বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন




সুচিত্রা-সামাদ: ‘হাসি’র জন্ম আর ‘হাসানো’র মৃত্যুদিন

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৩ ১১:৪৮ am
Suchitra Sen Indian India actress সুচিত্রা সেন ভারতীয় ভারত অভিনেত্রী সুচিত্রা-সামাদ
file pic

দুজনের জন্ম একই দেশে। কাজ করেছেন একই ভুবনে। নিজ নিজ জায়গায় পরিচিতি, জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছেন বেশ। তবে ইন্ডাস্ট্রি ভিন্ন। একজন টলিউড তথা কলকাতার সিনেমায় ইতিহাস রচনা করেছেন, আরেকজন ঢালিউডে জুগিয়েছেন বিনোদনের খোরাক। একজনের মোহনীয় হাসিতে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে থেকেছে কয়েক প্রজন্ম, আরেকজনের কথা-কাণ্ডে হাসির ফোয়ারা জেগেছে দর্শকের মনে।

বলা হচ্ছে নায়িকা সুচিত্রা সেন ও অভিনেতা টেলি সামাদের কথা। কাকতালীয়ভাবে আজ বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) তাদের দুজনেরই বিশেষ দিন। তবে পার্থক্য হলো, সুচিত্রার জন্মদিন এবং সামাদের মৃত্যুবার্ষিকী।

১৯৩১ সালের এই দিনে পাবনায় জন্মেছিলেন সুচিত্রা সেন। তার আসল নাম রমা দাশগুপ্ত। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। এরপর ২১ বছর বয়সে নাম লেখান সিনেমায়। তার প্রথম ছবির নাম ‘শেষ কোথায়’। তবে এটি মুক্তি পায়নি।

১৯৫৩ সালে প্রথমবার পর্দায় দেখা যায় সুচিত্রা সেনকে। ছবির নাম ‘সাত নম্বর কয়েদি’। একই বছর তার অভিনীত ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবিটি মুক্তি পায়। যেখানে নায়ক হন উত্তম কুমার। এর মাধ্যমেই সূচনা হয় বাংলা সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কালজয়ী জুটি উত্তম-সুচিত্রার। ত্রিশটির বেশি সিনেমায় তারা জুটি বেঁধে কাজ করেছিলেন।

সুচিত্রা সেন অভিনীত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সিনেমা হলো- ‘সপ্তপদী’, ‘দেবদাস’, ‘হারানো সুর’, ‘সাত পাকে বাঁধা’, ‘অগ্নি পরীক্ষা’, ‘সাগরিকা’, ‘পথে হলো দেরি’, ‘চাওয়া পাওয়া’, ‘দ্বীপ জ্বেলে যাই’, ‘বিপাশা’ ইত্যাদি। ১৯৬৩ সালে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। ১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাকে ‘পদ্মশ্রী’ পদকে ভূষিত করে। এরপর ২০০৫ সালে ভূষিত করা হয় দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার।

সাফল্যময় সিনে জীবনের ২৫ বছর পর ১৯৭৮ সালে হঠাৎ অন্তরালে চলে যান সুচিত্রা সেন। লোকচক্ষুর আড়ালে গিয়ে ব্রতী হন রামকৃষ্ণ মিশনের সেবায়। ওই অবস্থায়ই ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি মারা যান মহানায়িকা।

অন্যদিকে টেলি সামাদের জন্ম ১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জে। তার আসল নাম আবদুস সামাদ। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে। ঢাকাই শোবিজে কৌতুকাভিনেতা হিসেবে আলাদা পরিচয় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। পর্দায় তার উপস্থিতি দর্শকের মনে বাড়তি আনন্দ দিতো।

১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ নামের সিনেমার মাধ্যমে রূপালি পর্দায় টেলি সামাদের অভিষেক হয়। শোনা যায়, চার দশকের ক্যারিয়ারে প্রায় ছয়শ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ‘ভাত দে’, ‘রঙিন রূপবান’, ‘সুজন সখী’, ‘জয় পরাজয়’, ‘গোলাপি এখন ট্রেনে’, ‘মাটির বউ’, ‘কে আমি’, ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’, ‘আমার স্বপ্ন আমার সংসার’ ইত্যাদি। ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জিরো ডিগ্রি’ তার শেষ ছবি।

সংগীতশিল্পী হিসেবেও প্রচুর কাজ করেছিলেন টেলি সামাদ। ‘মনা পাগলা’ নামে একটি ছবির সংগীত পরিচালনা সামলেছেন। এছাড়া প্রায় অর্ধশত ছবির গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন এই শিল্পী।

দর্শকের ভালোবাসা ছাড়া টেলি সামাদের প্রাপ্তির ঝুলিতে মোটাদাগে তেমন কিছু নেই। সেই অপ্রাপ্তি নিয়েই ২০১৯ সালের এই দিনে (৬ এপ্রিল) না ফেরার দেশে পাড়ি জমান অন্যের মুখে হাসি ফোটানো মানুষটি।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD