োজনীয়তা ও রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধিতে এই বিভাগকে সারাদেশে সক্রিয় করার জন্য অভ্যন্তরীণভাবে দাবি জানিয়ে আসছেন নেতাকর্মীরা।
ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর আগের একজন ‘সাথী’ বলেন, যুব বিভাগ তৈরি হলে রাজনৈতিক শক্তি বাড়বে। এই বিভাগকে যদি স্বতন্ত্র যুব উইং বানানো যায়, তাহলে ছাত্রশিবিরের সাবেক অনেক সদস্য এখানে যোগ দেবেন। এক্ষেত্রে এখানে সিনিয়ররা দায়িত্বে না থেকে সাদিক কায়েম কিংবা ছাত্রসংসদ থেকে উঠে আসা নেতাদের দায়িত্ব দিতে হবে।
জামায়াত ইসলামীর নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের ভেতরে যুব বিভাগকে সারাদেশে সক্রিয় ও রাজনীতির মাঠে জোরালোভাবে গঠনের দাবি ছিল। বিশেষ করে তরুণদের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রাখা, সাংগঠনিক দক্ষতা বাড়ানো এবং সমাজভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যুব বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ।
জামায়াতে ইসলামীর নোয়াখালী জেলার আমির ইসহাক খন্দকার বলেন, নির্বাচনের সময় থেকে যুব বিভাগের কার্যক্রম আগের তুলনায় আরও সক্রিয় হয়েছে। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। দেশের প্রায় সব জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে যুব বিভাগের কমিটি রয়েছে। কোথাও পূর্ণাঙ্গ কমিটি, কোথাও আংশিক কাঠামো রয়েছে। নোয়াখালী জেলা যুব বিভাগের কমিটি মজবুত করা হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী প্রচার সম্পাদক শাখাওয়াত হোসাইন বলেন, যুব বিভাগের কমিটি আগে থেকে থাকলেও কার্যক্রম খুব বেশি দৃশ্যমান ছিল না। এখন থেকে কার্যক্রমগুলো আরও প্রকাশ্যভাবে পরিচালনা করা হবে এবং প্রচার-প্রচারণাও বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, আগে সাংগঠনিক কাঠামো বজায় রেখেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হতো। ইউনিট ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নানা কর্মসূচিও হয়েছে। তবে সেগুলো ব্যানার বা প্রকাশ্য প্রচারণার মাধ্যমে খুব বেশি সামনে আসেনি। যদিও প্রতিটি জায়গায় যুব বিভাগের কমিটি ছিল এবং সেই কমিটির আওতায় কাজও হয়েছে।
শাখাওয়াত হোসাইন বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের সময় মিছিল-মিটিংয়ে শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা ও তথ্যসংক্রান্ত দায়িত্বে যুব বিভাগের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এসব কার্যক্রমে যুব বিভাগ সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে।
জামায়াতের যুব বিভাগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত বলেন, যুব বিভাগের কমিটি আমাদের সাংগঠনিক কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করে আসছে এবং সেই কার্যক্রম চলমান। জনগণের প্রত্যাশা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে জামায়াতের সব বিভাগের কাজ ও তৎপরতা বেড়েছে। এটি বিএনপির যুবদল বা আওয়ামী লীগের যুবলীগের মতো আলাদা অঙ্গ-সংগঠন নয়। বরং জামায়াতের অভ্যন্তরীণ একটি বিভাগ হিসেবে কাজ করে।
তিনি বলেন, একটি ওয়ার্ডে যুবকদের নিয়ে ইউনিট গঠন করা হয়। কোথাও তিন-চারটি ইউনিট হলে সেগুলো নিয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক যুব কাঠামো তৈরি হয়। সাধারণত যুবকদের মধ্যে সাংগঠনিক ও দাওয়াহভিত্তিক কাজ করা হয়। তবে দেশের বিভিন্ন সংকটে মানুষের জন্য যুব বিভাগ কাজ করে। যুবকদের মধ্যে দেশপ্রেম সৃষ্টি, দেশের কল্যাণ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করবে যুব বিভাগ।
শিবির না করলেও যে কেউ যুব বিভাগে কাজ করতে পারবে বলে জানান জামায়াতের যুব বিভাগের এই নেতা।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় যুব বিভাগের সভাপতি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া বিভাগের এক অনুষ্ঠানে বলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া বিভাগের কার্যক্রম দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে।
যুব সমাজের সর্বোচ্চ শক্তি ও সামর্থ্যকে মানবিক, সামাজিক ও কল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। জাতীয় বিভিন্ন দিবস ও সামাজিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুবকদের নিয়ে বহুমুখী কর্মসূচি নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও রাহাজানির বিরুদ্ধে যুবকদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সুসংগঠিত ও আদর্শবান যুবসমাজ গড়ে উঠলে দেশ ও জাতির জন্য যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হবে। জাগো নিউজ