রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নানান অপরাধের খবর নিয়মিতভাবে সামনে আসছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা, উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। নতুন করে প্রশ্ন উঠছে জননিরাপত্তা; বিশেষত নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের মধ্যেও চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এসব ঘটনা দমনে তৎপরতা ও কঠোরতার কথা জানিয়ে আসছে। তবে সবকিছুর পরও প্রতিনিয়ত ঘটে চলা খুন, ধর্ষণ, মব সহিংসতা, গণপিটুনি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ থামছেই না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অপরাধের ধারাবাহিক ঘটনা দেশের মানুষের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক ও ভীতিকর। শুধু অপরাধ সংঘটনের পর আইনগত ব্যবস্থা নিলেই হবে না, বরং অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ, দ্রুত বিচার এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা জরুরি।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনতে ধারাবাহিক পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সামগ্রিকভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অতীতের তুলনায় বর্তমানে অপরাধ পরিস্থিতি অধিকতর নিয়ন্ত্রিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার কারণে বড় ধরনের অপরাধ দমনে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।
জামিন পাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীরা অপরাধে যুক্ত হচ্ছে
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা এখনো পুরোপুরি ফেরেনি।
পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জামিনে মুক্তি পাওয়া বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও দাগি অপরাধী চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ নানান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় প্রকাশ্যে গুলিতে নিহত হন একসময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন। তিনি ২০০১ সালে প্রকাশিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। দীর্ঘ কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, টিটন হত্যার পর সন্দেহভাজন হিসেবে দুজন শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন ও ইমামুল হাসান ওরফে পিচ্চি হেলালের নাম এসেছে। এর আগেও একাধিক হত্যা এবং চাঁদাবাজির ঘটনায় এ দুজনের নাম আলোচিত হলেও পুলিশ কাউকেই আইনের আওতায় আনতে পারেনি।
ঢাকার আলোচিত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে একটি হচ্ছে পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়া হত্যা। গত বছরের ১৭ নভেম্বর মুখোশধারী তিন সন্ত্রাসী মিরপুরে একটি দোকানে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
কিবরিয়া হত্যার ঘটনায় মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী মফিজুর রহমান ওরফে মামুনের নাম এসেছে। তবে তদন্তকারী সংস্থা ডিবির সূত্র বলছে, তদন্তে হত্যার নির্দেশদাতা পর্যন্ত পৌঁছানো যায়নি বলে মামলার তদন্ত শেষ হয়নি।
পাঁচ মাসে ১৪৫২ খুনের মামলা
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে সারাদেশে খুনের ঘটনায় এক হাজার ৪৫২টি মামলা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই ঘটনায় একাধিক মানুষ খুন হলেও হত্যা মামলা হয় একটি। এ হিসাবে পাঁচ মাসে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০টি খুনের মামলা হয়েছে।
একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের সাত হাজার ৯১০টি, অপহরণের ৪৩৭টি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ৮৫৮টি এবং মাদক-সংক্রান্ত ২৬ হাজার ১৪১টি মামলা হয়েছে। চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মামলা হয়েছে চার হাজার ৯১২টি।
আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের একই সময়ে (জানুয়ারি থেকে মে) খুনের মামলা হয়েছিল এক হাজার ৫৮৭টি। এ পরিসংখ্যানে আগের খুনের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ছিল ৯ হাজার ১০০টি এবং চুরি-ছিনতাই-ডাকাতির ঘটনা ছিল চার হাজার ৯৫৫টি।
মব সহিংসতায় শতাধিক প্রাণহানি
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ১৯৮টি মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় ১০২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে এপ্রিলে ৪৪টি ঘটনায় ২২ জন ও মে মাসে ৬৬টি ঘটনায় ৩১ জন প্রাণ হারান।
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ মাসে ৭৭২টি রাজনৈতিক সংঘাতে ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে এক হাজার ২৬৯ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ধর্ষণের শিকার ২৯৮ জন। বিভিন্ন কারণে প্রাণ হারিয়েছে ২৫১ শিশু।
অন্যদিকে, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত মব সহিংসতা ও গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ৮৯ জন। একই সময়ে ২৩৯ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ৮৫ জনকে। ধর্ষণ-সংক্রান্ত ঘটনায় ২৬ নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ মাসে এক হাজার ৩৫ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৫১ শিশু ও ৫৮৪ নারী। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৫০ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৮ জনকে। এছাড়া বিভিন্ন কারণে ২৩৭ নারী ও শিশু হত্যার শিকার হয়েছেন।
হামলার শিকার পুলিশ
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাও বাড়ছে। গত মে মাসে ঢাকাসহ কয়েকটি জেলায় ১৩টি স্থানে হামলার শিকার হন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), পুলিশ ও অন্য বাহিনীগুলোর সদস্যরা।
সবশেষ গত ১৬ জুন ঢাকার আদাবরে এক বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে তিন লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ব্যাপক আলোচনায় আসে। ঘটনাটি আলোচনায় আসার পর ছিনতাইকারী ধরতে মাঠে নামে পুলিশ। ওই দিনই অভিযানে গিয়ে আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলামসহ দুজন ছিনতাইকারীদের হামলার মুখে পড়েন। ছিনতাইকারীরা তাদের কুপিয়ে আহত করে। এসময় পুলিশের গুলিতে দুজন আহত হন।
পরে জানা যায়, হামলাকারীরা ডিএমপির তালিকায় থাকা মোহাম্মদপুর-আদাবরকেন্দ্রিক কবজিকাটা আনোয়ার গ্রুপের সদস্য। ডিএমপির তালিকায়ও এই দলের বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।
এর আগে গত ২০ মে রাজধানীর পল্লবীর কালশীতে সরকারি জমি থেকে অবৈধ বস্তি উচ্ছেদ অভিযানে গেলে পুলিশের ওপর হামলা হয়। পরদিন চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দারা ছয় ঘণ্টা পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং পুলিশের একটি পিকআপভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন।
গত ২২ মে সিলেটে এক মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে র্যাব সদস্য ইমন আচার্য নিহত হন। এর দুদিন আগে চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে নিহত হন পুলিশের একজন সদস্য।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক সদস্য এখনো পুরোপুরি মনোবল ফিরে পাননি। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো জটিলতায় পড়লে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সমর্থন পাওয়া নিয়েও তাদের মধ্যে সংশয় রয়ে গেছে।
সামাজিক অপরাধ ও নৃশংস খুন
গত ১৯ মে ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় সারাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এর দুদিন আগে ১৭ মে ঢাকার মুগদা থানাধীন মান্ডা এলাকা থেকে পলিথিনে মোড়ানো মাথাবিহীন মরদেহের সাত টুকরা উদ্ধার করে পুলিশ। মোকাররম নামে ওই ব্যক্তিকে প্রেম ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পারে পুলিশ।
এরও আগে গত ৯ মে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় আন্দালিব সাদমান রাফি নামে ৯ বছরের এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, অনলাইনে জুয়ার টাকা নিয়ে শিশুটির বাবার সঙ্গে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশ অভিযুক্ত নূর মুহাম্মদ খোকনের বাড়ির স্যানিটারি ল্যাট্রিনের রিং স্ল্যাবের ভেতর থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে।
গত ৯ মে গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে শারমিন আক্তার, তার তিন সন্তান মীম খানম, উম্মে হাবিবা ও ফারিয়া এবং রসুল মিয়াসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আর্থিক লেনদেন, পরকীয়া ও পারিবারিক কলহের জেরে শারমিনের স্বামী ফোরকান মিয়া এ হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে জানা যায়।
ঢাকার বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ নামে একজনকে হত্যা করে মরদেহ সাত টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয় তার রুমমেট শাহীন আলম। গত ১৪ এপ্রিল রাতে যাত্রাবাড়ীর কাজলায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে কলেজছাত্রী মাহাদিয়া হাসান নবনী ওরফে দিয়ামনিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার মা, বোন ও ভাইও গুরুতর আহত হন। এ সময় দিয়ামনির মায়ের একটি কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার হয়নি
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশের স্থাপনা থেকে পাঁচ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ছয় লাখ ৫২ হাজার আট রাউন্ড গুলি লুট হয়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩২৩টি অস্ত্র এবং দুই লাখ ৫৭ হাজার ১৪৪টি গুলি উদ্ধার হয়নি।
পুলিশের লুণ্ঠিত এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ঝুঁকি দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতির উন্নতির জন্য দ্রুত এসব উদ্ধার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দেশব্যাপী একাধিক দফায় যৌথ অভিযান চালাতে দেখা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো, দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
সম্প্রতি সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ১১ দলের নেতাদের সমালোচনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, বিগত অনেক সময়ের তুলনায় বর্তমান সময়ে অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি।’
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘পুলিশের প্রতি মানুষের যে বিশ্বাস-শ্রদ্ধা ছিল তা গত ১৫ বছরে অনেক কমে গেছে। এর কিছুটা কাটিয়ে ওঠা গেছে, তবে পুরোপুরি এখনো যায়নি। আরও কিছুটা সময় লাগবে।’
‘পুলিশের আস্থা অর্জনের জন্য বাস্তব ভূমিকা পালন করতে হবে। মানুষ যেন নির্ভয়ে চলাচল করতে পারে তার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষ যেন স্বস্তি পায় এবং শান্ত-সুস্থ পরিবেশ বজায় থাকে সেদিকে সর্বোচ্চ নজর দিতে হবে’—বলেন তিনি।
দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান অব্যাহত
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ.এইচ.এম. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, কিশোর গ্যাং সদস্য ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, টহল ও চেকপোস্ট বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে।’ হত্যাকাণ্ডসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
উদ্বেগের কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘সরকার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অগ্রগতি দেখাতে পারলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং তা ধরে রাখা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।’
‘বাহিনীর সদস্যদের অনেক সময় হামলার শিকার হতে হচ্ছে, এমনকি অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়েই ফিরে আসতে হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি প্রয়োজন’—যোগ করেন তিনি। জাগো নিউজ