নতুন ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে গাজীপুরে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) দফায় দফায় সংঘষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৭ মে) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (দুপুর ২টা পর্যন্ত) এখনও চলছে।
এর আগে সকালে আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থী, ভিসি সমর্থক ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে গাজীপুর সদর মেট্রোপলিটন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামসহ ৫ পুলিশ সদস্য ও ১২ জন সাধারণ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন জানান, ডুয়েটে নতুন উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে গত দুইদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা চলমান রয়েছে। সকাল থেকে সেটিই পুনরাবৃত্তি হয়েছে। আমাদের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে আছেন। পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে তারা চেষ্টা করছেন।
গত বুধবার (১৩ মে) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই তা প্রত্যাখ্যান করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে আন্দোলনে নামেন ডুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা ওইদিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে তালা দেয়।
এরই ধারাবাহিকাতায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকালে ‘নবাগত ভিসিকে লাল কার্ড’প্রদর্শনীর লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা শহিদ মিনারে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় নবাগত ভিসির সমর্থক ও বহিরাগতদের একটি দল আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে তা আন্দোলনকারী, উপাচার্য সমর্থক ও পুলিশের মাঝে ত্রিমুখী সংঘর্ষে হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। এখানকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা ভিন্ন। তাই এ প্রতিষ্ঠানে বহিরাগত কাউকে না এনে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা শিক্ষকদের মধ্য থেকে যোগ্য একজনকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন।