রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন




চুয়াডাঙ্গায় দুজনের মৃত্যু হিট স্ট্রোকে নয়: চিকিৎসক

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৪ ৮:৫৮ pm
accidents death highway hig hway মরদেহ মৃত্যু মৃত্যুবরণ road crash kill killed Shok শোক দুর্ঘটনা রোড সড়ক মহাসড়ক যানজট রাস্তা বাস গাড়ি সড়ক road bus gridlock Study in India comp Accident মোটরসাইল মোটরসাইলের মুখোমুখি সংঘর্ষ দুর্ঘটনা রোড সড়ক মহাসড়ক যানজট রাস্তা বাস গাড়ি সড়ক Accident road bus gridlock Study in India comp body লাশ নিহত মৃত মৃতু শোক হত্যা খুন সড়ক grave dead body buried funeral burial মৃত কবর দাফন জিয়ারত যিয়ারত জানাজা পিটিয়ে হত্যা-Jamalpur মরদেহ
file pic

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জাকির হোসেন (৪৪) ও মর্জিনা খাতুন (৫৫) নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জাকির হোসেন ও বিকেল ৩টার দিকে মর্জিনা খাতুনের মৃত্যু হয়। হিট স্ট্রোকে তাদের দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সংবাদও প্রকাশ করে কয়েকটি গণমাধ্যম।

তবে ওই দুজনের মৃত্যু হিট স্ট্রোকে হয়নি বলে জানিয়েছেন দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. মহিবুল্লাহ।

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। দুজনের কেউ হিট স্ট্রোকের কারণে মারা যাননি।

ডা. মো. মহিবুল্লাহ বলেন, আজ সকাল ৮টার আগে পরিবারের সদস্যরা মৃত অবস্থায় জাকির হোসেনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। হার্ট বা ব্রেন স্ট্রোক করে মারা যেতে পারেন। তাপমাত্রা ৪০ কিংবা তার অধিক হলে সেই সময় রোদে কাজ করার সময় হিট স্ট্রোক হতে পারে। সকালবেলা হিট স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

তিনি আরও বলেন, বিকেল ৪টার আগে মৃত অবস্থায় মর্জিনা খাতুনকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের দাবি, সকাল ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে বুকে ব্যথা অনুভব করেন মর্জিনা খাতুন। পার্শ্ববর্তী ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিয়ে তাকে খাওয়ানো হয়েছিল। দুপুরের দিকে অতিরিক্ত অসুস্থ অনুভব করলে তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান। তিনি হিট স্ট্রোকে নয়, হার্ট অ্যাটাকে মারা যেতে পারেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে হিট স্ট্রোকের কোনো সম্ভাবনা নেই। ৪০ ডিগ্রি বা তার ওপরে তাপমাত্রায় রোদের মধ্যে পরিশ্রমের সময় হিট স্টোকের সম্ভাবনা থাকে।

জাকির হোসেন দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ালগাছি ইউনিয়নের ঠাকুরপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার আমির হোসেনের ছেলে। তিনি ঠাকুরপুর পীরপুর কুল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি ছিলেন। আর মর্জিনা খাতুন দামুড়হুদা শহরের আজিম উদ্দিনের স্ত্রী।

জাকির হোসেনের বাবা আমির হোসেন বলেন, আমার ছেলে দীর্ঘ ৫-৬ বছর যাবত উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিল। গতকাল শুক্রবার রাতে প্রেশার বেড়ে যায়। সেই সময় মাথায় পানি দেওয়াসহ ওষুধ খেলে সুস্থ হয়। সকালে ফজরের নামাজের পর তার ছেলেকে সঙ্গে করে পাশের জমিতে পাটের বীজ বুনছিল। কিছুক্ষণ পর ছেলে জাকির হোসেন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আমার নাতি আমাদের জানালে ছেলেকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার আগেই মারা যায়।

তিনি আরও বলেন, আমার ধারণা এতো সকালে হিট স্ট্রোক হওয়ার কথা না। আমার ছেলে মালয়েশিয়া থেকে ৫ বছর আগে দেশে আসে। সেখান থেকে আসার পর তার প্রেশারের সমস্যায় ভুগছিল।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মার্টিন হীরক চৌধুরী বলেন, যেহেতু সকালে তাপমাত্রা কম থাকে। এ সময় হিট স্টোকের ঝুঁকি নেই। উনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। গতকাল রাতেও অসুস্থ বোধ করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে হার্ট স্ট্রোক কিংবা ব্রেন স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করতে পারেন। ৪০ ডিগ্রি বা তার অধিক তাপমাত্রায় রোদের মধ্যে শারীরিক পরিশ্রম করলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। আসলে যে কোনো স্ট্রোক হলে হিট স্ট্রোক বলে চালিয়ে দেওয়া মেডিকেল সায়েন্স সমর্থন করে না।

তিনি আরও বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, মানুষকে সতর্ক করতে হবে। এমন কোনো সংবাদ পরিবেশন করা যাবে না যাতে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হেলেনা আক্তার নিপা বলেন, এতো সকালে যদি মৃত্যু হয় তাহলে হিট স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে এটা বলা ঠিক হবে না। কারণ সেই সময় হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি খুবই কম। হতে পারে তার প্রেশার কিংবা ডায়াবেটিস ছিল। সেই কারণে তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন।

এদিকে শনিবার (২০ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন সন্ধ্যা ৬টায় সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। যা চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। পুরো এপ্রিল মাসজুড়ে তাপপ্রবাহ থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD