বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪১ অপরাহ্ন




এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা হঠাৎ ক্ষুব্ধ কেন, নেপথ্যে যত কারণ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬ ৩:০৫ pm
HSC এইচএসসি class room school college বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ class room school college ক্লাশ রুম স্কুল কলেজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এসএসসি class student পরীক্ষা এইচএসসি পরীক্ষার্থী student ফল ফলাফল file pic class room school college বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ class room school college ক্লাশ রুম স্কুল কলেজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এসএসসি class student পরীক্ষা এইচএসসি পরীক্ষার্থী student ফল ফলাফল file pic
file pic

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ কয়েকটি দাবিতে মঙ্গলবার রাজপথে নামেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এদিন বেলা ১১টা থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। দিন গড়িয়ে রাত নামলেও ঘরে ফেরেননি অসংখ্য পরীক্ষার্থী। দাবি আদায়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে রাত ১০টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি করেন তারা।

এরপর ‌‘আপাতত’ কর্মসূচি স্থগিত করে ঘরে ফিরলেও মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে অনড় রয়েছেন তারা। এ দাবি আদায়ে বুধবার (১৫ জুলাই) পরীক্ষা শেষে ফের মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। এদিন ‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি করার কথা রয়েছে পরীক্ষার্থীদের।

জানা যায়, ঢাকার পাঁচটি স্পটসহ দেশের অন্তত অর্ধশত এলাকায় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন পরীক্ষার্থীরা। এতে অভিভাবক, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও অংশ নিতে দেখা যায়।

হঠাৎ এতবড় বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে সরকারও। প্রধানমন্ত্রী খোদ শিক্ষামন্ত্রীকে ডেকে বৈঠক করেছেন। সেখান থেকে বেরিয়ে সোমবারের পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে নেওয়ার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি সংসদে নিঃশর্তভাবে ক্ষমাও চেয়েছেন। তারপরও থামেননি আন্দোলনকারী। রাত ১০টা পর্যন্তও তারা সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান করছিলেন।

পরীক্ষার্থীদের এমন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ শিক্ষা বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, ‘একটি পরীক্ষা ঘিরে এতবড় ঘটনা ঘটবে, তা তাদের বোধগম্য নয়।’

তবে শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ এবং পরীক্ষার্থীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় তারা মাঠে নামলেও নেপথ্যে রয়েছে আরও কিছু কারণ। ভুল ও তুলনামূলক কঠিন প্রশ্নপত্র, হঠাৎ করে সব বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন পরীক্ষার্থীরা।

দেশে মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ড। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ৯টি। বোর্ডগুলোতে একই পাঠ্যবই ও সিলেবাস থাকলেও প্রশ্নপত্র তৈরি করা হতো ভিন্ন। একেক বোর্ডে একেক প্রশ্নপত্র থাকতো। দীর্ঘদিন ধরেই চলছে এ নিয়ম।

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর এপ্রিল-মে মাসের দিকে হঠাৎ ৯টি সাধারণ বোর্ডে একক বা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দেন। তার নির্দেশনায় তড়িঘড়ি করে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে বোর্ডগুলো।

কিন্তু সরকারের এমন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তাদের কলেজে নির্বাচনি পরীক্ষা শেষের পর অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। ঘোষণার পর মাত্র দেড় থেকে দুই মাস শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতির সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র কেমন হবে, তা নিয়ে ট্রমায় পড়ে যান তারা।

রাজধানীর তেজগাঁও মহিলা কলেজের একজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘আগে ৯টি বোর্ডে ৯ রকম প্রশ্নপত্র হতো। আমরা যারা ঢাকা বোর্ডের তারা বিগত সালের বোর্ড প্রশ্নগুলো অনুসরণ করতাম। ২০২৫ সালে ঢাকা বোর্ডে যেসব চ্যাপ্টার থেকে প্রশ্ন এসেছে, সেটা ২০২৬ সালের পরীক্ষায় আসবে না ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নেওয়া হতো। সেভাবে কমনও আসতো।’

তিনি বলেন, ‘হঠাৎ অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালু করায় এখন আর গত বছর যা এসেছে, এবার তা আসবে না- পদ্ধতি ঠিক নেই। আবার আমরা যারা পরীক্ষা দিচ্ছি, তারা অভিন্ন প্রশ্নপত্রের কথা জানার পর প্রস্তুতি নেওয়ার পর্যাপ্ত সময়ও পাইনি। এতে শেষসময়ে প্রস্তুতির ঘাটতি হয়ে গেছে।’

আমার টার্গেট বুয়েটে ভর্তি হওয়া। বুয়েটে ভর্তি হতে পদার্থবিজ্ঞানে কমপক্ষে ৮০ নম্বর পেতে হবে। কিন্তু আমি পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্র পরীক্ষায় যেভাবে লিখেছি, তাতে ৮০ নম্বর পাবো কি ন, তা নিয়ে সন্দিহান। সেজন্য ভাবছি, এবার আর পরীক্ষা দেবো না। প্রয়োজনে পরবর্তী বছর পরীক্ষা দেবো।- পরীক্ষার্থী, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, ঢাকা

ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিকে ক্লাস নেওয়া একজন প্রভাষক বলেন, ‘হঠাৎ সব বোর্ডে একই প্রশ্নপত্র করার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এ নিয়ে ওদের মনে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। সেটারও বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। সরকারের যে কোনো সিদ্ধান্ত বদল করতে সময় নেওয়া উচিত। শিক্ষার্থীদের নতুন নিয়মের বেড়াজালে ঢোকানোর আগে পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করতে হবে। সেটা না হওয়ায় তাদের পরীক্ষা খারাপ হচ্ছে। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।’

পদার্থবিজ্ঞানে ‘ভুল’ প্রশ্নে হতাশায় পরীক্ষার্থীরা
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য যে কয়টি বিষয়ের পরীক্ষা চ্যালেঞ্জিং, তার মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান একটি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার দিনে এ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তার ওপর ১০ নম্বর করে ২০ নম্বরের দুটি প্রশ্ন ভুল দেওয়া হয়েছে। এতে খুব ভালো প্রস্তুতি নেওয়া ছাত্র-ছাত্রীরাও চরম বিপাকে পড়েছেন।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভুল প্রশ্ন দুইটির কারণে তাদের প্রচুর সময় নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি ৫০ নম্বরের মধ্যে ২০ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর করতে না পেরে তারা ট্রমায় ভুগেছেন। এর প্রভাবে কমন আসা প্রশ্নগুলোরও সঠিকভাবে উত্তর লিখে শেষ করতে পারেননি।

শিক্ষকরা জানান, পদার্থবিজ্ঞানে মূলত ৫০ নম্বরের লিখিত (সিকিউ) এবং ২৫ নম্বরের বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) প্রশ্ন থাকে। সিকিউ অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ২৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়। এ অংশে ৮টি প্রশ্নের মধ্যে ৫টির উত্তর করতে হয়। প্রতিটি প্রশ্নে ১০ নম্বর থাকে। সিকিউ অংশের দুটি ভুল প্রশ্ন থাকায় তা সমাধান করতে প্রচুর সময় নষ্ট করেছেন অধিকাংশ শিক্ষার্থী। এতে তারা অন্য প্রশ্ন সমাধানে সময় দিতে পারেননি।

রাজধানীর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের এক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘আমার টার্গেট বুয়েটে ভর্তি হওয়া। বুয়েটে ভর্তি হতে পদার্থবিজ্ঞানে কমপক্ষে ৮০ নম্বর পেতে হবে। কিন্তু আমি পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্র পরীক্ষায় যেভাবে লিখেছি, তাতে ৮০ নম্বর পাবো কি ন, তা নিয়ে সন্দিহান। সেজন্য ভাবছি, এবার আর পরীক্ষা দেবো না। প্রয়োজনে পরবর্তী বছর পরীক্ষা দেবো।’

চলতি বছর এইচএসসির বাংলা প্রথমপত্রের বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) অংশের প্রশ্নপত্রও তুলনামূলক কঠিন হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীরা বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা দিয়ে অনেকেই হতাশার কথা জানান। ভালো প্রস্তুতি থাকা শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষাটির প্রশ্ন কঠিন হয়েছে বলে জানান।

১১ জুলাই অনুষ্ঠিত তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ের প্রশ্নপত্রও তুলনামূলক কঠিন হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। এ পরীক্ষা শেষেও শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্র কঠিন করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেন।

বিষয়টি নিয়ে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘প্রশ্ন কারও কাছে কঠিন লাগতে পারে, কারও কাছে সহজ হতে পারে। এটা অবস্থান ও পরিবেশভেদে ভিন্ন হয়। কিন্তু এবার সব বোর্ডে একই প্রশ্নপত্র দেওয়ায় শহরের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রামের শিক্ষার্থীদের ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি শহরের অপরিচিত অনেক কলেজের বা প্রস্তুতিতে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের অনেকেও প্রশ্নপত্রের সমাধান ঠিকভাবে করতে পারছেন না।’

এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা দ্রুত শেষ করতে সময়সূচিতে একটি পরীক্ষা থেকে আরেক পরীক্ষার মাঝেও বিরতি (গ্যাপ) কম রাখা হয়েছে। নিয়েও ক্ষোভ জানিয়ে আসছেন পরীক্ষার্থীরা। এমনকি এ বছর সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারও পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

বিগত বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি, বন্যা ও ঝড় অথবা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে সঙ্গে সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হতো। কিন্তু এবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডগুলো পরীক্ষা স্থগিতে বেশি ভাবছে। এতে শুধু প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা নয়, খোদ রাজধানী ঢাকা শহরের শিক্ষার্থীরাও বিপাকে পড়েছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ বেশি শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, আগে বৃহস্পতিবার পরীক্ষা নেওয়ার পর আবার রোববার পরীক্ষা হতো। কিন্তু এবার বৃহস্পতিবার পরীক্ষার পর মাঝে মাত্র একদিন বিরতি দিয়ে শনিবার পরীক্ষা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্য দিনগুলোতেও একদিন পরপর পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সুলতানা শারমিন শিক্ষামন্ত্রীর একটি পোস্টের নিচে লিখেছেন, ‘ইংরেজি, উচ্চতর গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও আইসিটি পরীক্ষার আগে মাত্র একদিন ছুটি। এভাবে কি আগে কখনো এইচএসসি পরীক্ষা রুটিন করা হয়েছে? তা না হলে আমাদের ক্ষেত্রে কেন করা হলো? আমরা প্রস্তুতি তো নিয়েছি, কিন্তু রিভাইস করার জন্য একটা দিনও পাচ্ছি না। এটা কেমন রুটিন?’

বিগত বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি, বন্যা ও ঝড় অথবা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে সঙ্গে সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হতো। কিন্তু এবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডগুলো পরীক্ষা স্থগিতে বেশি ভাবছে। এতে শুধু প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা নয়, খোদ রাজধানী ঢাকা শহরের শিক্ষার্থীরাও বিপাকে পড়েছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ বেশি শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষকরা জানান, অভিন্ন প্রশ্নপত্র, রুটিনে বিরতি না রাখার সিদ্ধান্তে আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিল পরীক্ষার্থীরা। ১৩ জুলাই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা নেওয়ায় এবং সেদিনই পদার্থবিজ্ঞানে ভুল প্রশ্নে ক্ষোভ রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটেছে। তাতে ঘি ঢেলেছে মন্ত্রীর বিরূপ মন্তব্য। সব ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে দুর্যোগের দিনে কেন্দ্রে যেতে ভোগান্তির চিত্র।

বাংলাদেশ অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু বলেন, ‘বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল মহাভুল। সেই ভুলের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বোর্ড ও সরকারের নমনীয় হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়াটাই উচিত ছিল। অথচ তার মধ্যেই শিক্ষার্থীদের নিয়ে মন্ত্রীর বিরূপ মন্তব্য ভাইরাল হয়। শিক্ষামন্ত্রীর অতিকথন শিক্ষার্থীদের এ ক্ষোভ বাড়িয়েছে। ওনার উচিত অতিকথন পরিহার করে দূরদর্শিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা।’

পরীক্ষাকে শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বানিয়ে ফেলায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় পরীক্ষাই যেন সব। শেখাটাকে তেমন গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয় না। এ কারণে সরকারও তড়িঘড়ি পরীক্ষা নিতে ব্যস্ত। শিক্ষার্থী-অভিভাবকও পরীক্ষা খারাপ হলেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন।’

ড. মনজুর আহমেদের মতে, সব বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রসহ যেসব সিদ্ধান্ত হঠাৎ নেওয়া হয়েছে, তাতে শিক্ষার উন্নতি হয় না। বরং বিশৃঙ্খলার ‍সৃষ্টি হয়। এ শিক্ষাবিদ বলেন, ‘পরীক্ষার আয়োজন ও প্রশ্নপত্র প্রণয়নসহ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। তাহলে পরীক্ষা ঘিরে প্রতিবছর এমন বিশৃঙ্খলা এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক ড. মজিবুর রহমানও একই মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সব বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তটা ইতিবাচক। কিন্তু শেষসময়ে কেন? এ নিয়মটা অনেকটা চাপিয়ে দেওয়ার মতো হয়েছে।’

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘একাদশে ভর্তির পর এইচএসসির একটি সিলেবাস দেয় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সেই সিলেবাসই শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়, তার নিয়মেই পরীক্ষা হওয়ার কথা। কিন্তু শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতি নিল একরকম সিলেবাস ও নিয়মে, কিন্তু প্রশ্নপত্র হলো অন্য নিয়মে। এটা কোনো শিক্ষাব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অন্তত এক বছর আগে তাদের পরীক্ষার নিয়ম ও প্রশ্নপত্রের পদ্ধতি জানিয়ে দেওয়া উচিত।’

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আমি কয়েকমাস আগে দায়িত্ব নিয়েছি। এবার যে প্রশ্নপত্র ও নিয়মে পরীক্ষা হচ্ছে, সেটা আমি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই ঠিক ছিল। আমি দায়িত্বে এসে শুধু পরীক্ষা আয়োজনের শেষসময়ের প্রস্তুতিটুকু নিয়েছি।’

সিলেবাস ও পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা সাধারণত এনসিটিবি করে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সঙ্গে আমরা সমন্বয় করি। আগামীতে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের আগেই সিলেবাস ও পরীক্ষার নিয়ম জানানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের দপ্তরর সঙ্গে যোগাযোগ করে শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় করবে, যেন আর কোনো ঝামেলার সৃষ্টি না হয়।’ জাগো নিউজ




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD