বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ন




সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’: প্রধানমন্ত্রী

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬ ৭:১৭ pm
tariq Tarique Rahman Tarique Rahman তারেক রহমান Bangladesh Nationalist Party BNP ‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি tarek-rahman tarek-Parla
file pic

দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, প্রান্তিক কৃষক এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমান সরকারের পর্যায়ক্রমিক সব কল্যাণমুখী নাগরিক সুবিধা একটি একক কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং প্রথম বাজেট সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র যদি তার নাগরিকদের দায় মেটাতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ এবং রাষ্ট্র উভয়ই দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড কিংবা ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের জন্য দেওয়া বিশেষ কার্ডের মতো সুযোগ-সুবিধাগুলো জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের কোনো করুণা বা দয়া নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের পরম দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই ভবিষ্যতে আলাদা আলাদা সব কার্ডের সমন্বয়ে এই সর্বজনীন বা ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা একক পরিচয় ও কার্ডে সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন।

এসময় দেশের কৃষিখাত ও প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার এবং যন্ত্রণার কথা বিশদভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই দেশের অধিকাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়ন অসম্ভব। সে কারণেই বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশের আপামর কৃষকদের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। প্রতিশ্রুতিটি ছিল, যদি দলটি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হয়, তবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া থাকা সব কৃষকের কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে সংসদকে অবহিত করে বলেন, সরকার গঠন করার পর প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রথম ও প্রধান সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষক- যাদের ঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল, তাদের সুদসহ বকেয়া ঋণ সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো কাগুজে পরিকল্পনা নয়, বরং এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে এর সুফল কৃষকরা ভোগ করতে শুরু করেছেন। সরকার পরিচালনার মূল লক্ষ্যই যে দেশের সাধারণ মানুষ, এই পদক্ষেপ তারই চাক্ষুষ প্রমাণ।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের একটি বড় অংশজুড়ে সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচির গুরুত্ব এবং এই প্রক্রিয়ায় দেশের সব রাজনৈতিক শক্তির ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি সংসদকে জানান যে, গতকাল যখন একজন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে তার নিজ এলাকায় কবে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে তা জানতে চান, তখন তিনি অত্যন্ত আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। ফ্যামিলি কার্ডের মতো কল্যাণমুখী সামাজিক পলিসিকে সমর্থন জানানোর জন্য তিনি বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দ্বিমত থাকতে পারে। কিন্তু যখন দেশের প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের কথা আসে, তখন সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি এবং বিদেশি তাঁবেদারি রুখতে হলে রাষ্ট্র এবং দেশের জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী এবং শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। আর সেই শক্তিশালীকরণের প্রথম ধাপই হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করা।

দেশের ঋণনির্ভর অর্থনীতি সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়ে একটি টেকসই বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের বিস্তারিত রূপরেখাও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী আমলে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলারের মতো বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে। এই বিপুল অর্থ পাচার ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণেই দেশের সার্বিক অবকাঠামো, রাস্তাঘাট ও জনজীবনের মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কালো অধ্যায় থেকে দেশকে বের করে আনতে বর্তমান সরকার যে কোনো মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরতে বদ্ধপরিকর। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। যেখানে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিকেই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ধরা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, সরকার কেবল যুবসমাজকে ঘরে বসিয়ে না রেখে দেশের বিশাল কর্মক্ষম জনশক্তি সম্পদে রূপান্তর করতে চায়। এই লক্ষ্যে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ, ব্লু ইকোনমি ও ইকোট্যুরিজম খাতে আরও ১০ লাখসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে পর্যায়ক্রমে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এছাড়া যুবসমাজকে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী গড়ে তুলতে দেশজুড়ে বিভিন্ন ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পরিবেশ রক্ষায় একটি বিশাল সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশকে শুধু রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবেই শক্তিশালী করা আমাদের লক্ষ্য নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের ভূমিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বসবাসযোগ্য করে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে স্বেচ্ছাশ্রম এবং সরকারি উদ্যোগে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ বা সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির এক সুবিশাল মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যার সফল বাস্তবায়নে প্রতি বছর গড়ে ৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে। এই প্রকল্পের সফলতার জন্য দেশে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার, যার মাধ্যমে নতুন করে আড়াই লাখ তরুণ-তরুণীর বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রধানমন্ত্রী আনন্দের সঙ্গে জানান, আজ সকালেই তিনি প্রাথমিক স্কুলের বাচ্চাদের একটি অনুষ্ঠানে সশরীরে এবং দেশের বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত হয়ে একযোগে প্রায় ২ লাখ গাছের চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী দেশে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি পরম শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, তিন বছর আগে দেশের প্রতিটি উপজেলা, জেলা ও গ্রাম পর্যায়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ সংলাপ ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে যে ৩১ দফা রূপরেখা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা আজ দেশের মানুষের মুক্তির সনদে পরিণত হয়েছে। বিগত নির্বাচনে দেশের মানুষ এই ৩১ দফার পক্ষে রায় দিয়েছে। যে কারণে এই ৩১ দফা এখন আর কেবল বিএনপির নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা নয়, এটি এখন সমগ্র বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি।

একই সঙ্গে তিনি জানান, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নির্বাচনের পূর্বে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’র প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার অক্ষরে অক্ষরে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগসহ প্রতিটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এই সংসদের সব সদস্য এবং দেশের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করে বৈষম্যহীন, উগ্রবাদমুক্ত এবং একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠা করা হবে বলেও জানান তারেক রহমান।

জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার

জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের চরমপন্থা ও উগ্রবাদ প্রশ্রয় দেয়া হবে না। যেকোনোভাবে দুর্নীতি দূর করতে বদ্ধপরিকর সরকার।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একটি বিশেষ দেশকে সুবিধা দিতে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছিল। ফ্যাসিবাদের দেড় দশকে বিদ্যুৎ খাত থেকেই হরিলুট হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা।

এর আগে, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকেল তিনটায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথম ত্রিশ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নোত্তর পর্ব। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিলো ৭টি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন। এরমধ্যে তিনি নির্ধারিত ত্রিশ মিনিটে তিনটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ও এই সংক্রান্ত সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।

চট্টগ্রাম বন্দরে দুর্নীতি হলে বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার স্ক্যানার ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণে কথিত দুর্নীতির বিষয়ে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, “চট্টগ্রাম বন্দর একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ, জনগণের সম্পদ। এখানে কোনও দুর্নীতি হয়ে থাকলে, যখনই হয়ে থাকুক না কেন, দেশের আইন অনুযায়ী দায়িত্বশীলদের বিচার অবশ্যই হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সরকারের প্রচেষ্টা থাকবে, যেকোনও জায়গায় রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় যেন না হয়। একই সঙ্গে দুর্নীতিমুক্ত একটি পরিবেশ পর্যায়ক্রমে গড়ে তোলা হবে।”

মো. কামাল হোসেন প্রশ্নে বলেন, ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে কনটেইনার স্ক্যানার কেনা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, মামলা হয় এবং তা এখনও বিচারাধীন। বিগত সরকারের সময়ে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার এই অনিয়মের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে— তা জানতে চান তিনি।

এদিকে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকার বে-টার্মিনাল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এবং এটি চালু হলে দেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে।” তিনি বলেন, “বে-টার্মিনাল চালু হলে বড় আকারের মাদার ভেসেল সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারবে। বর্তমানে নাব্যতার সীমাবদ্ধতার কারণে বড় জাহাজ আসতে পারে না। মাদার ভেসেল সরাসরি আসতে পারলে ট্রান্সশিপমেন্ট ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “বে-টার্মিনাল চালু হলে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের গতি বাড়বে। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্ব মন্দা ও কোভিড-১৯ মহামারির মতো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও চট্টগ্রাম বন্দর ২৪ ঘণ্টা সচল ছিল এবং ধারাবাহিকভাবে এর সক্ষমতা বেড়েছে।

তিনি জানান, ২০১০ সালে বন্দরে ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৯৬ হাজার ৬৬৩ মেট্রিক টন কার্গো এবং ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৪৪৮ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে যথাক্রমে ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন এবং ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউসে পৌঁছেছে।

প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল চালু, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, নিয়মিত ক্যাপিটাল ও মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং, ডিজিটালাইজেশন, অনলাইন পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম, ই-পেমেন্ট, ই-গেট পাস, পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো এবং অটোমেশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়াতে নতুন ইকুইপমেন্ট সংগ্রহের উদ্যোগও চলমান রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমীন দুলাল জানতে চান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের তালিকা এবং যারা গণহত্যার শিকার হয়েছেন তাদের তালিকা করা হবে কিনা; এ বিষয়ে শহীদ পরিবারের সঠিক সংখ্যা ও গণহত্যার সঠিক তালিকা প্রকাশ করার কোনও পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা; থাকলে তা কবে নাগাদ শুরু হতে পারে?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অগণিত মানুষ গণহত্যার শিকার হয়েছেন। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও তাদের একটি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। অথচ তাদের এই আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা অর্জন করেছি আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে নিবিড় গবেষণার ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। ওই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে একটি বিস্তারিত ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার এবং সব শহীদের একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেওয়া সম্ভব হবে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD