১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরপরই স্যার এএফ রহমানের উদ্যোগে মুসলিম হল, জগন্নাথ হল ও ঢাকা হলে ছাত্র সংসদ গঠন করা হয়। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানোই ছিল এসব সংসদ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৯২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে গঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ, যা পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নামে পরিচিতি পায়। পরবর্তী সময়ে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্র সংসদ গড়ে ওঠে।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের প্রায় সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এসব ছাত্র সংসদ সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়েই অনেক জাতীয় নেতার নেতৃত্ব বিকশিত হয়েছে। তবে স্বাধীনতার পর থেকে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ক্রমেই অনিয়মিত হয়ে পড়ে।
দীর্ঘ বিরতির পর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ২০২৫ সালে চার স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—ডাকসু, রাকসু, চাকসু ও জাকসুতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে প্রথমবারের মতো নির্বাচন হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদেও (জকসু)। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আগামী দুই মাসের মধ্যে জকসু ব্যতীত বাকি চার সংসদের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। আর জকসুর মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের জানুয়ারিতে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে নতুন নির্বাচন আয়োজন করা হবে কিনা, তার ওপরই নির্ভর করছে ছাত্র সংসদগুলোর ভবিষ্যৎ। চলতি বছর নির্বাচন হলে নিয়মিত নির্বাচনের ধারাবাহিকতা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যথায় ফিরে আসতে পারে দীর্ঘদিন নির্বাচন বন্ধ রাখার পুরনো সংস্কৃতি।
দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ হিসেবে যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। শতাধিক বছরের ইতিহাসে এ সংসদ থেকে উঠে আসা অনেক নেতা পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন। স্বাধীনতার পর নির্বাচিত ডাকসু নেতাদের মধ্যে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, মাহমুদুর রহমান মান্না ও আমান উল্লাহ আমান অন্যতম। ২০১৯ সালের নির্বাচনে ভিপি হওয়া নুরুল হক নুর এবং সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হয়েছেন। তবে নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ১০৩ বছরে ডাকসু নির্বাচন হয়েছে মাত্র ৩৮ বার। এর মধ্যে ১৯৭১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নির্বাচন হয়েছে নয়বার। বিশেষ করে ১৯৯০ সালের পর নির্বাচন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ওই বছর থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নির্বাচন হয়েছে মাত্র দুবার—২০১৯ সালে এবং ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর। গঠনতন্ত্রের ৬ ধারা অনুযায়ী ডাকসুর মেয়াদ ৩৬৫ দিন। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হলে মেয়াদ সর্বোচ্চ ৯০ দিন বাড়ানো যাবে। এর মধ্যেও নির্বাচন না হলে সংসদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে।
সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস এবং ১২টি সম্পাদক পদের মধ্যে ৯টিতে জয় পেয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের’ প্রার্থীরা। ডাকসুর পরবর্তী নির্বাচনের বিষয়ে বর্তমান ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও উপাচার্যের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, চলতি অর্থবছরের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। আমরা সিনেটের বার্ষিক বাজেট অধিবেশনেও বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছি এবং ইউজিসির সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছি। আমরা চাই, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক এবং নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে নেতৃত্বের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হোক।’
সময়মতো নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছে অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতারাও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্য সেন হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন প্রান্ত বলেন, ‘পূর্ববর্তী ডাকসু নির্বাচন তুলনামূলক গণতান্ত্রিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে দেখেছি। যদিও সে সময়কার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও উপাচার্যের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও প্রশ্নও উঠেছিল। আমার বিশ্বাস, অতীতের মতো ডাকসু নির্বাচন দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে থাকবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করবে।’
ডাকসু দ্রুত আয়োজনের দাবি জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি অতীতের মতো ডাকসু নির্বাচন আবারো অনিয়মিত হয়ে যাবে না। অতীতের সরকারগুলোর মধ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রাখার যে চর্চা ছিল সেটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে। সরকারের উচিত এটি কাজে লাগানো। যদিও এখন পর্যন্ত আমরা এ বিষয়ে তাদের ইতিবাচক উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি না। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তফসিল হওয়া সত্ত্বেও ছাত্রদলের বাধার মুখে ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গঠিত ডাকসুসহ অন্যান্য সংসদের মেয়াদ শেষের পথে থাকলেও নতুন নির্বাচনের উদ্যোগ নেই। এটি আসলে নব্বইয়ের দশকে শুরু হওয়া নির্বাচন বন্ধের ধারাবাহিকতারই আভাস দিচ্ছে।’
নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা না গেলে সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনও অর্থহীন হবে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মেঘমল্লার বসু। তিনি বলেন, ‘ডাকসু শুধু কিছু নেতা তৈরির কেন্দ্র নয় বরং এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান, তাদের অধিকার নিয়ে সরব হওয়ার প্রতিষ্ঠান। তাই ডাকসুর প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জনে নিয়মিত নির্বাচন আয়োজনের বিকল্প নেই।’
দেশের দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ হিসেবে ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন। পরে এর নামকরণ করা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। প্রতিষ্ঠার ৬২ বছরে রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র ১৭ বার। নব্বইয়ের দশকের পর দীর্ঘদিন এ নির্বাচন বন্ধ ছিল। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ নিরঙ্কুশ জয় পায়। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৩টি পদের মধ্যে ২০টিতেই জয়ী হন জোটটির প্রার্থীরা। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্তমান রাকসুর মেয়াদ আগামী অক্টোবরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
পরবর্তী নির্বাচনের বিষয়ে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘রাকসু নির্বাচন নিয়মিত হওয়া অবশ্যই দরকার। তা না হলে ক্যাম্পাসে ফ্যাসিস্ট তৈরি হয়, হল দখল হয়, সিট বাণিজ্য হয়, শিক্ষার্থীদের নানাবিধ সমস্যা হয়। তবে পরবর্তী নির্বাচনের ব্যাপারে আয়োজক গোষ্ঠীর খুব বেশি ইচ্ছা দেখছি না, যা নির্বাচন নিয়ে আসলে শঙ্কা তৈরি করে।’
সময়মতো রাকসু নির্বাচন চান বলে জানিয়েছেন রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, এক মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেক মেয়াদের নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হোক। অতীতের মতো দীর্ঘদিন নির্বাচন বন্ধ থাকার শঙ্কা তৈরি না করে রাকসুকে একটি নিয়মিত ও কার্যকর ছাত্র সংসদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তাই এখন থেকেই পরবর্তী নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে ভাবা জরুরি।’
তবে রাকসুর পরবর্তী নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন রাকসুর সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সবকিছুই নির্ভর করবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিস্থিতির ওপর। আমরা চাই শিক্ষার্থী প্রতিনিধি থাকুক। শিক্ষার্থী প্রতিনিধি থাকলে তারা শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবে।’
৩৩ বছর পর গত বছর ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন। জাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাকসুর মেয়াদও শেষ হবে আগামী সেপ্টেম্বরে। জাকসু প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭২ সালে। এরপর ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৫৩ বছরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১০ বার। ২০২৫ সালের আগে সর্বশেষ জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯২ সালে।
আগামী নির্বাচনের বিষয়ে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘খুব শিগগির বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পরবর্তী জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তফসিল ঘোষণার দাবি করা হবে। আমরা আশা করছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করবে না। তবে আমাদের শঙ্কা রয়েছে, দলীয় সরকার তাদের স্বার্থগত কারণে নির্বাচন নিয়ে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘বর্তমানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সরকার পরিচালনা করছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচনের কথা বলেছে সরকার। তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে গণতান্ত্রিক সরকারের সহায়তা ও সম্মতি প্রয়োজন হবে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দেখতে হবে। সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে স্পষ্ট বলা যাবে।’
১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরপরই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) গঠিত হয়েছিল। ১৯৭৩ সালের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, প্রতি বছর চাকসু ও হল সংসদের নির্বাচনের নিয়ম রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৯ বছরের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত চাকসু নির্বাচন হয়েছে মাত্র সাতবার। সর্বশেষ দীর্ঘ ৩৫ বছর পর গত বছর ১৫ অক্টোবর চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যার মেয়াদ আগামী অক্টোবরে শেষ হতে যাচ্ছে।
আগামী সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, ‘চাকসু কার্যনির্বাহী পরিষদের সব মিটিংয়ে পরবর্তী নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা হিসেবে রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও আমাদের আগামী তিন মাসের মধ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে। নির্বাচন নিয়ে কোনো গড়িমসি হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আমরা আন্দোলনে যাব।’
তবে চাকসু নির্বাচন সময়মতো আয়োজনের আশাবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সংশয় নেই। নির্বাচনের জন্য আরো দুই-আড়াই মাস সময় রয়েছে। ফলে নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুতির সময় আসেনি। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে কী হচ্ছে জানি না, চাকসু নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আমরা আশাবাদী।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সহসভাপতি ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতের যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে নির্ধারিত সময়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন জরুরি বলে মনে করেন তিনি। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকে এবং ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ নেতৃত্ব তৈরি হয়। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়া জরুরি। অতীতে আমরা ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রাখার একটি সংস্কৃতি দেখেছি। এটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য নয়, জাতীয় রাজনীতির জন্যও নেতিবাচক ছিল। আমি আশা করি, সেই সংস্কৃতি আর ফিরে আসবে না।’
তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সরকার ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দিকে মনোযোগ দিতে পারছে না বলে মনে করেন সাবেক এ ডাকসু নেতা। তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এর প্রভাবে দেশেও বিভিন্ন সংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কেউ নির্বাচনের দিকে নজর দিতে পারছে বলে আমার মনে হয় না। তবে নির্বাচন অবশ্যই হওয়া উচিত। পাশাপাশি যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি, সেগুলোর বিষয়েও উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।’ বণিক বার্তা
প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন বণিক বার্তার ঢাবি, জাবি, রাবি প্রতিনিধি এবং নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ব্যুরো