চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৩ হাজার ২০ ডলার, যা গত অর্থবছর ছিল ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। অর্থাৎ মাথাপিছু আয় বেড়েছে ২৫১ ডলার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বুধবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাময়িক হিসেবে চলতি অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। এই হার গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরের চেয়ে কিছুটা বেশি। গত অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
বিবিএসের হিসাবে চলতি মূল্যে জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা ডলারের হিসাবে ৫০১ বিলিয়ন। অর্থবছর জিডিপির আকার ছিল ৫৫ হাজার ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা বা ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার। ডলার প্রতি ১২২ টাকা ১৪ পয়সা বিনিময় হার ধরে জিডিপির আকার ঘোষণা করা হয়েছে। টাকার হিসাবে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৩৪ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা, মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা। এই আয় গত অর্থবছর ছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ টাকা।
বিবিএসের প্রতিবেদনে বৃহৎ খাতের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হিসাবে দেখা যায়, চলতি অর্থবছর কৃষি ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। কৃষিতে এই অর্থবছর সাময়িক হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ,–যা গত অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসেবে ছিল ২ দশমিক ৪২ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে শুন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ। সেবা খাতেও প্রবৃদ্ধি বেড়েছে শুন্য দশমিক ২৪ শতাংশ। গত অর্থবছরের ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ থেকে বেড়ে এই অর্থবছর ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তবে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি কমে গেছে শুন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ। এই খাতে চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৮৬ শতাংশে নেমে এসেছে,–যা গত অর্থবছর ছিল ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ।
বিবিএসের সংক্ষিপ্ত পর্যবেক্ষণ বলা হয়, সামগ্রিকভাবে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে উন্নীত হওয়া এবং মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করা ইতিবাচক লক্ষণ। তবে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং জিডিপির তুলনায় জাতীয় সঞ্চয় ও বিনিয়োগের হার কিছুটা হ্রাস পাওয়া সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য একটি সতর্কবার্তা।