রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩১ অপরাহ্ন




দুর্ভোগ: গ্যাস-বিদ্যুতে নাকাল জনজীবন

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৯ জুন, ২০২৪ ৪:৫৪ pm
লোডশেডিং বিদ্যুৎ loadshedding energy crisis electricity power grid বিদ্যুত বিভ্রাট লোডশেডিং মেগাওয়াট বিদ্যুত power power LNG এলএনজি liquid Liquefied natural gaslng terminal bangladesh Ship Laffan জ্বালানি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজি স্পট মার্কেট খোলাবাজার আমদানি টার্মিনাল পায়রা Gas Field গ্যাস কূপ তেল গ্যাস অনুসন্ধান gas gas power গ্যাস বিদ্যুৎ
file pic

ঝড়ে ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এক মাস ধরে দিনে গ্যাস সরবরাহ কম প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট। এতে পরিবহন, শিল্প ও বাসাবাড়িতে গুরুতর সংকট দেখা দিয়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। গ্যাস-স্বল্পতার পাশাপাশি সংস্কারের কারণে কয়লাভিত্তিক একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আংশিক বন্ধ রয়েছে। এতে কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। ঢাকার বাইরে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং করা হয়। গ্যাস-বিদ্যুৎ দুটিরই সরবরাহ কমে যাওয়ায় গরমে জীবনযাপন কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বৃদ্ধ-শিশুরা। বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা। ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানায় উৎপাদন।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দেশে গ্যাসের চাহিদা ছিল ৪২০ কোটি ঘনফুট, বিপরীতে সরবরাহ ছিল ২৫৫ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে পাওয়া গেছে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। গত মাসেও যখন দুটি এফএসআরইউ চালু ছিল, তখন ১১০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয়। গত ২৭ মে ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে বঙ্গোপসাগরে দুই এলএনজি টার্মিনালের একটি (সামিট গ্রুপের) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগামী মাসে মেরামতের পর এটি চালু হতে পারে।

সরবরাহ কমায় বিদ্যুতেও গ্যাস সরবরাহ কমেছে। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যুতে ৯৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়, যা গত মাসেও ছিল ১১০ কোটি ঘনফুটের ওপরে।

অন্যদিকে, গরম বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। দৈনিক ঘাটতি থাকছে ৩ হাজার মেগাওয়াটের মতো। তবে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৬ হাজার মেগাওয়াট।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) হিসাবে বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল। শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল কম। ফলে লোডশেডিং কম হয়।

তবে লোডশেডিংয়ের সরকারি তথ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ঢাকার বাইরে এলাকাভেদে দৈনিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) চাহিদার চেয়ে আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম পাচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ভারতের আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৮০০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট বন্ধ আছে। এটি আগামী ৫ জুলাই উৎপাদনে ফিরতে পারে। একই ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটে কারিগরি ত্রুটিতে উৎপাদিত হচ্ছে ৩৭০ মেগাওয়াট। দেশের আরেকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পটুয়াখালীর পায়রার ৬২২ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণে গেছে গত মঙ্গলবার। এতে বরিশাল অঞ্চলে লোডশেডিং বেড়েছে। এটিতে আগামী ২ জুলাই উৎপাদন শুরুর কথা রয়েছে। বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, আগামী ২ জুলাইয়ের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।

গ্যাস সংকট শিল্পকারখানা-ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের সরবরাহ কমায় ঢাকাসহ সারাদেশের ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন ধরেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। শিল্পকারখানার অবস্থাও শোচনীয়।

শিল্প মালিকরা বলছেন, এমনিতেই গ্যাসের চাপ থাকে না, এখন তা আরও কমে গেছে। গাজীপুর, কোনাবাড়ী, কাশিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ নেই বললেই চলে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD