বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ন




আল-আকসা মসজিদের ফটক বন্ধ করে দিলো ইসরাইল

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬ ৮:২৪ pm
Al-Aqsa Mosque হামলা Flag Israel ইসরায়েল জেরুজালেম israyel israil netaniyahu নেতানিয়াহু ইসরাইল Map of Palestine Jerusalem israel palestine gaja gaza Flag hamas ফিলিস্তিন পতাকা হামাস গাজা গাযা Al-Aqsa masjid আল আকসা মসজিদ মুকাদ্দাসAl-Aqsa masjid আল-আকসায় আল-আকসা
file pic

সামরিক মহড়ার অজুহাতে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদের একটি ফটক মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সাময়িকভাবে বন্ধ দেয় ইসরাইলি বাহিনী। এ ঘটনায় মুসল্লিদের প্রবেশে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জেরুজালেম গভর্নরেট এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরাইলি বাহিনী আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রায় ৩০ মিনিটব্যাপী সামরিক মহড়া চালায়।

যদিও শুধু কিং ফয়সাল গেট বন্ধ রাখা হয়েছিল, তবে মসজিদের অন্যান্য প্রবেশপথেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এর ফলে মুসল্লিদের স্বাভাবিকভাবে মসজিদে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে ইসরাইলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিধিনিষেধ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে নিরাপত্তার অজুহাতে ইসরাইল নজিরবিহীনভাবে ৪০ দিনের জন্য আল-আকসা মসজিদ বন্ধ করে দেয়।
সে সময় ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের জুমার নামাজ, রমজানের রাতের তারাবির নামাজ এবং ঈদুল ফিতরের নামাজে অংশ নেয়ার জন্য মসজিদে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা ওই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এটি নিরাপত্তাজনিত প্রয়োজন নয়; বরং আল-আকসা মসজিদের ইসলামী পরিচয় ক্ষুণ্ন করে সেখানে “ইহুদিকরণ” এগিয়ে নেয়ার একটি প্রচেষ্টা।
ফিলিস্তিনের আওকাফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, জুন মাসে ইসরাইলি বাহিনী ২৬ বার আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে অভিযান চালায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে ৪ হাজার ২১২ জন ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আল-আকসা মসজিদ একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত “স্ট্যাটাস কো” ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। এই ব্যবস্থায় পুরো ১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গমিটার এলাকা জর্ডানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের অধীনে। এর মধ্যে রয়েছে ডোম অব দ্য রক, কিবলি মসজিদ, আশপাশের প্রাঙ্গণ, ফটক ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলো।

এই ব্যবস্থায় নির্ধারিত সময়ে অমুসলিমরা স্থানটি পরিদর্শন করতে পারলেও সেখানে নামাজ আদায়ের অধিকার শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত। পাশাপাশি স্থাপনাটির রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশাসন ও ধর্মীয় বিষয়গুলোও ওয়াকফ কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করে।
ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর থেকে ইসরাইল ধীরে ধীরে ‘স্ট্যাটাস কো’ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে আসছে।

তাদের দাবি, মুসল্লিদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইসরাইলি উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওয়াকফের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সীমিত করা, কর্মীদের অনুমতিপত্র বাতিল এবং দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সেখানে ইহুদিদের প্রার্থনার সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা আরও খর্ব করা হয়েছে।

গত মে মাসে মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে দাবি করে, আল-আকসা মসজিদের ওপর জর্ডানের ঐতিহাসিক অভিভাবকত্ব (কাস্টডিয়ানশিপ) বাতিলের লক্ষ্যে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তবে ওয়াশিংটন এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD