অর্থনীতিকে স্থবিরতা থেকে টেনে তুলতে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ৩৩ হাজার ২৫ কোটি টাকার প্রণোদনা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে সরকার। কৃষি, রপ্তানি, পাটজাত পণ্য ও বৈধ পথে রেমিট্যান্স আহরণ বাড়াতে এই অর্থ ব্যয় করবে সরকার। এ খাতে চলতি অর্থবছরের তুলনায় বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রণোদনা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা হলেও এর সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নে দক্ষতার ওপর। অতীতে অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত উৎপাদক বা রপ্তানিকারকের পরিবর্তে মধ্যস্বত্বভোগীরা বেশি সুবিধা পেয়েছে। ফলে প্রণোদনার অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সবচেয়ে বেশি জরুরি।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বাজেটে কৃষি খাতে ১৭ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি নগদ সহায়তায় ৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা, পাট ও পাটজাত পণ্যে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠাতে উৎসাহ দিতে ৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই চার খাতই বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। এর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানো এবং অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কৃষি সুরক্ষা ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই প্রণোদনা প্যাকেজকে তারই অংশ হিসাবে দেখা হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ কৃষি খাতে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষকদের সারের ভর্তুকি, ডিজেল ও বিদ্যুৎ সহায়তা, কৃষিযন্ত্র ক্রয়ে অনুদান, উন্নত বীজ সরবরাহ এবং কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় করা হয়। কৃষি খাতে ভর্তুকির প্রধান উদ্দেশ্য হলো উৎপাদন খরচ কমিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের লাভজনক অবস্থানে রাখা। এ প্রসঙ্গে সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কৃষি ও রেমিট্যান্স খাতে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তবে শুধু অর্থ বরাদ্দ করলেই হবে না, এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রণোদনা যেন প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পৌঁছে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে সেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পাটজাত পণ্যে প্রণোদনা ১২০০ কোটি টাকা : সবচেয়ে বেশি আলোচনা পাট ও পাটজাত পণ্যে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রণোদনা নিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প নানা সংকটে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং আর্থিক সংকটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার লড়াই করছে। পাট অধিদপ্তর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এ অর্থ সরাসরি পাটকল বা ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় না। রপ্তানি সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত হারে নগদ সহায়তা হিসাবে তা দেওয়া হয়।
(যুগান্তর)