বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৭:২১ অপরাহ্ন




কুরবানি সামনে রেখে তৎপর সিন্ডিকেট

কুরবানি সামনে রেখে তৎপর সিন্ডিকেট: চোরাপথে আসছে ভারতীয় মসলা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬ ১০:২৬ am
onion ginger garlic cardamom cinnamon clove cumin turmeric coriander বন্দর আমদানি বাণিজ্য import trade trade Export Promotion Bureau EPB Export Market বাণিজ্য রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ইপিবি export shop food ভোজ্যতেল চিনি আটা vegetable Vegetables mudi dokan bazar মুদি বাজার নিত্য পণ্য দোকান mudi dokan bazar মুদি বাজার নিত্য পণ্য দোকান romzan ডলার রোজা রমজান পণ্য ভোগ্যপণ্যের আমদানি এলসি ভোগ্যপণ্য খালাস স্থলবন্দর বাজার Spices spice seed fruit root bark plant substance primarily flavoring coloring food distinguished from herbs leaves flowers stems plants garnish গরম মসলা রেসিপি পাউডার দারুচিনি কালো মরিচ Spice খাদ্যের স্বাদ সুগন্ধ উদ্ভিদ উদ্ভিদের সবজি মাছ মাংস রান্নায় পেঁয়াজ আদা রসুন হলুদ মরিচ পিয়াজ জিরা ধনে মৌরি হিং পোস্তদানা গোল মরিচ মরিচ মসলা
file pic

কুরবানি সামনে রেখে ভারত থেকে চোরাপথে দেদার দেশে ঢুকছে জিরা, এলাচ, লবঙ্গ, শুকনা আদাসহ বিভিন্ন ধরনের মসলাজাতীয় পণ্য। চোরাকারবারিরা নানা কৌশলে এ পণ্য ঢোকাচ্ছে। পরে এগুলো চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হচ্ছে। এভাবে পণ্য আসায় একদিকে সরকার যেমন বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে; অন্যদিকে সরকারকে শুল্ক দিয়ে পণ্য আনা আমদানিকারকরা লোকসানের শিকার হচ্ছেন। প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্তরে চিঠি দিলেও চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, খাতুনগঞ্জ ও ঢাকার মৌলভীবাজারের চিহ্নিত কয়েকটি সিন্ডিকেট চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, মসলা ব্যবসার ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে হয় সরকারকে ডিউটি কমাতে হবে; নাহয় চোরাকারবারি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় বৈধ পথে আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে।

জানা যায়, রোববার জিরার বুকিং রেট ছিল প্রতি টন ২ হাজার ২৮০ ডলার। সে হিসাবে প্রতি টনে সরকার রাজস্ব পায় প্রতি টনে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার মতো। অর্থাৎ প্রতি কেজি জিরায় সরকারকে ডিউটি বা শুল্ক দিতে হয় ২২০ টাকা করে। একইভাবে এলাচের বুকিং রেট ছিল প্রতি টন ৪ হাজার ডলার। সে হিসবে প্রতি টনে সরকার রাজস্ব পায় ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। প্রতি কেজি এলাচে সরকারকে শুল্ক দিতে হয় ৬৭০ টাকা। বুকিং রেট অনুযায়ী খাতুনগঞ্জে আমদানি করা এলাচের প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৪ হাজার ২০০ টাকার মতো। কিন্তু চোরাপথে আসা এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ১০০ টাকা। প্রতি কেজিতে আমদানিকারকদের ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। ভিয়েতনাম, গুয়েতামালা, ইরান, মিয়ানমার, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জিরা ও এলাচ আমদানি হয়ে থাকে। এ দুটি পণ্যের শুল্কও বেশি। কিন্তু ভারত থেকে চোরাপথে এ দুটি পণ্য বেশি ঢুকছে। রোববার খাতুনগঞ্জে বাজারদর যাচাই করে দেখা যায়, আমদানি করা মসলা বিশেষ করে জিরা বিক্রি হচ্ছে ৫৬০ টাকা কেজি। অন্যদিকে চোরাপথে আসা জিরা মানভেদে কেজি ৫২০ থেকে ৫৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কম পাওয়ায় ক্রেতারা চোরাই জিরার দিকেই ঝুঁকছেন।

শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাপথে আসা মসলা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে খাতুনগঞ্জের প্রতিষ্ঠান বশর-মোল্লা, নবীন ট্রেডার্স, মা-বাবার দোয়া, এম শাহজাহানসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এছাড়া ভাসমান ব্যবসায়ী হিসাবে মোরশেদ, টিটু, রূপন নামে একাধিক ব্যক্তি চোরাপথে আসা মসলা বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ আছে। সীমান্তের চোরাকারবারিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে এই চক্র খাতুনগঞ্জে চোরাই পণ্য ঢুকিয়ে দিচ্ছে। মোবাইল ফোনেই তারা ব্যবসা পরিচালনা করছে। চোরাপথে আরও একটি সুবিধা হচ্ছে-তারা নিজেদের বিশ্বস্ত লোক দিয়ে আগে পণ্য পাঠিয়ে দিচ্ছে। বিক্রি করে পরে হুন্ডির মাধ্যমে সেই টাকা পরিশোধ করছে। খাতুনগঞ্জ হামিদুল্লাহ মিয়া বাজারের কতিপয় অসাধু পেঁয়াজ ব্যবসায়ী পেঁয়াজের ট্রাকে করে চোরাই মসলা নিয়ে আসছে বলে অভিযোগ আছে। কুমিল্লা, বগুড়া, ফেনী, সিলেটসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে দেদার ঢুকছে মসলাজাতীয় পণ্য।

সূত্র জানায়, স্থলবন্দর দিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ১০ টনের পণ্যের কাগজপত্র দেখিয়ে ২০ টন চোরাই পণ্য নিয়ে আসার ঘটনাও ঘটছে। আবার কোনো কোনো সীমান্ত দিয়ে একেবারেই ডিউটি ছাড়া মসলাজাতীয় পণ্য পাচার হয়ে আসছে দিনের আলো কিংবা রাতের আঁধারে। স্বাভাবিক সময়ে মসলার যে চাহিদা থাকে, কুরবানি সামনে রেখে চাহিদা এর দ্বিগুণ হয়ে যায়। এ চাহিদাকে পুঁজি করে চোরাকারবারিরা আরও তৎপর হয়ে উঠেছে।

খাতুনগঞ্জের ইলিয়াছ-বশর মার্কেট মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজল পালিত বলেন, চোরাপথে মসলা প্রবেশের কারণে আমদানিকারকরা লোকসানের শিকার হচ্ছেন। এখানকার বাজারে ২৫ থেকে ৩০ জন আমদানিকারক রয়েছেন। কুরবানি সামনে রেখে সরকারকে কোটি কোটি টাকা শুল্ক দিয়ে তারা চাহিদা অনুযায়ী মসলা পণ্য আমদানিও করেছেন। কিন্তু বাজার এখন চোরাপথে আসা মসলায় সয়লাব হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, দেশে শুকনা আদার বেশ চাহিদা। দুই বছর আগেও শত শত কনটেইনার আদা আমদানি হতো। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন মোকামে যেত ওই আদা। কিন্তু বর্তমানে মোকামের ব্যবসায়ীরা খাতুনগঞ্জে আসেন না। ভারত থেকে চোরাপথে আদা ঢোকার কারণে আমদানি প্রায় শূন্যের কোঠায়। গত দুই বছরে আদার কনটেইনার এসেছে-এমন রেকর্ড বন্দর কিংবা কাস্টমসে খুঁজে পাওয়া যাবে না।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান মিন্টু বলেন, প্রতিবেশী দেশ থেকে মসলাজাতীয় পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য চোরাপথে দেশে ঢুকছে। চোরাকারবারিরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ কাজ করছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে শুল্ক কর্তৃপক্ষকে আমরা চিঠি দিয়েছি চোরাচালান বন্ধে ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু শুল্ক কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর কোনো পদক্ষেপ লক্ষ করা যাচ্ছে না। যে কারণে খাতুনগঞ্জের আমদানিকারকরা লোকসানের ভারে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কেবল মসলা নয়; সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আরও অনেক পণ্য ঢুকছে। তিনি বলেন, চোরাকারবারি বন্ধে সরকার পদক্ষেপ না নেওয়ায় মসলাসহ বিভিন্ন পণ্যে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। অন্যদিকে আমদানিকারকরা লোকসানের ভারে দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম।

সোনামিয়া মার্কেটের মসলা ব্যবসায়ী আবু বক্কর জানান, সীমান্তে স্থলবন্দরগুলোয় উন্নত প্রযুক্তি না থাকায় কম শুল্কের ধনিয়া, কিশমিশ, পেঁয়াজমহ বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে ফাঁকি দিয়ে বেশি শুল্কের জিরা, এলাচ নিয়ে আসছে চোরাকারবারিরা। এক্ষেত্রে তারা অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করছে। এতে প্রকৃত আমদানিকারক যারা সরকারকে শুল্ক দিচ্ছেন, তাদের কপাল পুড়ছে। ড্রাই ফুড, বিশেষ করে উচ্চশুল্কের জিরা-এলাচ কেবল সমুদ্রপথে আমদানি বাধ্যতামূলক করে দিলে কিংবা শুল্ক কমিয়ে দিলে চোরাকারবারি বন্ধ হবে। নাহয় সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিচক্রকে ঠেকানো যাবে না।
(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD