সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন




অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ৮:৪৬ pm
Bangladesh Cricket board bcb বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি টেস্ট ক্রিকেট Test cricket
file pic

২৩ বছরের পুরোনো গল্পটা এবার বদলে দিল বাংলাদেশ। যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এতদিন জয় বা ড্র ছিল অধরা, সেই অস্ট্রেলিয়াকেই ডারউইনে হারিয়ে ইতিহাস লিখল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটাই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। পুরো ক্রিকেট বিশ্বের জন্য বাংলাদেশের পরিস্কার এবং শক্তিশালী একটা বার্তা।

ম্যাচের তৃতীয় দিনেই জয়ের ভিতটা শক্ত করে ফেলেছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ দিন লাঞ্চের পর শুধু শেষ পেরেকটা ঠোকার অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট করে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য। ছোট্ট সেই পথ পেরোতে অবশ্য শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম ফিরেছেন শূন্য রানে।

তাতে অবশ্য জয়ের পথে কোনো বাধা তৈরি হয়নি। সাদমান ইসলামকে পাশে নিয়ে মুমিনুল হক ঠান্ডা মাথায় বাকি কাজটা শেষ করেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ ৯ উইকেটে। মুমিনুলের ব্যাটে জয়সূচক রান আসার সঙ্গে সঙ্গে ডাগআউট পুরো বাংলাদেশ দল আনন্দ উদযাপনে আত্মহারা। মারারা স্টেডিয়ামের গ্যালারির এক কোণে প্রবাসীরা তখন গলা ফাটাচ্ছেন বাংলাদেশ বাংলাদেশ ধ্বনিতে।

এই জয়ের নায়ক বাংলাদেশের বোলাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, চতুর্থ ইনিংসে চাপের মুখে স্পিন কতটা ভয়ংকর হতে পারে। হাসান মাহমুদ নিয়েছেন ৩ উইকেট। পুরো ম্যাচে তার শিকার ৯ উইকেট। দুই ইনিংসেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের পরীক্ষা নিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরি তাদের ইনিংস পরাজয়ের লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো বড় পুঁজি এনে দিতে পারেনি। ২৮৪ রানেই থেমে যায় অস্ট্রেলিয়ার লড়াই।

সিরিজ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়াই ছিল পরিষ্কার ফেভারিট। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল তারা। বাংলাদেশ সেখানে নয় নম্বরে। র‌্যাঙ্কিংয়ের সেই বিশাল ব্যবধানকে মাঠে মুছে দিল শান্তর দল। ডারউইনের চারদিনে বারবার মনে হয়েছে, র‌্যাঙ্কিং নয়, ক্রিকেটটা খেলছে বাংলাদেশই। GeographicReference

প্রথম দিন প্রথম বল থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল বাংলাদেশ। ব্যাটে, বলে, ফিল্ডিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে এক মুহূর্তের জন্যও স্বস্তি দেয়নি তারা। অথচ সিরিজ শুরুর আগে শান্ত বলেছিলেন, ম্যাচটাকে পঞ্চম ও শেষ দিন পর্যন্ত নিয়ে যেতে চান। বাস্তবতা ছিল একেবারেই ভিন্ন। অস্ট্রেলিয়াই পঞ্চম দিনে যেতে পারল না!

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরেছিল বাংলাদেশ। সেই ফেরা যে ইতিহাস হয়ে যাবে, হয়তো কেউ ভাবেনি। কিন্তু ডারউইনে বাংলাদেশ শুধু একটি টেস্ট জেতেনি। তারা বদলে দিয়েছে নিজেদের গল্পও।

এবার সেই গল্পে লেখা থাকবে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও বাংলাদেশ পারে।

দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে ১-০ ব্যবধানে। সামনে আরও একটি টেস্ট। ইতিহাসের দরজা একবার খুলেছে। এবার সেটি আরও বড় করে খোলার পালা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া: ১৯৮ ও ২৮৪ (গ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪, লাবুশেন ৩১, ক্যারি ৩০, স্টার্ক ১৮, লায়ন ১৫; মিরাজ ৫/৬৬, হাসান ৩/৫৬, তাসকিন ১/৬৬, তাইজুল ১/৫১, ইবাদত ০/৩৮)

বাংলাদেশ: ৪২৬ ও ১/৫৭ (মুমিনুল ৩০, সাদমান ২৫, তানজিদ ০; হ্যাজলউড ১/৫, স্টার্ক ০/১৫, লায়ন ০/২৩)।

ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ অব দ্য ম্যাচ: হাসান মাহমুদ।

বাংলাদেশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিশ্ব মিডিয়া

ইতিহাস গড়ে ডারউইনে টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ দল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে গিয়ে তাদের মাটিতে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে টাইগাররা। জয়টাও এসেছে দাপুটে রূপে। এই টেস্টে একবারের জন্য নিয়ন্ত্রণ হারায়নি নাজমুল হোসেন শান্তর দল। নয় উইকেটের বড় জয়টি সাদা পোশাকে অজিদের বিপক্ষে দ্বিতীয় জয়। সেইসঙ্গে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে সফরকারী বাংলাদেশ। টাইগারদের এমন দাপুটে পারফরম্যান্সকে প্রশংসায় ভাসিয়েছে বিশ্ব মিডিয়া।

বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল তাদের ওয়েবসাইটে সংবাদের শিরোনাম করেছে, ‘অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রথম টেস্ট জয়।’ ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েব পোর্টাল ক্রিকইনফো শিরোনাম করেছে, ‘মেহেদীর ফাইফারে ভর করে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় পেলো বাংলাদেশ।’ ক্রিকেট বিষয়ক অন্য একটি পোর্টাল ক্রিকবাজের শিরোনাম, ‘মেহেদীর ফাইফার: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রথম টেস্ট জয়।’ অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম ফক্স স্পোর্টসের শিরোনাম, ‘ক্যামেরন গ্রিনের শতক সত্ত্বেও ইতিহাস গড়লো ‘মিনোজ’ দল, লজ্জায় পড়লো অস্ট্রেলিয়া।’

বাংলাদেশের জয়ের পর ক্রিকেটারদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফোনকলের বিষয়টি তুলে ধরে সিডনি মর্নিং হেরাল্ড শিরোনামে লিখেছে, ‘বাংলাদেশ পেলো প্রধানমন্ত্রীর ফোনকল: নতুন প্রতিভার খোঁজে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট মহল।’ ক্রিকেট ডট কম ডট এইউ শিরোনামে করেছে, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক ও বড় ব্যবধানে টেস্ট জয়ে বাংলাদেশের উল্লাস।’ দ্য অস্ট্রেলিয়ান এক খবরের শিরোনামে লিখেছে, ‘বাংলাদেশের কাছে ডারউইনে ঐতিহাসিক হারের পর অস্ট্রেলীয় দলে কারও জায়গা নিশ্চিত নয়’। নিউজ ডট কম ডট এইউর শিরোনাম, ‘অস্ট্রেলিয়া লজ্জায়, বড় সংকটের আভাস’। বৃটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান প্রতিবেদন ছেপেছে, ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও দুর্দান্ত টেস্ট জয়ে অস্ট্রেলিয়া অপমানিত’- এই শিরোনামে। বিবিসি স্পোর্ট লিখেছে, ‘অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়।’ ভারতের প্রখ্যাত দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার শিরোনাম, ‘অস্ট্রেলিয়াকে চমকে দিয়ে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ, অজিদের মাটিতে পেলো প্রথম টেস্ট জয়।’

আরেক ভারতীয় দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমস অনলাইনের শিরোনাম, ‘ডারউইনে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ: হাসান মাহমুদ ও মেহেদী মিরাজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়াকে চমকে দিয়ে স্মরণীয় জয়, অজিদের জন্য ‘সতর্কবার্তা’। দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইনের শিরোনাম, ‘অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়: নয় উইকেটে অজিদের উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ।’ ভারতের কলকাতার সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার শিরোনামে লিখেছে, ‘অসাধ্যসাধন’ বাংলাদেশের! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অজিদের বিরুদ্ধে প্রথম জয়, ক্রিকেটের অন্যতম বড় অঘটন

পাকিস্তানের বিখ্যাত গণমাধ্যম দ্য ডনের শিরোনাম, ‘অদম্য বাংলাদেশের ইতিহাস: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়।’ পাকিস্তানের আরেক গণমাধ্যম জিও সুপারের শিরোনাম, ‘এশিয়ার জায়ান্টদের পেছনে ফেলে অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে কম ম্যাচে টেস্ট জয়ের রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশ।’ ডেইলি মেইল শিরোনাম করেছে, ‘অস্ট্রেলিয়ার ভঙ্গুরতা ফাঁস: বাংলাদেশের কাছে অজিদের লজ্জাজনক হার এবং আসন্ন অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের আশার আলো দেখছেন লরেন্স বুথ।’




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD