বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন




বাজেট উপস্থাপন

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে কী দেবেন অর্থমন্ত্রী

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬ ৮:৫৫ pm
JS Bangladesh National Parliament Jatiya Sangsad Bhaban House জাতীয় সংসদ ভবন পার্লামেন্ট js বাজেট পাস
file pic

দেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী (২০২৬-২৭) অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বাজেটে একদিকে যেমন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগের ঘোষণা থাকছে, অন্যদিকে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে করজাল সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ এবং কর প্রশাসনকে আরও কঠোর করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল (১১ জুন) বৃহস্পতিবার জাতির সামনে নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী।

যা আছে বাজেট পরিকল্পনায়
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, আর্থিক খাত সংস্কার ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়ন অর্জন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং সৃজনশীল অর্থনীতি খাতের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেট পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হতে পারে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার মতো সংগ্রহের দায়িত্ব পড়বে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওপর। এই বিপুল রাজস্ব সংগ্রহ নিশ্চিত করতে আয়কর আইন, ২০২৩-এ ব্যাপক সংশোধন আনা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে করের বাইরে থাকা বিভিন্ন খাত করের আওতায় আনা, কর পরিপালন বাড়ানো এবং ডিজিটাল অর্থনীতিকে কর কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর প্রশাসনের আওতা বাড়াতে নতুন করে ‘সহযোগী প্রতিষ্ঠান’, ‘ডেভেলপার’, ‘বেসরকারি ইনস্টিটিউট’ ও ‘মুখ্য কর্মকর্তা’র মতো সংজ্ঞা যুক্ত করা হচ্ছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও স্পষ্টভাবে কর কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে।

ডিজিটাল অর্থনীতিতেও নজর দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে এক লাখ বা তার বেশি ডিজিটাল গ্রাহক বা গ্রাহক সদস্য থাকলে তাকে করযোগ্য উপস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর কর আরোপের সুযোগ বাড়বে।

রিয়েল এস্টেট খাতে জমির মালিক ও ডেভেলপারের যৌথ উন্নয়ন চুক্তির আওতায় নগদ অর্থ, ফ্ল্যাট বা অন্য সুবিধা গ্রহণকে মূলধনী প্রাপ্তি হিসেবে গণ্য করে ১৫ শতাংশ হারে কর আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহ, তল্লাশি, জব্দ এবং বন্দর ও বিমানবন্দরে অভিযান পরিচালনার ক্ষমতাও বাড়ানো হবে।

যেভাবে বাড়ানো হবে কর আদায়
কর আদায় বাড়াতে বিভিন্ন খাতে নতুন অগ্রিম কর আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে পিস্তল বা রিভলবারের লাইসেন্স ইস্যু কিংবা নবায়নের সময় এক লাখ টাকা এবং বন্দুক, শটগান বা রাইফেলের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম কর দিতে হবে। প্রথমবারের মতো হেলিকপ্টার বা চপারের ওপরও ১০ লাখ টাকা অগ্রিম কর আরোপ করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো খুচরা বিক্রেতাদের ওপর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে অগ্রিম কর আরোপ করা হচ্ছে। একইভাবে প্রথমবারের মতো ক্লাবের সদস্যদের কাছ থেকেও উৎস কর নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আইনের আওতায় নিবন্ধিত ক্লাবের সদস্যপদ গ্রহণ, নবায়ন, হস্তান্তর বা পরিবর্তনের সময় পরিশোধিত অর্থের পরিমাণের ওপর ১০ শতাংশ উৎস কর দিতে হবে।

গাড়ির ক্ষেত্রেও বাড়ছে অগ্রিম কর। বিশেষ করে আড়াই হাজার সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন যানবাহনের কর উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে। বাণিজ্যিক যানবাহন, ট্রাক, লরি, বাস, ট্যাক্সিক্যাব এবং বিশেষায়িত ভারী যানবাহনের করও বাড়ানো হচ্ছে

এছাড়া লটারি, শব্দজট, কার্ড গেম, অনলাইন গেম, হাউজি, বেটিং, ঘোড়দৌড় বেটিং অথবা এ ধরনের যে কোনো প্রকৃতির কার্যক্রম বা খেলায় জয়লাভ করে কোনো অর্থ পেলে তার ওপর কর হার ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে।

আগামী অর্থবছর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বিমা, লিজিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানি কর-পরবর্তী নিট আয়ের ৩০ শতাংশের কম লভ্যাংশ বিতরণ করলে অতিরিক্ত কর দিতে হবে। একইভাবে শুধু বোনাস শেয়ার বা নগদ লভ্যাংশের তুলনায় বেশি স্টক লভ্যাংশ বিতরণ করলেও ১০ শতাংশ কর আরোপ করা হবে।

গাড়ির ক্ষেত্রেও বাড়ছে অগ্রিম কর। বিশেষ করে আড়াই হাজার সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন যানবাহনের কর উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে। বাণিজ্যিক যানবাহন, ট্রাক, লরি, বাস, ট্যাক্সিক্যাব এবং বিশেষায়িত ভারী যানবাহনের করও বাড়ানো পাচ্ছে। ইটভাটার অগ্রিম কর দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর পাশাপাশি কর পরিশোধের সনদ ছাড়া লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

থাকছে কর রেয়াত সুবিধাও
তবে শুধু কর বৃদ্ধি নয়, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে বেশকিছু কর রেয়াতও থাকছে বাজেটে। কার্বোনেটেড বেভারেজ, মিষ্টি পানীয়র টার্নওভার কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে আড়াই শতাংশ, মোবাইল ফোন অপারেটরের টার্নওভার কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে দেড় শতাংশ করা হচ্ছে।

কৃষি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে কর সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ধান, ধানের কুড়া, চাল, পুষ্টি চালের কার্নেল, গম, আলু, গবাদি পশু, গবাদি পশুর হাড়, হাঁস-মুরগি, মাছ, চিংড়ি, মাংস, পেঁয়াজ, রসুন, মটর, ছোলা, মসুর, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ডাল, ভুট্টা, আটা, ময়দা, লবণ, ভোজ্যতেল, চিনি, বীজ, পাট, পাটকাঠি, সরিষা, তিল, কাঁচা চা-পাতার উৎস কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে।

একইভাবে গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, তেজপাতা, ডিম, শাক-সবজি, লেবু, কাঁচামরিচ, তরল দুধ, স-মিলের ভুসি, পোল্ট্রি ফিড, পিলেটেড পোল্ট্রি ফিড, মাশরুম, মধু, গুড়, তামাক ব্যতীত অন্যান্য গাছের পাতা ও বাকল, চিটাগুড়, খৈল, সয়াবিন মিল, ডি-ও-আর-বি, তুলা, কাঁচা চামড়া, জৈব সার, জৈব বালাইনাশক, হস্তশিল্পজাত পণের উৎস কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে।

বর্তমানে করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারিত রয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। আগামী অর্থবছর এটা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হতে পারে। ২০২৭-২৮ অর্থবছরেও এটিই থাকবে। তবে ২০২৮-২৯ এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা হবে

এছাড়া স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার খাতে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হতে পারে। শিশুখাদ্য প্রস্তুতের কাঁচামাল, ওষুধ শিল্পের বিভিন্ন উপকরণ এবং স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত বেশকিছু পণ্যে শুল্ক ও কর কমানোর প্রস্তাব করা হতে পারে। কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত রিং এবং চোখের লেন্সের ওপর কর ছাড় দেওয়া হতে পারে।

পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ করহার এবং সৌরবিদ্যুৎ যন্ত্রপাতি আমদানিতে কর অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে।

বিনিয়োগে উন্নতি অন্যতম লক্ষ্য
বিনিয়োগ পরিস্থিতি উন্নত করাও বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট বিনিয়োগ জিডিপির ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশে নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আগামী অর্থবছরে বিনিয়োগকে জিডিপির ৩১ দশমিক ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ ২৪ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং সরকারি বিনিয়োগ ৬ দশমিক ৫০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকার আগামী অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার নির্ধারণ করা হচ্ছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা আসবে সরকারি তহবিল থেকে এবং ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে সংগ্রহ করা হবে।

বর্তমানে করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারিত রয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। আগামী অর্থবছরে এটা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হতে পারে। ২০২৭-২৮ অর্থবছরেও এটিই থাকবে। তবে ২০২৮-২৯ এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে সাড়ে ৪ লাখ টাকা করার ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী।

বিশেষ গুরুত্ব সৃজনশীল অর্থনীতিতে
সৃজনশীল অর্থনীতিকে এবারের বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গান, চলচ্চিত্র, সফটওয়্যার, ভিডিও গেম, ডিজাইন, অ্যানিমেশন, অনলাইন কনটেন্ট ও হস্তশিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহ দিতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে নতুন খাত হিসেবে সৃজনশীল অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।

দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝুঁকিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা খাতেও বড় ধরনের সম্প্রসারণ আসছে। এ খাতে মোট বরাদ্দ ধরা হতে পারে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। নতুন ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ৪১ লাখ নারীপ্রধান পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে বার্ষিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতেও বড় বরাদ্দ আসছে। জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জন্য ৪৩ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে বরাদ্দের দিক থেকে স্বাস্থ্য খাত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে আসতে পারে

এছাড়া মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, সেবাইত, বিহার অধ্যক্ষ ও খাদেমদের সম্মানী ভাতা, কর্মহীন শ্রমিকদের সুরক্ষা কর্মসূচি, ভিজিএফ কার্যক্রমের পুনর্বিন্যাস, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও রাখা হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায়।

ভাতা পাবেন জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতরা
প্রথমবারের মতো জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের ভাতা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতার সমপর্যায়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ এবং উপকারভোগীর সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতেও বড় বরাদ্দ আসছে। জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জন্য ৪৩ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে বরাদ্দের দিক থেকে স্বাস্থ্য খাত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে আসতে পারে।

রাজস্ব আহরণ ও বাজেট ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন
তবে এতসব উদ্যোগের মধ্যেও বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে রাজস্ব আহরণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং বাজেট ঘাটতি ব্যবস্থাপনা নিয়ে। আগামী অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ধরা হতে পারে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে ব্যাংকিং ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ উৎস এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে সরকারকে।

এদিকে, এনবিআরের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়াতে আগামী অর্থবছরের আগে আগে রিটার্ন জমার ক্ষেত্রে প্রণোদনা দেওয়া হবে। আবার দেরিতে রিটার্ন জমা দিলে গুনতে হবে জরিমানা। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের মধ্যে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ২৫ হাজার টাকা, যেটা কম সেই পরিমাণ কর প্রণোদনা পাওয়া যাবে।

১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে প্রণোদনা অথবা অতিরিক্ত কর কোনোটিই প্রযোজ্য হবে না। তবে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ সময়ে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা, যেটা বেশি সেই পরিমাণ অতিরিক্ত কর দিতে হবে। আর ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন সময়ে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা, যেটা বেশি সেই পরিমাণ অতিরিক্ত কর দিতে হবে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD