বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ন




সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কবর দেয়া হবে: চিফ হুইপ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬ ৯:৩৯ pm
JS Bangladesh National Parliament Jatiya Sangsad Bhaban House জাতীয় সংসদ ভবন পার্লামেন্ট বাজেট পাস
file pic

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় বাধ্য হয়ে বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই সংসদীয় ও প্রেসিডেন্ট যাবতীয় নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। তবে ভবিষ্যতে সব রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে বিতর্কিত এই ৭০ অনুচ্ছেদের বিলোপ বা ‘কবর’ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষে সংসদের টানেলে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ সার্বিক নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করে জানান, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫টি ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে দেশের মহামান্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

অন্যদিকে বিরোধী দলের জোটের প্রার্থী ড. অলি আহমেদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট। সংবিধান সংশোধন না করে তড়িঘড়ি প্রেসিডেন্টর নির্বাচন আয়োজন সংক্রান্ত বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়েছে, যেভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও আসন পুনর্নির্ধারণ (ডেলিমিটেশন) করা হয়েছে- তা সবই বিদ্যমান সংবিধান মেনে করা হয়েছে।

পরবর্তীতে এই সংবিধান অনুযায়ীই প্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে শপথ নিয়েছেন এবং সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। ফলে বর্তমান কাঠামোতে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় তা মেনে চলা ব্যতীত উপায় ছিল না।

তিনি বলেন, আমরা চাই আগামী নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করে এই ৭০ অনুচ্ছেদের কবর দেওয়া হোক। ভবিষ্যতে যেন ৭০ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই মুক্ত পরিবেশে প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য নির্বাচন সম্পন্ন করা যায়। গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ ও সংসদীয় শিষ্টাচারের গুরুত্ব তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, গত ১৭ বছর ধরে এ দেশের মানুষ ভোট দেওয়া কিংবা সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রকৃত আমেজ থেকে বঞ্চিত ছিল।

এবার ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিরা নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছেন। নির্বাচনে হার-জিত জেনেও বিরোধী দল অংশ নেওয়ায় তাদেরকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার শুভেচ্ছা বিনিময় এবং বিজয়ী প্রার্থীকে পরাজিত প্রার্থীর অভিনন্দন জানানো প্রমাণ করে যে রাজনীতিতে একটি সুস্থ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসছে। স্মুথ ট্রানজিশন বা ক্ষমতার স্বাভাবিক হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভোটাভুটিতে ছয়জন সংসদ সদস্যের অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে ওঠা বিভ্রান্তি দূর করে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, অসুস্থতা ও বিভিন্ন ব্যক্তিগত কারণে মোট ৬ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোট প্রদান করতে পারেননি। অনুপস্থিত সদস্যদের মধ্যে বিএনপি দলীয় তিনজন হলেন- চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাস (পূর্বানুমতি নেওয়া), চট্টগ্রামের চিকিৎসাধীন কামাল পাশা এবং যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন ড. ওসমান ফারুক। এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের সদস্য আব্দুল হান্নান, স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানা এবং গাজী নজরুল ইসলাম নির্বাচনে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD