বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন




৬ শিশুর মৃত্যু: আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬ ৫:৩৪ pm
Directorate General Health Services DGHS স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অধিদফতর হেলথ স্বাস্থ্য অধিদফতর
file pic

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির লাইসেন্স বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এ ঘোষণা দেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শোকজ নোটিসের “যে জবাব ও ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়, তা কর্তৃপক্ষের নিকট সন্তোষজনক না হওয়ায় মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবোরেটরিস রেগুলেশন অর্ডিনেন্স ১৯৮২ এর ১১ (২) খ ধারা অনুযায়ী অত্র হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হইল।

“উক্ত অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিলের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপনার আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রয়েছে।”

ঈদের আগের দিন ২৭ মে সকালে মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ছটফট করতে করতে একে একে ছয় নবজাতক মারা যায়।

এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলার’ প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি; দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকা; বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই শিশুগুলোর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ।

গত ৪ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। সেদিনই বিকালে হাসপাতালকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, ৭ জুন বিকাল ৫টার মধ্যে জানাতে বলা হয় নোটিসে। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বুধবার বলেছিলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নোটিসের যে জবাব দিয়েছে তা ‘সন্তোষজনক নয়’।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির রোববার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।

পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যৌথ আলোচনায় এই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রত্যেক পরিবারকে ইতোমধ্যে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ক্ষতিপূরণ ও হাসপাতালের আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বুধবার বলেন, “এ ঘটনায় সরকার আইনজীবী নিয়োগ করে সঠিকভাবে প্রতিবেদন এবং সিদ্ধান্তের বিষয়ে সুপারিশ করবে।”




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD