মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৯ অপরাহ্ন




আজ আসছে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল

পাচার অর্থ উদ্ধারে পাঁচ বিষয়ে গুরুত্ব এপিজির

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬ ৯:৫১ am
ঋণ চুরি টাকা পাচার Per capita income মাথাপিছু আয় Reserves Reserve রিজার্ভ remittance রেমিট্যান্স প্রবাসী আয় ডলার dollar Pagla Mosque পাগলা মসজিদ কোটি টাকা Pagla Mosque পাগলা মসজিদ কোটি টাকা taka taka money laundering illegal process money generated criminal drug trafficking terrorist funding illegally concealing illicit drug trafficking corruption embezzlement gambling converting legitimate source crime jurisdictions আমদানি ওভার ইনভয়েসিং রপ্তানি আন্ডার-ইনভয়েসিং আমদানি-রপ্তানি অবৈধ জাল অর্থ পাচার জিএফআই মানি লন্ডারিং আর্থিক খাত গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বিএফআইইউ হুন্ডি অর্থ পাচার taka
file pic

মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশের সক্ষমতা যাচাইয়ে এবার পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের বাস্তব চিত্রের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিং (এপিজি)। সেজন্য সংস্থাটি পাঁচটি বিষয় খতিয়ে দেখছে। সেগুলো হলো-শুধু আইন ও বিধিমালা রয়েছে কি না, তা নয় বরং সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হওয়ার পর তদন্ত হয়েছে কি না, মামলা হয়েছে কি না, আদালতে দণ্ড হয়েছে কি না এবং পাচার হওয়া সম্পদ শেষ পর্যন্ত জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করা গেছে কি না। এ লক্ষ্যে এপিজি সেক্রেটারিয়েটের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আজ মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় আসছে। কাল বুধবার সচিবালয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও প্রতিনিধিদলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সফরকালে প্রতিনিধিদলটি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের সফর মূলত বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ। ২০২৭ সালে বাংলাদেশের চতুর্থ পারস্পরিক মূল্যায়ন (মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন) সামনে রেখে এই মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ। এপিজির সাম্প্রতিক কর্মসূচি অনুযায়ী, দলটি ১২ থেকে ১৩ আগস্ট বাংলাদেশে অবস্থান করে জাতীয় সমন্বয় কমিটি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কিং কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করবে। এ প্রসঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এটি মূলত ‘প্রি-মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন প্ল্যানিং ভিজিট।’ এই সফরে তারা বাংলাদেশের প্রস্তুতি, দুর্বলতা, সমন্বয় ব্যবস্থা এবং বাস্তব সক্ষমতা যাচাই করবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-কে পুরো মূল্যায়নের লিড এজেন্সি এবং বিএফআইইউ প্রধানকে চিফ কো-অর্ডিনেটর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থায়ও নির্ধারণ করা হয়েছে ফোকাল পারসন। তিনি বলেন, এপিজির মূল্যায়ন মূলত এফএটিএফের (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্স) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হয়। কোনো দেশ দুর্বল অবস্থান (নন-কমপ্লায়েন্ট) হিসাবে চিহ্নিত হলে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো সেই দেশের সঙ্গে লেনদেনে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে।

পাঁচ বিষয়ে জোর : অর্থ পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের কার্যকারিতা যাচাইয়ে পাঁচটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। প্রথমত, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান বাস্তবে কতটা কার্যকর। দ্বিতীয়ত, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন উৎস থেকে সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তা নিয়ে যথাযথ তদন্ত করেছে কি না। তৃতীয়ত, তদন্তের পর কতটি ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং সেসব মামলা কী পর্যায়ে রয়েছে।

চতুর্থত, মামলার বিচার শেষে আদালতে কতটি ঘটনায় দণ্ড হয়েছে। আর পঞ্চম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে-অর্থ পাচারের মাধ্যমে বিদেশে বা দেশে যে সম্পদ তৈরি হয়েছে, তা শনাক্ত, জব্দ, বাজেয়াপ্ত ও শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না। এর অর্থ হচ্ছে শুধু সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করা বা মামলা করার পরিসংখ্যান দিয়ে এবার সন্তুষ্ট হতে চাইছে না এপিজি। অপরাধের অর্থের গতিপথ অনুসরণ করে তা উদ্ধারের সক্ষমতা কতটা তৈরি হয়েছে, সেটিই বড় পরীক্ষার বিষয় হয়ে উঠছে। এদিকে বাংলাদেশ বর্তমানে পাঁচটি ক্ষেত্রে জাতীয় মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঝুঁকি মূল্যায়নের কাজ করছে। এগুলো হলো-মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, গণবিধ্বংসী অস্ত্র বিস্তারে অর্থায়ন, এনজিও ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পাচার এবং ভার্চুয়াল সম্পদ, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল লেনদেনের ঝুঁকি। জুলাইয়ের শেষদিকে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, এসব মূল্যায়নের বড় অংশের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে তা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। মানি লন্ডারিংয়ের ঝুঁকি মূল্যায়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন। সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি মূল্যায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিট কাজ করছে। বিএফআইইউ এনজিও, ভার্চুয়াল সম্পদ ও ডিজিটাল লেনদেনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে চলছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র বিস্তারে অর্থায়নের ঝুঁকি মূল্যায়ন।

এ প্রসঙ্গে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকার যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, সেগুলো অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু এপিজি ও এফএটিএফের মূল্যায়নে আসল বিষয় হবে কার্যকারিতা। তারা দেখতে চাইবে কতটি বড় অর্থ পাচারের ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে, কতটি মামলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে, কতজন অপরাধী সাজা পেয়েছেন এবং কত সম্পদ বাস্তবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী এক বছর হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। কারণ আইন প্রণয়ন নয়, বাস্তব ফলাফলই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান।

(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD