যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়তা সহায়তা বন্ধ নিয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যমের অপপ্রচার চলছে দাবি করে অন্তর্বর্তী সরকারের থেকে তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দেওয়া ওয়াশিংটনের উন্নয়ন সহায়তা অঙ্ক নগণ্য।
শুক্রবার সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্টস’র ফেইসবুক পাতায় এক পোস্টে এই তথ্য দিয়ে ভারতের সংবাদ মাধ্যমের অপপ্রচারের জবাব দেওয়া হয়। একই পোস্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলমও শেয়ার দেন।
গত ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ফিরেই বিদেশে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারপর তার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র তার সব বিদেশি সহায়তা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করে। এতে অন্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও ইউএসএআইডির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
এনিয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে অপপ্রচারের কথা তুলে ধরে সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্টস’র ফেইসবুক পোস্টে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের উন্নয়ন সহায়তা স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বের সব দেশের জন্যই। বাংলাদেশ ও ভারতের জন্যও।
“কিন্তু ভারতের সংবাদমাধ্যম হয়তো বিষয়টি জানে না, নইলে জেনেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এটা এড়িয়ে যাচ্ছে যে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সহায়তা নগণ্য অঙ্কের।”
ফেইসবুক পোস্টে সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের একটি তথ্য যুক্ত করে দেওয়া হয়, যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে কোন দেশ কিংবা সংস্থা থেকে কী পরিমাণ সহায়তা পেয়েছে সেই তথ্য রয়েছে।
তাতে দেখানো হয়েছে, গত অর্থ বছরে ইউএসএআইডির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ১৮ কোটি ১৭ লাখ ডলার সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশকে। এই সময়কালে জাপানের বৈদেশিক উন্নয়ন সংস্থা জাইকা থেকে পাওয়া গেছে ১৯১ কোটি ১১ লাখ ডলার।
অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ১০ গুণ বেশি সহায়তা এসেছে জাপান থেকে।
এই সময়কালে বিশ্ব ব্যাংক থেকে পাওয়া গেছে ২২৪ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে এসেছে ২১৫ কোটি ১৩ লাখ ডলার।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা সকাল সন্ধ্যাকে জানান, ইউএসএআইডিসহ সব সংস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের কারিগরি, খাদ্য ও নগদ সহায়তা দিয়েছে।
এরমধ্যে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সহায়তার পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৮০ কোটি ডলার। এরপর গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে আসে আরও প্রায় ১০ কোটি ডলার।
ট্রাম্প সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, এর প্রভাব বাংলাদেশের ওপর খুব একটা পড়বে না। কারণ রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।
২০১৭ সালের পর থেকে আঞ্চলিকভাবে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫০ কোটি ডলারের বেশি। এরমধ্যে বাংলাদেশেই দেওয়া হয়েছে ২১০ কোটি ডলারের বেশি।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছিলেন, “ইউএসএআইডির মূল সাহায্য আসে রোহিঙ্গা নিয়ে। সাত বছরে রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি দিয়েছে। সরকার আশা করছে, এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে। আর এটি (স্থগিত) ৯০ দিনের কথা বলা হয়েছে।
“আর বাংলাদেশে বিদেশি সহায়তা এমনিতেই কমে গিয়েছিল। বাংলাদেশের জন্য এটি বড় কোনও প্রভাব ফেলবে না।”
উপ প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর বলেছিলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
তবে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পয়ঃনিষ্কাশনসহ নানা প্রকল্পে ইউএসএআইডির মাধ্যমে অর্থ সহায়তা আসে। তার একটা প্রভাব পড়বে বলেই আভাস দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্টরা।
এরই মধ্যে বিভিন্ন এনজিওর কিছু প্রকল্প বন্ধের খবর আসছে, যেগুলো ইউএসএআইডির অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছিল।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেম’র নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান সকাল সন্ধ্যাকে বলেছিলেন, বাংলাদেশে উন্নয়নমূলক কাজ, বিশেষ করে কারিগরি সহায়তায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ইউএসএআইডিসহ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, বাণিজ্যসহ অনেকগুলো খাতে কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা রয়েছে।
এরমধ্যে অনেকগুলো প্রকল্প চলমান জানিয়ে অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, “এগুলো যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই।”
“যুক্তরাষ্ট্র থেকে নগদ সহায়তাটাই মূখ্য নয়। দেশটি আমাদেরকে কারিগরি এসব খাতেই কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে,” বলেন তিনি।