প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, আমরা সব সময় কর নেট বৃদ্ধির কথা বলি, কিন্তু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কর দিতে চায় না। এটাই বাস্তবতা। সবাই করের আওতায় না এলে কর নেট বৃদ্ধি কীভাবে হবে? ব্যবসায় লাভ করছে, কিন্তু কর দিতে সমস্যা কোথায়? সব জায়গায় অব্যাহতি দিলে কর কোথা থেকে আসবে।
বুধবার (২২ মার্চ) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), দৈনিক সমকাল ও চ্যানেল ২৪ এর যৌথ উদ্যোগে ‘২০২৩-২৪ প্রাক-বাজেট আলোচনা’য় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এসব কথা বলেন।
ডিসিসিআই সভাপতি সামীর সাত্তারের সঞ্চালনায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, এফবিসিসিআই’র সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, সাবেক সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) উপস্থিত ছিলেন।
সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আমদের ট্যাক্স নেট ও জিডিপি বাড়াতে হলে অটোমেশনের বিকল্প নেই। তবে কাঠামোগত কিছু সমস্যা আছে, তা হচ্ছে পরোক্ষ করের নির্ভরশীলতা। এটা কমাতে হবে। আমাদের প্রত্যক্ষ কর বাড়াতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এখনও রাজস্ব আদায়ে কাস্টমসের নির্ভরতা বেশি, এটা কমাতে হবে। যদি ২০১৪ সালে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা যেত, তাহলে এই সেক্টর নিয়ে এত প্রশ্ন উঠতো না, কর আইন আরও সহজ করতে হবে।’
সালমান এফ রহমান বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি বিশ্বব্যাপী সমস্যা। রিজার্ভের সমস্যা সমাধানে আমরা আমদানি কমাতে সক্ষম হয়েছি। জুনে রিজার্ভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে, বাংলাদেশ শ্রীলংকা হবে, আইএমএফ ঋণ দেবে না ইত্যাদি আশঙ্কা করেছিলেন অনেকে। কিন্তু আইএমএফ থেকে ঋণ পাওয়া গেছে। প্রথম দফায় ঋণ ছাড়ও হয়েছে। ব্যাংক সুদের হার সীমা তুলে দেয়া হচ্ছে। ম্যাক্রো ইকোনমিতে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমরা সঠিক পথেই আছি।’
তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে বন্ড মার্কেটকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সব পণ্যে প্রণোদনা দিতে হবে। আমরা অনেক দেশ, এমনকি অনেক উন্নত দেশের তুলনায় ভালো আছি। বেসরকারি খাতের সহযোগিতায় আমরা অনেক ভালো পজিশনে আছি। কৃষি, প্রবাসী আয় ও রফতানি খাতের কারণে আমরা আমাদের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছি।’
রাজস্ব আদায় বাড়াতে এনবিআরকে দ্রুত অটোমেশন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
আগামী জুন মাস নাগাদ দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছাবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ সব খাতে ভালো করছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি কিছুটা চাপের মুখে থাকলেও রেমিট্যান্স বাড়ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল আছে, বেড়েছে রপ্তানিও।
তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমলেও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ঘটেনি, যেটা বিশ্বের উন্নত দেশে ঘটেছে। খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-দেশের জমি যেন ফাঁকা না থাকে। আমরা সেই পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা উন্নয়নশীল দেশে যাচ্ছি। ট্যাক্স, জিডিপি বাড়ানো উচিত। এ খাতে আমরা পিছিয়ে আছি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দেওয়াই হবে এবারের বাজেট মূল লক্ষ্য। বাজেট ঘাটতি যেন বেশি না হয় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। তবে এসব করতে গিয়ে যেন জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে না যায় তাও সর্তকতার সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে আগামী বাজেটে।
আলোচনায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংক বন্ধ হওয়ায় বাংলাদেশেও চ্যালেঞ্জ বাড়বে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এজন্য এবারের বাজেট উচ্চাভিলাষী হবেনা বলে জানান তিনি।
এ সময় এনবিআরকে রাজস্ব আদায়ে সময়োপযোগী পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দেন ব্যবসায়ীরা।