রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন




আন্দোলন দমন

ফেঁসে যাচ্ছেন ম্যাজিস্ট্রেটরা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১২ মে, ২০২৫ ১১:৪৩ am
কারাদণ্ড International Crimes Tribunal ICT Bangladesh domestic war crimes tribunal আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশ অপরাধ ট্রাইবুনাল আইসিটি Tribunal International Crimes Tribunal ICT Bangladesh domestic war crimes tribunal আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশ অপরাধ ট্রাইবুনাল আইসিটি মৃত্যুদণ্ড প্রাণদণ্ড শাস্তিস্বরূপ হত্যা শাস্তি Tribunal SC সুপ্রিম কোর্ট রায় Supreme Court highcourt হাইকোর্ট আদালত Death Penalty মৃত্যুদণ্ড প্রাণদণ্ড মৃত্যুদণ্ড
file pic

এবার জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের তালিকা চেয়েছে তদন্ত সংস্থা। ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে দেশের বিভিন্ন স্থানে গত ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের তালিকা চেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে শহিদ ও আহতদের বিষয়ে তথ্য নিশ্চিত করতে এ তালিকা চাওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসককে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠায় তদন্ত সংস্থা। ওই সময়ে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নামের তালিকা নির্ধারিত ছক অনুযায়ী পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে ওই চিঠিতে।

তদন্ত সংস্থা বলেছে, সুষ্ঠু বিচার ও তদন্তের স্বার্থে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্ত সংস্থার এমন উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং আইনসিদ্ধ।

চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করে তদন্ত সংস্থার উপসহকারী পরিচালক আহমেদ নাসির উদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, যেসব এলাকায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেসব এলাকায় তথ্য চাওয়া হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তথ্য চেয়ে আমরা জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছি, আবার সশরীরে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত ঘটনা জানতে তাদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তারা সাক্ষী হতে পারেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে তথ্য এসেছে।

তদন্ত সংস্থার এমন উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং আইনসিদ্ধ বলে মনে করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি রোববার বলেন, আমি মনে করি এটা ভালো উদ্যোগ। কাদের নির্দেশে এই ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা দরকার। তখন কারা দায়িত্ব পালন করছিলেন সেটা তদন্ত সংস্থা দেখবে।

জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডায়েরি নং-১৫৫ তারিখ ২৭/১১/২৪ ইং, ডায়েরি নং-০৪ তারিখ ০১/০১/২৫ ইং, ডায়েরি নং-২৮ তারিখ ০৩/১০/২৫ ইং, ডায়েরি নং-১০৯ তারিখ-০৪/১১/২৪ ইং, ডায়েরি নং-১৫৯ তারিখ ০৩/১২/২৪ ইং, ডায়েরি নং-১১০, তারিখ-০৭/১১/২৪ ইং তদন্ত সংস্থায় তদন্তাধীন আছে। মামলা ও ডায়েরির বিষয়গুলো অতীব জরুরি, আলোচিত এবং জনগুরুত্বপূর্ণ বিধায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, তদন্ত সংস্থা কর্তৃক সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গত ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের তালিকা ছক মোতাবেক প্রেরণ করতে হবে।’ ছকে মোবাইল নম্বর, থানার নাম, তারিখ, সময়, স্থান ও সহযোগী ফোর্সের ধরন (পুলিশ/র্যাব/বিজিবি/সেনাবাহিনী) উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। গত ৬ এপ্রিল তদন্ত সংস্থার উপসহকারী পরিচালক আহমেদ নাসির উদ্দিন মোহাম্মদ (তদন্ত কর্মকর্তা) স্বাক্ষরিত চিঠি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসককে পাঠানো হয়। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার থেকে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন চলে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত। মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনে স্বৈরতান্ত্রিক আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এতে সারা দেশে ৮৭৫ জন নিহত হন। গুলিতে বেশির ভাগ মানুষের মৃত্যু ঘটে।

এছাড়া অভ্যুত্থানে আহত হয়েছেন ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি সেখানেই আছেন। জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার ট্রাইব্যুনালে করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সে লক্ষ্যে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। হাইকোর্টের বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারকে চেয়ারম্যান করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হিসাবে আছেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। ইতোমধ্যে বিচার ত্বরান্বিত করতে গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

প্রসিকিউশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৩৩০টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যেখানে ৩৯টি তদন্ত কার্যক্রম (কমপ্লেইন্ট রেজিস্টার অনুসারে) চলমান। তদন্তের প্রাথমিক সত্যতার আলোকে মিস কেস হয়েছে ২২টি। এসব মিস কেসে সর্বমোট অভিযুক্ত ব্যক্তি ১৪১ জন। এর মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন ৫৪ জন, আর ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক ৮৭ জন। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বেসামরিক ব্যক্তি হচ্ছেন ৭০ জন, পুলিশ ৬২ জন, আর সামরিক হচ্ছেন ৯ জন।
(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD