বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন




ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় গভর্নরের কাছে আমানতকারীদের স্মারকলিপি

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:২৮ pm
Islami Bank Bangladesh Limited IBBL ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড আইবিবিএল Islami bank
file pic

ইসলামী ব্যাংককে রক্ষা এবং বিতর্কিত কোনো ব্যবসায়ী গোষ্ঠী যাতে পুনরায় ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে— এই দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন আমানতকারীরা।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ’-এর ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। পরে তারা গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেছে। প্রবাসী আয় সংগ্রহ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অর্থায়ন, শিল্প-বাণিজ্যে বিনিয়োগ এবং গ্রামীণ উন্নয়নে ব্যাংকটির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।

তবে অভিযোগ করা হয়, অতীতে রাষ্ট্রীয় সহায়তায় এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং প্রক্সি পরিচালকের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদে প্রভাব বিস্তার করে। এর ফলে ঋণ জালিয়াতি, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে বিশেষ সুবিধা প্রদান, সুশাসনের অবক্ষয় এবং দুর্বল তদারকির কারণে ব্যাংকটি সংকটে পড়ে। বিভিন্ন প্রতিবেদন ও অডিটের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, গোষ্ঠীটি নামে-বেনামে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছে, যা ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা ও গ্রাহক আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এতে আরও বলা হয়, গোষ্ঠীটির প্রভাবের কারণে ঋণনীতি ও সম্পদ ব্যবহারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। ঋণ কেন্দ্রীভূত হওয়া, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে।

২০২৪ সালের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ব্যাংকটির পুনরুদ্ধারের আশা তৈরি হলেও, বর্তমানে আবারও ওই গোষ্ঠী বা তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। এতে সতর্ক করে বলা হয়, এমনটি ঘটলে শুধু একটি ব্যাংক নয়, দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থার সংকট দেখা দিতে পারে।

স্মারকলিপিতে গভর্নরের কাছে কয়েকটি দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে এস আলম গ্রুপ ও তাদের সহযোগীদের পুনঃপ্রবেশ বন্ধ করা, পাচার ও আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া এবং বিতর্কিত আইনি সুবিধা বাতিল করা।

আমানতকারীরা বলেন, একটি ব্যাংকের মূলভিত্তি হলো গ্রাহকের আস্থা। অতীতে সংকট সৃষ্টিকারীদের পুনরাগমনের আশঙ্কা তৈরি হলে আমানত উত্তোলন বাড়বে এবং বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্মারকলিপিতে গভর্নরের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি দেশের কোটি গ্রাহক ও অর্থনীতির আস্থার প্রতীক। তাই ব্যাংকটিকে অপশক্তির হাত থেকে রক্ষা করে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও পেশাদার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুনরায় শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD