রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪৫ অপরাহ্ন




টঙ্গীতে ইজতেমা মাঠে দুপক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ৪, বিজিবি মোতায়েন

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১২:৫৫ pm
World Ijtema Ijtema Islamic congregation Bishwa Ijtema gathering Muslims Tongi বিশ্ব ইজতেমা ইজতিমা তাবলিগ জামাত টঙ্গী তুরাগ নদী ধর্মপ্রাণ মুসলমান বিশ্ব ইজতেমা World Ijtema ইজতেমা
file pic

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান দখলকে কেন্দ্র করে যোবায়ের ও সাদপন্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। আহতদের টঙ্গী সরকারি হাসপাতালসহ আশপাশের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। সংঘর্ষ শুরু হয় বুধবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে।

নিহতরা হলেন- আমিনুল হক (৭০), বাচ্চু মিয়া (৭০), বেলাল (৬০) ও তাজুল ইসলাম (৬৫ )। আমিনুল হক ও বাচ্চু মিয়ার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া থানার এগারসিন্দু গ্রামে। আর বেলালের বাড়ি ঢাকার দক্ষিণখানের বেড়াইদ এলাকায়। তার পিতার নাম আঃ সামাদ। তাজুল ইসলামের বাড়ি বগুড়ায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোর সাড়ে ৩টার দিকে সাদপন্থীরা তুরাগ নদীর পশ্চিম তীর থেকে কামার পাড়া ব্রীজসহ বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ করতে থাকেন। এসময় ময়দানের পাহারায় থাকা যোবায়েরপন্থীরা ভেতর থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বলে সাদপন্থীরা জানান। সাদপন্থীরাও পাল্টা হামলা চালায়। এক পর্যায়ে সাদপন্থীরা ময়দানে প্রবেশ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ঘটনাস্থলে দুইজন নিহত ও শতাধিক আহত হন।

সাদপন্থী মিডিয়া সমন্বয়ক মুরুব্বী মোহাম্মদ সায়েম বলেছেন, আমরা এখন ইজতেমা ময়দানের নিয়ন্ত্রণে আছি। যোবায়েরপন্থীদের আক্রমণে আমাদের এক ভাই শহীদ হয়েছেন।

টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সিনিয়র ব্রাদার মোস্তাফিজ জানান, হাসপাতালে আমিনুল হক নামের এক মুসল্লির মরদেহ রয়েছে। অনেকে আহত হয়েছেন।

যোবায়েরপন্থী মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, সাদপন্থীরা শেষ রাতের দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় তাদের সাথী ভাইদের উপর আক্রমণ করেন। এ সময় ঘটনাস্থলেই আমিনুল হক ও বাচ্চু নামের দুজন নিহত হন।

টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের এম্বুলেন্স চালক আশরাফুল ইসলাম জানান, ঢাকায় নেয়ার পথে বেলাল নামে একজন মারা গেছেন। তার বাড়ি ঢাকার বেড়াইদে।

এদিকে টঙ্গীর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সকালে বিজিবি জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওসি হাবিব বলেন, রাতে ইজতেমা ময়দানে মারামারির ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। একজন হাসপাতালে, আরেকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।

আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, আ. রউফ (৫৫), মজিবুর রহমান (৫৮), আ. হান্নান (৬০), জহুরুল ইসলাম (৩৮), আরিফ (৩৪), ফয়সাল (২৮), তরিকুল (৪২), সাহেদ (৪৪), উকিল মিয়া (৫৮), পান্ত (৫৫) টঙ্গীর খোরশেদ আলম (৫০) বেলাল (৩৪), আনোয়ার (৫০), আবু বক্কর (৫৯), আরিফুল ইসলাম (৫০), আনোয়ার (২৬), আনোয়ার (৭৬), ফোরকান আহমেদ (৩৫), আ. রউফ (৫৫) মজিবুর রহমান (৫৮), আ. হান্নান (৬০), জহুরুল ইসলাম (৩৮), আরিফ (৩৪), ফয়সাল (২৮), তরিকুল (৪২), সাহেদ (৪৪)।

পুলিশ জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই তাবলীগ জামাতের মাওলানা সাদ অনুসারীদের জোড় ইজতেমাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মাওলানা জুবায়ের অনুসারীরা গত ২৯ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাওলানা জুবায়ের অনুসারীরা জোড় ইজতেমা পালন করেন। এরপর ২০ ডিসেম্বর থেকে মাওলানা সাদ অনুসারীরা জোড় ইজতেমা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিলে তাদেরকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে ইজতেমা ময়দানে অবস্থান নেন জুবায়ের অনুসারীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সাদ অনুসারীদের ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ ঠেকাতে ময়দানের চারপাশে ও বিভিন্ন সড়কের মোড়ে লাঠি হাতে পাহারা বসায় জুবায়ের অনুসারীরা।

অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সাদ অনুসারীরা ইজতেমা ময়দানের উদ্দেশে বাস-ট্রাকে করে মাঠে আসতে থাকে। মধ্যরাতে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সাদ অনুসারীদের গাড়ি আটকে দেন জুবায়েরপন্থিরা। একপর্যায়ে রাত আড়াইটার দিকে মাওলানা সাদ অনুসারীরা ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ করলে উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় গ্রুপের দুইজন নিহত ও অন্তত অর্ধশত মুসল্লি আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর থেকে ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন রয়েছে।

সাদপন্থি তাবলীগ জামাতের মুরুব্বী সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম বলেন, ২০ ডিসেম্বর টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে তাদের জোড় ইজতেমা শুরুর হওয়ার কথা ছিল। মাঠ প্রস্তুতির জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মাঠের আশপাশে রাস্তার পাশে মুসল্লিরা এসে অবস্থান নিচ্ছিলেন। আমাদের এ প্রস্তুতি দেখে জোবায়েরপন্থি লোকজন বাইরে থেকে গাড়ি ভরে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং আমাদের লোকজন ইজতেমা ময়দানে ঢুকে পড়ে। সেখানে দুই গ্রুপের মধ্যে আবার ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ইজতেমা মাঠে সংঘর্ষে আহতদের টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD