বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টারশেলের আঘাতে হোসনে আরা (৪৫) নামের এক বাংলাদেশি নারী ও এক রোহিঙ্গা পুরুষ (৬৫) নিহত হয়েছেন।
সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপর আড়াইটার দিকে উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের জলপাইতলী গ্রামের একটি রান্নাঘরের ওপর মর্টারশেলটি এসে পড়ে।
নিহত হোসনে আরা জলপাইতলী গ্রামের বাদশা মিয়ার স্ত্রী। আর ওই রোহিঙ্গা ব্যক্তির নাম জানা যায়নি। তিনি প্রায় ১৫ বছর আগে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তিনি বাদশা মিয়ার বাড়িতে কাজ করতেন।
ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মাহাফুজ ইমতিয়াজ ভুঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা মর্টারশেলের আঘাতে দুইজন নিহত হয়েছেন। ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছি। বিস্তারিত পরে জানাতে পারব।
ঘুমধুম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. আনোয়ান হোসেন ঢাকা পোস্টকে জানান, দুপুরে ভাত খাওয়ার সময় মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে আসা মর্টারশেলের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তারা মারা যান।
এদিকে নিহত হোসনে আরার মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আর নিহত রোহিঙ্গা শ্রমিকের মরদেহ এখনো ঘটনাস্থলে পড়ে আছে বলে জানান স্থানীয়রা। ঘটনার পর র্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।
এদিকে চলমান সংঘর্ষে প্রাণহানি এড়াতে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) ৯৫ জন সদস্য অস্ত্রসহ পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এ নিয়ে ঘুমধুম সীমান্তের ছয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
গোলাগুলির সময় নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু এলাকায় বেশ কয়েকটি মর্টারশেল এসে পড়ে। এতে ওই এলাকার যুদিষ্টি ধরের ছেলে প্রবীর ধর আহত হন।
বিজিবি সূত্র জানায়, রোববার ভোর থেকে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া শুরু করেন। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্ত এলাকা দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।