শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ন




যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সরকার কি বাতিল করবে?

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬ ১১:১৪ am
USA-BD ওয়াশিংটন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকা North America United States United State usa
file pic

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তার ঠিক তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে।

চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জ্বালানি, ১৪টি বোয়িং বিমান কেনা থেকে শুরু করে গম, সয়াবিনসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাধ্যতামূলকভাবে আমদানি করতে হবে। এতে করে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তুলনামূলক কম দামে ও কম সময়ে পণ্য আমদানি থেকে বঞ্চিত হবে বাংলাদেশ।

চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশ তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তিতে যেতে পারবে না, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। এখানে চীন-রাশিয়াকে লক্ষ্য করে এমন শর্ত আনা হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।

মূলত এই বিষয়গুলো নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। যে কারণে এই চুক্তি বাতিলের দাবি আবারও সামনে এসেছে।

কিছু রাজনৈতিক দল এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে বলে অভিযোগ করছেন। তারা এটি বাতিলের দাবিতে কর্মসূচিও নিয়েছে। তারা অভিযোগ করছেন, ‘অত্যন্ত গোপনীয়তার’ সঙ্গে চুক্তিটি করা হয়েছে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যখন চুক্তির বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়েছে, তখনই কেবল বিষয়গুলো জানা গেছে। যদিও বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সংশ্লিষ্টরা গোপনীয়তার অভিযোগ অস্বীকার করছে।

চুক্তি বিরোধীরা মনে করেন, সরকার চাইলে জাতীয় সংসদে আলোচনা-পর্যালোচনা করে চুক্তির ব্যাপারে অবস্থান নিতে পারে। এটি সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আলোচনা এবং শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষর করা- এই পুরো প্রক্রিয়ায় নেতৃত্বে ছিলেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি বর্তমান সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন।

বিশ্লেষকদের পাশাপাশি রাজনীতিবিদদের কেউ কেউ বলছেন, খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার পেছনেই একটি বার্তা রয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন গত ৪ মার্চ। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ আমাদের প্রধান দুটি দলের প্রধানের সঙ্গে নির্বাচনের আগেই কথা বলেছেন এবং তারাও এতে সম্মতি দিয়েছিলেন।

তবে জামায়াত ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ওই চুক্তি নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

বিএনপি সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সরকারের সম্পর্কের উন্নতি এবং ভূ-রাজনীতি বিবেচনায় সরকার চুক্তিটি বাতিল করবে না।

গত বুধবার জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

চুক্তিতে ষাট দিনের একটা প্রবেশনারি সময়ের কথা বলা আছে। এই সময়ের মধ্যে তা বাতিল করা যায়।

এ ব্যাপারে নাগরিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনকরা অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সংসদে আলোচনা করে চুক্তি ঘিরে বিতর্ক বা প্রশ্নগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া সরকারের জন্য সহজ।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, সরকারের কেউ কেউ মনে করেন, চুক্তিটি নিয়ে তাদের সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের যারা ওই চুক্তি সই করার প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন তাদের ন্যাশনাল ইমারজেন্সি ঘোষণা করে দেশে দেশে বাড়তি শুল্ক আরোপ করছে, তখন সেই শুল্ক কমিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের স্বার্থ দেখার বিষয় ছিল।

সূত্র: বিবিসি




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD