শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:২৩ অপরাহ্ন




তিমুর লেস্তের জালে ৮ গোল বাংলাদেশের মেয়েদের

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২৫ ৫:৩৮ pm
women football Bangladesh Football Federation BFF বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বিএফএফ বাফুফে নারী মহিলা
file pic

এএফসি নারী অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় ম্যাচে বিশাল জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার লাওসে অনুষ্ঠিত নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েরা ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তিমুর লেস্তেকে। বাংলাদেশ প্রথমার্ধে ৪-০ গোলে এগিয়েছিল। বাংলাদেশের তৃষ্ণা রানী হ্যাটট্রিক করেছেন। অন্য পাঁচ গোল করেছেন সিনহা জাহান শিখা, শান্তি মার্ডি, নবিরন, সাগরিকা ও মুনকি আক্তার। এর আগে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৩-১ গোলে হারিয়েছিল স্বাগতিক লাওসকে।

দুই জয়ে বাংলাদেশ পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত টেবিলের শীর্ষে আছে। সন্ধ্যায় গ্রুপের অন্য ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া খেলবে লাওসের বিপক্ষে। বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ১০ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। ওই ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করবে ‘এইচ’ গ্রুপের ভাগ্য।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন দল উঠবে এএফসি এশিয়ান কাপ ২০২৬ আসরের চূড়ান্ত পর্বে। রানার্সআপ ৮ দলের মধ্যে সেরা তিনটিও পাবে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের টিকিট।

দুই ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ এখনো চূড়ান্ত পর্বে ওঠার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে।

দুই অর্ধেই বাংলাদেশ চারটি করে গোল করে। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে তৃষ্ণা প্রথম গোল করেন। ৫৩ মিনিটে তিনি দলের পঞ্চম ও নিজের দ্বিতীয় গোল করেন। ৮৩ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এ ফরোয়ার্ড। তৃষ্ণার তৃতীয় গোলে অবদান মোসাম্মৎ সাগরিকার। তিনি ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালের উদ্দেশে ঠেলে দেন। ফাঁকা পোস্টে প্লেসিংয়ে দুর্দান্ত গোল করেন তৃষ্ণা।

এর আগে ৭২ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় দারুণ গোল করেন সাগরিকা। মধ্য মাঠ থেকে বল পেয়ে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। গত পরশু লাওসের ম্যাচেও জোড়া গোল করেছিলেন সাগরিকা। প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়েও বাংলাদেশ গোল পায়। মুনকি আক্তারের গোলের সঙ্গে সঙ্গে রেফারি ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজান।

ম্যাচের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গোল করেছেন শান্তি মারডি। ৩২ মিনিটে দুর্দান্ত গোল করেন তিনি। ডান প্রান্ত থেকে তার নেওয়া কর্নার কিক সরাসরি জালে জড়ায়। কর্নার থেকে কোনো ফুটবলারের স্পর্শ ছাড়াই সরাসরি বল জালে জড়ালে সেটা ‘অলিম্পিক গোল’ হিসেবে আখ্যায়িত হয়। শান্তির গোলটি অনেকটা সেই রকমই ছিল।

তার নেওয়া কর্নার কিকে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ও সতীর্থ ফরোয়ার্ড বক্সে লাফিয়ে উঠলেও কেউই স্পর্শ করতে পারেননি। গোলরক্ষকও বলের ফ্লাইট মিস করেন। বল সবাইকে ফাঁকি দিয়ে সাইড পোস্টের ভেতর দিয়ে জালে প্রবেশ করে। সাফ অ-২০ টুর্নামেন্টে হ্যাটট্রিক করে আলোচনায় এসেছিলেন শান্তি মারডি। এএফসি’র আসরেও আলো ছড়াচ্ছেন এই ফুটবলার।

তিন মিনিট পর একই প্রান্তে বাংলাদেশ আবার কর্ণার পেয়ে আরেকটি গোল করে। এবার গোলের যোগানদাতা শান্তি। তার নেয়া কর্ণারে বক্সের মধ্যে নবিরুন খাতুন হেড করে গোল করেন। প্রথমার্ধে বাংলাদেশের চারটি গোলের তিনটিই কর্ণার থেকে। ২০ মিনিটে বা প্রান্ত থেকে স্বপ্না রাণীর কর্ণারে শিখা হেডে বল জালে জড়ান।

বাঁ প্রান্তে স্বপ্না আর ডান প্রান্তের কর্নার কিকগুলো শান্তি নিয়েছেন। বাংলাদেশ এই পরিকল্পনায় প্রথমার্ধে তিন গোল আদায় করে। দ্বিতীয়ার্ধের চারটি গোলই আবার ফিল্ড প্লে থেকে পেয়েছে বাংলাদেশ। উভয় দিকেই সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন আফিদারা।

টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৩-১ গোলে স্বাগতিক লাওসকে পরাজিত করেছিল। দুই ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৬ ও গোল ব্যবধান ১০। বাংলাদেশের গ্রুপের শেষ ম্যাচ শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। ওই ম্যাচে বাস্তবিক অর্থে পয়েন্ট আদায় করা অসম্ভব আফিদাদের জন্য। কোরিয়া এই গ্রুপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন। ফলে বাংলাদেশের লক্ষ্য ভালো গোল ব্যবধান রেখে রানার্সআপ পজিশনে থাকা। যেন আট গ্রুপের মধ্যে সেরা তিন রানার্স-আপ হয়ে আগামী বছর মূল পর্বে খেলা যায়।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD