বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ০১:৩২ অপরাহ্ন




দীর্ঘ হচ্ছে পদত্যাগের তালিকা

দীর্ঘ হচ্ছে পদত্যাগের তালিকা: টালমাটাল অবস্থায় এনসিপি

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬ ৯:৪৬ am
National Citizen Party NCP জাতীয় নাগরিক পার্টি ncp জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি পার্টির
file pic

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে শীর্ষ নেতাদের পদত্যাগ থামছে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ হচ্ছে পদত্যাগের তালিকাও। শনিবারও পদত্যাগ করেছেন দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সৈয়দা নীলিমা দোলা, যিনি জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পদত্যাগ করেছেন এনসিপি সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী মাহফুজা খাতুন। ২৪ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিলেও রোববার বিষয়টি জানাজানি হয়। এ নিয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ১৭ শীর্ষ নেতার পদত্যাগের সংবাদ পাওয়া গেছে। পদত্যাগের তালিকায় আরও অনেক শীর্ষ নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। কখন কে, কোন সময় পদত্যাগ করবেন-দলটি আন্দাজই করতে পারছে না। বর্তমানে দলের ভেতরে থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যেও আদর্শিক বিষয়গুলো নিয়ে দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন দলের হাইকমান্ড। এমন পরিস্থিতিতে দলটি একধরনের টালমাটাল অবস্থায় পড়েছে।

তবে দলটির এমন অবস্থা কেন তৈরি হলো-এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেছেন, নানা কারণেই নতুন গড়ে ওঠা এনসিপির কোনো ভবিষ্যৎ দেখছি না। পার্টি হিসাবেও দলটি দাঁড়াতে পারবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান বলেন, এনসিপি বর্তমানে যে বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, নির্বাচনের পর তা আরও চরম আকার ধারণ করবে। গবেষক আলতাফ পারভেজ বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানকে টিকিয়ে রাখতে হলে অন্য তরুণদের এখনই একত্রিত হওয়া দরকার। জুলাই ধরে রাখতে হলে নতুনভাবে গড়ে উঠতে হবে।

জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি জোট গঠনের পর থেকেই চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়ে দলটি। এ নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ইতোমধ্যে দলটির শীর্ষ পদে থাকা অন্তত ১৭ জন পদত্যাগ করেছেন। সম্প্রতি পদত্যাগ করা এনসিপি নেত্রী নীলিমা দোলা বলেছেন, ‘দলের নেতাকর্মীদের চোখে ধুলা দিয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোট করা হয়েছে এবং মনোনয়ন দেওয়ার নাম করে তীব্র প্রতারণা করা হয়েছে। এনসিপি এখন সম্পূর্ণভাবে ডানপন্থি ঘরানায় ঢুকে পড়ছে এবং সেই ধারার রাজনীতিকেই পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে।

বিষয়টিকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের বড় একটি অংশ মনে করছে, এই জোট এনসিপির জন্য একটি ‘আদর্শিক ঝুঁকি’। তাছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শক্তির এভাবে বিভক্ত হওয়া হতাশাজনক। এনসিপি নিজেকে একটি মধ্যপন্থি দল হিসাবে দাবি করলেও জামায়াতের সঙ্গে জোট করার মাধ্যমে তাদের সেই অবস্থান এখন প্রশ্নের মুখে। এ জোটের কারণে এনসিপির নিজস্ব মধ্যপন্থি আদর্শ বিলুপ্ত হয়েছে। এখন দলটি একটি ডানপন্থি শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এনসিপি থেকে পদত্যাগকারীরাসহ দলটির ভেতরের একটি বড় অংশ মনে করছে-এই সিদ্ধান্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকক্সক্ষার পরিপন্থি।

জানা যায়, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতার পর থেকেই কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে নতুন এ রাজনৈতিক দলটি। তবে এর আগে থেকেই দলের ভেতর-বাইরে নেতৃত্বের দুর্বলতা, স্বেচ্ছাচারিতা, জুলাই যোদ্ধা ও সাধারণ জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার অভাব এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে নৈতিক অবক্ষয়ের বিষয়গুলো আলোচনা-সমালোচনায় আসতে থাকে। এ অবস্থায় এনসিপি বড় ধরনের ভাঙনের মুখে পড়ছে। ইতোমধ্যে দল থেকে পদত্যাগী নেতা মুনতাসীর মাহমুদের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ‘তৃণমূল এনসিপি’। এই ব্যানারে একাধিক কর্মসূচিও পালন করা হচ্ছে। পদত্যাগ করা ওই নেতা সাবেক দুই ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দুর্নীতি তদন্তের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিলও করেছেন।

রোববার বিকালে এ প্রসঙ্গে দলটির কেন্দ্রীয় এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একদিকে জামায়াতসহ ১০ দলের সঙ্গে নির্বাচনি জোট, অন্যদিকে দলটির ভেতরে চলছে ভাঙন। অনেক নেতাই পদত্যাগের বিষয়ে মৌখিক ও লিখিতভাবে নিজেদের অবস্থান জানাচ্ছেন। নেত্রীরা দল ছাড়তে ব্যাকুল হয়ে উঠছেন। এমন বিষয়গুলো নিয়ে দলের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সমস্যা সমাধানে করণীয় কোনো পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে না। দলের শীর্ষ নেতাদের প্রায় সবাই নিজ নিজ নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। জানা যায়, ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতার কথা জানান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সেদিনই সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন দলের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন শীর্ষ নেতার পদত্যাগের খবর পাওয়া গেছে। মূলত জুলাইয়ের চেতনা থেকে বিচ্যুতি এবং জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতাকে আদর্শবিরোধী উল্লেখ করে প্রায় সবাই পদত্যাগ করেছেন। এদিকে দলটির শীর্ষ নারী নেতৃত্বে ভাঙনের সুর দিনদিন আরও তীব্র হচ্ছে। ইতোমধ্যে দল থেকে শীর্ষ নেত্রীদের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন ডা. তাজনূভা জাবীন, ডা. তানসিম জারা, সৈয়দা নীলিমা দোলা ও মনিরা শারমিন। এছাড়া শীর্ষ নেত্রী সামান্থা শারমিন, নূসরাত তাবাসসুম, ডা. মাহমুদা মিতুসহ দলটির একাধিক নেত্রী জোটের সিদ্ধান্তের বিষয়ে সরাসরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। পাশাপাশি দলের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন। নেত্রীদের ভাষ্য, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট-দলটির ঘোষিত আদর্শ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে চরম সাংঘর্ষিক।

আলতাফ পারভেজ : দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইতিহাস বিষয়ের গবেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এনসিপি নাম নিয়ে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করা হয়েছিল। অনেক প্রতিশ্রুতি আর আদর্শিক বার্তা দিয়ে গঠিত এনসিপি এখন বিধ্বস্তের পথে। দলটির জামায়াতের সঙ্গে জোট তরুণ শীর্ষ নেতাদের অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। প্রায় প্রতিদিন দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা আসছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, দলটি রাজনীতির বিশুদ্ধতা হারাচ্ছে। দলটি শুরু থেকেই একের পর এক ভুল করে আসছে। এখন চরমভাবে ভুলের খেসারত দিচ্ছে দলটি। এতে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাও ম্লান হচ্ছে। এটি মূলত জাতীয় ক্ষতি হচ্ছে। একটি রাজনৈতিক দল দাঁড়ানোর আগেই ভেঙে যাচ্ছে। নিশ্চয়ই এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন দলের হাইকমান্ডও।

জামায়াতের সঙ্গে জোট করে এনসিপি তাদের কফিনে শেষ পেরেক মেরেছে উল্লেখ করে আলতাফ পারভেজ আরও বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট করা হবে-এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দলের ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা করা হয়নি। সবার মতামতকে নিশ্চয় উপেক্ষা করা হয়েছে। যে কারণে নতুন এ দলটির ভেতরে বিপুল হারে পদত্যাগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে। তারা গণতন্ত্রের কথা বলে; কিন্তু নিজেরাই দলের ভেতর গণতন্ত্রের চর্চা করেনি। দলটির একটি অংশ নীতি-নৈতিকভাবে কলুষিত হয়ে পড়েছে। ফলে তারা দুই কারণে একটি বড় দলের সঙ্গে থাকতে চাচ্ছে। বিএনপির সঙ্গে বোঝাপড়া না হওয়ায় তারা মনে করেছে জামায়াত দ্বিতীয় বড় দল। সে কারণে জামায়াতের সঙ্গেই মিলিত হয়েছে। বড় দলের সঙ্গে থাকা মানে, ভবিষ্যতে যেন অনিয়ম-দুর্নীতি থেকে রেহাই পাওয়া যায় এবং নিরাপত্তা পাওয়া যায়। এনসিপির দরকার ছিল নিজের পায়ে দাঁড়ানো। এদের নিজের পায়ে দাঁড়ানো আর সম্ভব হয়ে উঠবে না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে টিকিয়ে রাখতে হলে অন্য তরুণদের এখনই একত্রিত হওয়া দরকার।

অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী : রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গড়া এনসিপি এখন প্রায় নিষ্ক্রিয়। এনসিপি প্রথম থেকেই অনেক ভুল করে আসছিল। ক্ষমতার লোভ ছিল শুরুতেই। তাছাড়া এ দলের অনেক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। একই সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতারা দলীয় মনোনয়ন বাণিজ্যেও জড়িত রয়েছে-এমন অভিযোগও আসছে। এনসিপির তরুণ নেতারা যদি পুরোনো বন্দোবস্তের দিকে হাঁটেন, অনিয়ম-দুর্নীতি আর মনোনয়ন বাণিজ্য করেন, তাহলে তাদের দিয়ে কী হবে? এনসিপির ভেতরে গণতন্ত্রচর্চা থাকবে না কেন-এমন প্রশ্ন করে ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, দলের মধ্য থেকে যারা বলছে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি জোট কিংবা সখ্য হবে, এমনটা বাস্তবায়ন করতে দলের সবার মতামত নেওয়া হয়নি। নতুন ছোট্ট একটা দল, সেখানেও যদি গণতন্ত্রের চর্চা না হয়, সবার মতামতকে প্রাধান্য না দেওয়া হয়, তাহলে এটি রাজনৈতিক দল হয়ে উঠে কী করে? নানা কারণেই দলটির কোনো ভবিষ্যৎ দেখছি না। এ দলটি পার্টি হিসাবে দাঁড়াতে পারবে না। সবার আগে তাদের প্রমাণ করতে হতো দলের নেতাদের সততা, নিষ্ঠা আর গণতন্ত্রের চর্চা। এমনটা যারা প্রমাণ করতে না পারে, তাদের পরাজয় নিশ্চিত।

জাহেদ উর রহমান : লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান বলেন, এনসিপির ভেতর গণতন্ত্রের চর্চা ছিল না, এটা বলা যাবে না। গণতন্ত্রচর্চা ছিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়। একটি রাজনৈতিক দল কতগুলো ফান্ডামেন্টালের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। সেই ফান্ডামেন্টাল ভেঙে কেউ এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে কি না, সে বিষয় নিয়ে প্রশ্ন আসতেই পারে। এনসিপি যখন মধ্যপন্থি দল হিসাবে দলটির চরিত্র নির্ধারণ করতে চায়, তখন কারও সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে মধ্যপন্থি দলটির বিপরীতে ধর্মীয় দলগুলোর জোটে যাওয়া হয়েছে। যেখানে শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, আরও কট্টর ধর্মীয় দল আছে। সেই জোটে যাওয়া এবং সেখানে যে ধরনের আসন সমঝোতা, তা নিয়ে দলের ভেতর ভাঙন শুরু হয়েছে।

দলটির একটি বড় অংশ মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি।

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, দলটির ভেতর আদর্শিক মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। দলটি এখন ডানপন্থি শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এর আগে নিজের শক্তিতেই ক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনে বসতে চেয়েছিলেন নেতারা। এখন জোট শক্তির মধ্য দিয়েই দলের শীর্ষ নেতারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষমতা চাচ্ছেন। সংসদে যেতে চাচ্ছেন। অনেকে লিখছেন, এবারই কেন তাদের ক্ষমতায় যেতে হবে, এবারই কেন সংসদে যেতে হবে? যে কোনো মূল্যে শীর্ষ নেতাদের ক্ষমতার যাওয়ার মতো লড়াই আমরা দেখতে পাচ্ছি। এনসিপি বর্তমানে যে বিপর্যয়ের মধ্য দিচ্ছে যাচ্ছে, নির্বাচনের পর তা আরও চরম আকার ধারণ করবে। যদি দেখা যায়, তারা এত কিছুর পরও খুব বেশি ভালো কিছু করেনি, কোনো আসনে জয়ী হতে পারেনি, তখন যারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করা হবে। দলটির ভেতর নারী নেতৃত্ব ছিল উল্লেখযোগ্য। এখন সেই নেতৃত্ব শেষ হয়ে যাচ্ছে। অথচ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং এনসিপিতে নারীরাই সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিলেন।
(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD