রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৩:১৯ অপরাহ্ন




মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটমুক্ত করার প্রস্তাব ঢাকার

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬ ১২:১৬ pm
labour জনশক্তি প্রবাসী MANPOWER EXPORTS migrant workers wage worker মাইেগ্রন অভিবাসী শ্রমিক মাইেগ্রন অভিবাসী শ্রমিক রেমিট্যান্স রেমিটেন্স মজুর ডলার রির্জাভ migrant workers worker মাইেগ্রন অভিবাসী শ্রমিক
file pic

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে নতুন চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক সই হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে ২০২১ সালে সই করা সমঝোতা স্মারক সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হবে। এ ছাড়া কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে অতীতে যেসব কারণে সিন্ডিকেট হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি রোধ চাইবে বাংলাদেশ। সরকার ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের চার মাসে এটিই তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর।

সফরসূচি অনুযায়ী আজ স্থানীয় সময় রাত ৯টায় মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে পৌঁছাবেন তারেক রহমান। ১৮ ঘণ্টার সফরে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। সেটি শিক্ষা ও প্রযুক্তি-সংক্রান্ত বলে সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য, তারেক রহমান মালয় রাজা এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে ২০২১ সালের সমঝোতা স্মারক সংশোধনের প্রস্তাব দেবেন। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতা দেওয়ারও অনুরোধ জানাবেন।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে পাঁচ বছরের সমঝোতার স্মারকের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হবে। এই সমঝোতায় বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের কোন কোন রিক্রুটিং কর্মী পাঠাবে তা ঠিক করবে মালয়েশিয়ার সরকার। এই শর্তের কারণে কর্মী পাঠাতে সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন জনশক্তি ব্যবসায়ীরা।

অতীতের সিন্ডিকেট
২০২২ সালে মালয়েশিয়ার তৎকালীন সরকার বাংলাদেশের ২৫ রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর কাজ দিয়েছিল। কীসের ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করা হয়েছিল, তা কখনও ব্যাখ্যা করা হয়নি। এই ২৫ প্রতিষ্ঠানের পাঁচটির মালিক ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের এমপি-মন্ত্রীরা। বাকি আটটি প্রতিষ্ঠানও ছিল আওয়ামী লীগ নেতাদের। এই এজেন্সিগুলোই সিন্ডিকেট নামে পরিচিতি পায়। বাংলাদেশ দেড় হাজার এজেন্সির তালিকা পাঠালেও পরবর্তী সময়ে আরও ৭৬টিসহ মোট ১০১ এজেন্সিকে কাজ দিয়েছিল মালয়েশিয়া।

সমকালের অনুসন্ধান অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিওসিএমএস) নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেটের মালিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয় নাগরিক আমিনুল ইসলাম নুর এবং বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা মিলে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। বাংলাদেশ অংশে এর নেতৃত্বে ছিলেন ২৫ এজেন্সির ‘সমন্বয় করা’ ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের মালিক রুহুল আমিন স্বপন।

সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ২০২২ সালের আগস্টে কর্মী নিয়োগ শুরু করে মালয়েশিয়া। কর্মীপ্রতি ব্যয় ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও মালয় শ্রমিক ইউনিয়নের গবেষণা অনুযায়ী পাঁচ লাখ ৪৪ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। হাজারো কর্মী এত টাকা খরচ করে মালয়েশিয়া গিয়েও প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি। তাদের নেওয়া হয় ভুয়া চাকরির চাহিদাপত্র দিয়ে।

জনশক্তি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, এই পদ্ধতিতে সিন্ডিকেটে থাকা এজেন্সিগুলোকে প্রতি কর্মীর জন্য দেড় লাখ টাকা করে দিতে হয়েছিল বেস্টিনেটকে। প্রত্যেক কর্মীর চাহিদাপত্রের জন্য মালয়েশিয়ায় থাকা মধ্যস্বত্বভোগীকে দিয়ে ছয় হাজার রিঙ্গিত করে দিতে হয়। যা ওই সময়ের বিনিময়মূল্যে দেড় লাখ টাকা ছিল। এ ছাড়া ঢাকায় সিন্ডিকেটে প্রবেশের চাঁদা ছিল কর্মীপ্রতি এক লাখ ৭ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম হয়।

আবার আশঙ্কা
অনিয়ম নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই ২০২৪ সালের ৩১ মে কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে মালয়েশিয়া। চার লাখ ৭৪ হাজার কর্মী যেতে পারলেও সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শেষ সময়ে বিমানের টিকিট না পেয়ে যেতে পারেননি ১৬ হাজার ৯৯০ জন কর্মী। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আট হাজার কর্মীকে পাঠানো হয় আনোয়ার ইব্রাহিমকে অনুরোধের মাধ্যমে। অন্যদের টাকার একাংশ আদায় করে দেওয়া হয় এজেন্সির কাছ থেকে।

২০১৫ সালের সমঝোতা স্মারকেও মালয়েশিয়ার সরকারকে বাংলাদেশি এজেন্সি বাছাইয়ের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। দেশটি ১০ এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নেয়। যারা সিন্ডিকেট নামে পরিচিত ছিল। পাঠানো কর্মীর সংখ্যা, তিন বা ততোধিক দেশে কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা, অফিসের আয়তন, আন্তর্জাতিক নিয়োগকর্তার সনদপত্রসহ ১০টি শর্ত দেওয়া হয়েছে। এতে দুই হাজার বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির ৪৫২টি যোগ্যতা অর্জন করে। মন্ত্রলালয় সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার চায় অতীতের মতো ১০ বা ২৫ নয়, যোগ্য ৪৫২ প্রতিষ্ঠানকেই কর্মী পাঠানোর কাজ দেওয়া হোক।

অতীতে সরকারঘনিষ্ঠ এবং আওয়ামী লীগ নেতারা সিন্ডিকেটে প্রবেশ করেছিলেন মালয়েশিয়ার নিয়ন্ত্রকদের মাধ্যমে। এবার বিএনপির কয়েক নেতা একই চেষ্টা করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কার নোয়াখালীর এক নেতা, ঢাকা থেকে নির্বাচন করে পরাজিত ধানের শীষের এক প্রার্থী, মালয়েশিয়া বিএনপির নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টাদের একজন আত্মীয়ের নাম শোনা যাচ্ছে। গতবারের সিন্ডিকেটের হোতারাও তাদের সমর্থন করছেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সিন্ডিকেট নয়, সরকার চায় পরির্বতন
প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, মালয়েশিয়া সরকারের রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই করতে যে শর্তটি রয়েছে তা সংশোধন চায় বাংলাদেশ। যা আগেও জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরেও বলা হবে। বাংলাদেশ সরকার চায় আর সিন্ডিকেট না হোক।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, শ্রমবাজার প্রসঙ্গে আলোচনা হবে তারেক রহমানের সফরে। এদিকে সফরের প্রাক্কলে রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকরা প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠিতে অনুরোধ জানিয়েছেন, অতীতের মতো সিন্ডিকেট যাতে না হয়। এতে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়া ১৪টি দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ দিলেও বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশের ক্ষেত্রে রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই করে না। এই বাছাইয়ের ফলে এজেন্সি বঞ্চিত হয়। এতে অভিবাসন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে, দুর্নীতি অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। আবার শ্রমবাজার বন্ধের ঝুঁকি সৃষ্টি হবে। সমকাল




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD