‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’ আশ্রমের চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দারকে আটকের কারণ জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। বুধবার (১ মে) সন্ধ্যায় ডিবি পুলিশের একটি দল ঢাকার মিরপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পরে রাতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন হারুন।
ডিবি প্রধান বলেন, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিল্টন সমাদ্দারকে নিয়ে অনেক লেখালেখি হচ্ছে। এছাড়া আমাদের কাছে বেশকিছু অভিযোগ এসেছে। সেগুলোর প্রেক্ষিতে আমরা তাকে তার পাইকপাড়ার কার্যালয় থেকে আটক করেছি। তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডে এনে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ উঠেছে এগুলো তদন্ত করে দেখবো।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে তার বিরুদ্ধে মানবপাচার, শিশু ও বৃদ্ধদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রি করার অভিযোগ আছে। এগুলো আমরা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দেখবো। এছাড়া তিনি যে অনুদানের টাকা পেতেন তা যথাযথভাবে খরচ করা হতো কিনা, তার শেল্টার হোমে শিশু ও বৃদ্ধ যারা আশ্রিত থাকতেন তাদের অভিভাবকরা এলে তাদের যে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে সেগুলোও খতিয়ে দেখা হবে।
একইসঙ্গে তিনি যে ৯০০ লাশ দাফন করার কথা প্রচার করেছিলেন এবং ডেথ সার্টিফিকেটে নিজেই সিল বানিয়ে চিকিৎসকের স্বাক্ষর দিতেন এসব অভিযোগও আমরা বিস্তারিত তদন্ত করে দেখবো, বলেন হারুন।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে প্রতারণার নানা অভিযোগ উঠে আসে। এতে বলা হয়, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ১৬টির বেশি নম্বর এবং তিনটি ব্যাংক হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় কোটি টাকা জমা হয়। এর বাইরে অনেকেই তার প্রতিষ্ঠানে সরাসরি অনুদান দিয়ে আসেন। এই অর্থের অপব্যবহার করেন তিনি। মানবিক কাজের জন্য এ পর্যন্ত তিনি তিনটি রাষ্ট্রীয় পুরস্কারও পেয়েছেন মিল্টন সমাদ্দার।