আবেদন জমা পড়েছে তিনশর বেশি। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচের পদে আবেদনের শেষ তারিখ ৩০ এপ্রিল। ডেডলাইন পর্যন্ত অপেক্ষা না করেই বাফুফের কোচ নিয়োগের বিশেষ কমিটি ২২ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেছে। এই তালিকা চলে যাবে বাফুফে জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে। সভাপতি তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বে সেই কমিটি কোচ নিয়োগের আগে ইংল্যান্ড প্রবাসী ফুটবলার হামজা চৌধুরীর মতামত চাইতে পারে বলে জানান বাফুফে টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান হিলটন।
সাধারণত জাতীয় দলের কোচ নিয়োগের ব্যাপারটি পুরোপুরি থাকে দেশের ফুটবল ফেডারেশনের নিয়ন্ত্রণে। তবে কোচ নিয়োগের আগে জাতীয় দলের অধিনায়ক বা সিনিয়র খেলোয়াড়দের মতামত চাওয়া হয়। যতদূর জানা গেছে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোনো ফুটবলারের মতামত নেয়নি বাফুফে। অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়াও মঙ্গলবার সমকালের কাছে এমনটা জানিয়েছেন, ‘না এখনও কোচ নিয়োগ নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেনি। শুনেছি তারা ২০-৩০ জনের একটা শর্টলিস্ট করবে। আর কোচের ব্যাপারে যদি আমার মতামত জানতে চাওয়া হয়, তাহলে অবশ্যই আমি দিব। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ওপর।’
জাতীয় দলের কোচের ব্যাপারটি দেখছেন টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান হিলটন। তাঁর মতে কোচ নিয়োগে ফুটবলারদের মতামত মুখ্য নয়। এটা সম্পূর্ণ ফুটবল ফেডারেশনের ওপর নির্ভর করে। চাইলে হামজার মতামত নেওয়া হতে পারে বলে জানান তিনি, ‘জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান আছেন তিনি নিশ্চয়ই কোচের ব্যাপারে অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বলবে কেন? যদি হামজা চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলতে পারে আনঅফিসিয়ালি সেটা হতে পারে। কোচ নিয়োগের পুরোটাই হলো আমাদের গোপনীয় বিষয়।’
বাংলাদেশের কোচ হওয়ার জন্য ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা আর স্পেনের মতো দেশ থেকে আবেদন করা হয়েছে। ২২ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন ব্রাজিলের অলিম্পিকজয়ী কোচ রোজেরিও মাইকেল। এ ছাড়া আর্জেন্টিনার দুজন কোচও আছেন তালিকায়। বাংলাদেশের কোচ জুলফিকার মাহমুদ মিন্টুও আছেন বিবেচনায়। সবার কাছ থেকেই বেতন ও সম্ভাব্য যোগদানের সময় জানতে তথ্য সংগ্রহ করছে বাফুফে। এরপর এই তালিকা আরও সংক্ষিপ্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্তে যাবে সংস্থাটি। তবে কোচের বেতন চাহিদা জানতে ইতোমধ্যে ইমেইল করেছে বাফুফে।
পাশাপাশি তারা কবে থেকে দায়িত্ব নিতে পারবেন, সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে বলে জানান হিলটন, ‘আমরা কোচদের কাছ থেকে বেতন জানতে চেয়েছি, কার কী চাহিদা এবং কবে থেকে কাজ করতে পারবেন। এসব তথ্য পাওয়ার পর তালিকা আরও সংক্ষিপ্ত করা হবে। এরই মধ্যে যদি আরও ভালো বায়োডাটা আসে, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া হবে। আমাদের একটি নির্দিষ্ট বাজেট রয়েছে। কোনো কোচ যদি লাখ ডলার বেতন দাবি করেন, তা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা ২৫-৩০ হাজার ডলারের মধ্যে থাকতে চাই। এখন দেখা যাক কী হয়।’
হাইপ্রোফাইল কোচ নিয়োগের আগে বাফুফেকে আর্থিক বিষয়ও মাথায় রাখতে হচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান হিলটন। ফিফার অনুদানের পাশাপাশি স্পন্সরও খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘ফিফার অনুদান তো আছেই। আমাদের সভাপতি স্পন্সরও খুঁজছেন। আশা করি, দেশের ফুটবলের জন্য ভালো মানের কোচ পাওয়া যাবে।’ সমকাল