চামড়াতে লবণ দিয়ে নিয়ে এলে সরকার নির্ধারিত মূল্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, চামড়ার যে মূল্যটা আমরা নির্ধারণ করেছি। সেই মূল্যটা নির্ধারণের প্রক্রিয়ার সময় স্টেক ফোল্ডারদের সাথে যুক্ত করেছি। আমরা যেদিন, চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করি সেদিন চামড়ার সংশ্লিষ্ট সমস্ত ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা ও নেতারা উপস্থিত ছিলেন। চামড়ার যে মূল্য ঘোষণা করা হয়েছে, সেটি লবণ মাখানো চামড়ার মূল্য। কোরবানির পরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যদি চামড়াতে লবণ মাখানো না হয় তবে চামড়া আস্তে আস্তে নষ্ট হতে শুরু করে। আজকের তাপমাত্রা ভালো থাকায় এখনো সময় আছে চামড়াতে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করার।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় সাভারের আমিন বাজার এলাকায় চামড়ার আড়তে পরিদর্শনে এসে সাংবাদিক এসব কথা বলেন।
এসময় মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রত্যেকটা জেলার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। যাবতীয় লজিস্টিক অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও সারাদেশের চামড়া সংরক্ষণ হচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস, বেশিরভাগ চামড়াই আমরা সংরক্ষণ করতে পারব এবং ট্যানারি পর্যন্ত পৌঁছাবে। পশু কোরবানি থেকে ট্যানারি পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ধাপ আছে। প্রত্যেকটি ধাপের সঙ্গে লিংক করে আমরা চেষ্টা করেছি এবং এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছি যতটুকু সম্ভব চামড়ার সংরক্ষণ এবং ট্যানারি পর্যন্ত পৌঁছানোর। আমাদের চেষ্টা চলমান থাকবে এবং বিগত অন্যান্য বছরের তুলনায় আমরা বেশি চামড়া সংরক্ষণ করতে পারব। ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী অবকাঠামোর জন্য পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আগামীতে চামড়ার সম্ভাবনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে কোরবানির পশুর চামড়া আমরা শতভাগ যাতে সংরক্ষণ করতে পারি। আমরা রপ্তানি খাতে ব্যবহার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারি। সেজন্য সাভারের সিইটিপি সমস্যাসহ যে সব ট্যানারি হাজারীবাগে স্থানান্তরিত হতে গিয়ে রুগ্ন অবস্থায় পড়েছে অথবা আজও ব্যবসা শুরু করতে পারেনি। এদের ব্যাপারে একটি ফয়সালায় পৌঁছে চামড়াখাতকে পুরোপুরি একটি বিকশিত খাতে পরিণত করতে চাই। আমাদের বিশ্বাস আজকে যেটি এক বিলিয়ন রপ্তানি খাত সেটিকে ১০-১২ বিলিয়ন রপ্তানিখাতে রূপান্তরিত করা সম্ভব।
এ সময় মন্ত্রী চামড়ার পাচার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, যে সব জায়গায় চামড়াগুলো এসে জড়ো হয়, সেসব জায়গায় আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আছে। সেজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি মনিটরিং সেল করেছি এবং সার্বক্ষণিকভাবে আমাদের কিছু কর্মকর্তা কাজ করছেন। প্রত্যেক এলাকার জেলা প্রশাসক বিসিকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। ঢাকায় ও জেলা সদর গুলোতে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। চামড়া পাচার হওয়ার কোনো বিষয় নেই। কিন্তু চামড়া অক্ষত রেখে সময়মতো লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণ করে সময় মত যাতে রপ্তানি করতে পারি সেই উদ্দেশ্যে আমরা কাজ করছি। এসময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও হাটের ক্রেতা বিক্রেতারা উপস্থিত ছিলেন।