রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন




জীবন এত কঠিন হবে জানলে কারাগারেই থাকতাম: জল্লাদ শাহজাহান

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল, ২০২৪ ১১:৪৩ am
জেলখানা arrested Dhaka Central Jail Keraniganj ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ Kashimpur Central Jail কাশিমপুর কারাগার Kashimpur Central Jail কাশিমপুর কারাগার Kashimpur Central Jail কাশিমপুর কারাগার Dhaka Central Jail Keraniganj ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ গ্রেফতার custody Arrest suspected observed crime charged গ্রেপ্তার আটক ধরপাকড় পুলিশ অভিযান মামলা আসামি কারাগার আদালত arrest
file pic

৪৪ বছর কারাভোগ শেষ করা এবং প্রধান জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়া জেল থেকে বের হয়ে পড়েছেনে বিপাকে। হতাশ তিনি। এই নিয়ে করেছেন সংবাদ সম্মেলন। সেখানে তিনি বলেন, ‘কারাগারের বাইরে জীবন এত জটিল কেন? জীবন এত কঠিন হবে জানলে কারাগারেই থেকে যেতাম।’

সোমবার (১ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

জল্লাদ শাহজাহান বলেন, ‘৪৪ বছর কারাবন্দি থেকে বাইরে এসে নানান প্রতারণায় পড়ে মনে হচ্ছে কারাগারেই ভাল ছিলাম। আমি কারাগার থেকে বের হলে আমার ভাগিনা নজরুল আমাকে অটোরিকশা কিনে দেবে বলে আমার টাকা মেরে দেয়। এরপর অনেক কষ্টে একটা চায়ের দোকান দেই। আমার সঙ্গে যে ছেলেটি দোকানে সময় দিত, সে ৪ মাস আমার সঙ্গে থাকার পর দোকানে থাকা ৩০ হাজার টাকা ও মোবাইল চুরি করে নিয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘গত বছরের ২১ ডিসেম্বর বিয়ে করে সেখানেও সর্বস্বান্ত হয়েছি। বিয়ের কাবিন ৫ লাখ টাকা হলেও আমার কাছে থাকা ১০ লাখ টাকা স্ট্যাম্পে লিখিত নিয়ে আমার স্ত্রী সাথী আক্তার ফাতেমা ৫৩ দিনের মাথায় পালিয়ে গেছে। পালিয়ে গিয়ে আমার নামে যৌতুকের মামলা দিল। আমি থানায় মামলা দিতে গেলেও বউয়ের নামে মামলা করা যায় না বলে আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। পরে আইনজীবীর সহযোগিতায় রোববার আদালতে স্ত্রী, শাশুড়িসহ ৬ জনের নামে মামলা দিয়েছি।’

শাহজাহান বলেন, ‘মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য উপাদান খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা-এগুলোর কোনোটিই আমি পাচ্ছি না। আমি আমার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আমার মা-বাবা নেই, দায়িত্ব নেওয়ার মতো ভাই-বোন নেই।’

শাহজাহান ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার কাজ করার মতো ক্ষমতা নেই, আয়-রোজগার নেই, অর্থের যোগানদাতা নেই, নিজের থাকার জায়গা নেই। ৪৪ বছর কারাভোগ শেষ করে এসে আমি এখন বাইরের মানুষদের বুঝতে পারছি না। যেখানেই যাচ্ছি প্রতারণার খপ্পরে পড়ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি এখন উভয় সংকটে জীবনযাপন করছি। একে তো আমার অচল অর্থনৈতিক অবস্থা, অন্যদিকে একজন নারী আমার জীবনের শেষ জমানো টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে এবং আমাকে যৌতুকের মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। অথচ আমার থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার সময় স্ট্যাম্পে লিখিত দিয়েছে, যার সকল প্রমাণ আমার হাতে আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে আমাকে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। আর কারাগারে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকে আশীর্বাদ হিসেবে পাওয়া টাকাসহ মোট ১৮ লাখ টাকা আমি সাহায্য হিসেবে পাই। সেই টাকা দিয়েই মূলত আমি বিয়ে করে এখন সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। আমি এখন কীভাবে বাঁচব, আমার জীবন কীভাবে চলবে, কোথায় থাকব-কিছুই বুঝতে পারছি না। এখন খেয়ে, না খেয়ে অনাহারে জীবন চলছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি এখন দুই-তিন দিন পর ভাত খাই। কেউ আমাকে খাবার দিলে খাই, না দিলে না খেয়ে থাকি। আমার থাকার জায়গা নেই। তাই ফুটপাতে, গ্যারেজে বা কেউ সাময়িক আশ্রয় দিলে সেখানে থেকে খুব কষ্টে সময় পার করছি। আমি আমার উপজেলা চেয়ারম্যান, এমপির কাছে গিয়েছি কিন্তু কেউ আমাকে এক মুঠো ভাত দেয়নি, কাজ দেয়নি, সাহায্য সহযোগিতা করেনি। আমি এভাবে চলতে থাকলে আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।’




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD