আগামী অর্থবছরে (২০২৬-২৭) নতুন করে ২০ লাখ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ জন্য দেশের সব উপজেলা পর্যন্ত ভ্যাটের আওতা বিস্তৃত করা হবে। বিশেষ করে উপজেলা এবং উপজেলার বর্ধিষ্ণু যেসব স্থানে ব্যবসায় বড় ধরনের প্রসার ঘটেছে, সেসব এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ভ্যাটের আওতায় আনা হবে। এছাড়া রাজধানীর যেসব অস্থায়ী দোকানপাটে বিপুল পরিমাণ কেনাবেচা হয়, সেগুলোকেও ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে রাজস্ব আদায়কারী সংস্থাটির। বর্তমানে বার্ষিক ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়— এসব প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট প্রদান করতে হয় না এবং এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়। আগামী অর্থবছরেও ৩০ লাখ পর্যন্ত টার্নওভার ভ্যাট মওকুফ থাকবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৯৫ হাজার। এর মধ্যে গত বছরের ডিসেম্বরে ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ উপলক্ষে নিবন্ধনের জন্য বিশেষ কর্মসূচি পালন করে এনবিআর। ওই এক মাসে নতুন ১ লাখ ভ্যাট নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩১ শতাংশ বেশি প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে সক্ষম হয় রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠানটি। ওই এক মাসেই ১ লাখ ৩১ হাজার প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধনে যুক্ত হয়। এর আগে কখনো এক মাসে এত বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হয়নি। সাধারণত প্রতি মাসে গড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের আওতায় আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট চালু হওয়ার পর ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কিন্তু ৩৫ বছরে মাত্র ৮ লাখের মতো প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৯ মে ভ্যাট নিবন্ধনে ৫ লাখের মাইলফলক অর্জন করে এনবিআর।
দেশে নিবন্ধনযোগ্য ভ্যাট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অসংখ্য বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভ্যাটের হার না বাড়িয়ে এসব অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভ্যাটের আওতায় আনার তাগিদ দিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, যারা কমপ্লায়েন্স ট্যাক্স পেয়ার, তাদের ওপরই বেশি করে করের বোঝা চাপানো হয়। এর ফলে কমপ্লায়েন্স ট্যাক্স পেয়াররা কর দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।
এদিকে, আগামী অর্থবছরে ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্যাট পদ্ধতি সহজ করা ও ডিজিটালাইজেশনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এনবিআর। এজন্য অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা, ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য সিম্পল সফটওয়্যার ব্যবস্থা চালু করা, যার মাধ্যমে তারা এক পৃষ্ঠার মধ্যেই অনলাইন রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। এছাড়া এসব ব্যবসায়ীর জন্য মাসিক ন্যূনতম ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পরিমাণ হতে পারে মাসিক ৫০০ বা ১ হাজার টাকা এবং প্রতি মাসে না দিয়ে ছয় মাসে কিংবা বছরে এক চালানের মাধ্যমে তারা ভ্যাট পরিশোধ করবে। এছাড়া ভ্যাটের আইনকানুনও সহজ করা হবে।
এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আইএমএফের পক্ষ থেকে ভ্যাটের একক হার চালুর বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এনবিআর পণ্যের ক্ষেত্রে একক হার হিসাবে ১৫ শতাংশ বাস্তবায়নের পক্ষে। বর্তমানে অধিকাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর রয়েছে। তবে সেবার ক্ষেত্রে এ হার নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এটিও ১৫ শতাংশ হতে পারে। আগামী অর্থবছরে কিছু কিছু সেবার ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ করা হতে পারে। বর্তমানে সেবার ক্ষেত্রে দুই, সাড়ে চার, পাঁচ, সাড়ে সাত ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর রয়েছে।
এনবিআর সূত্র জানায়, প্রায় আট লাখ প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের আওতায় থাকলেও ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করে থাকে। কিন্তু কয়েকটি খাত থেকে সবচেয়ে বেশি ভ্যাট আদায় হয়ে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভ্যাট আদায় হয়ে থাকে তামাক খাত থেকে। এ খাত থেকে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার কোটি টাকা আদায় হয়। মোবাইল খাত থেকে ১২ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা, প্রকিউরমেন্ট সেক্টর থেকে ১২ হাজার কোটি, নির্মাণ খাত থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা ভ্যাট আদায় হয়। বাংলাদেশে রাজস্বের বড় অংশই আসে ভ্যাট থেকে। আমার দেশ