শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন




কোন আসনে কোন উপজেলা ফল নির্ধারক হতে পারে

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ৫:০৭ pm
JS Bangladesh National Parliament Jatiya Sangsad Bhaban House জাতীয় সংসদ ভবন পার্লামেন্ট js বাজেট পাস
file pic

কেবল একটি উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের আসনগুলোতে দলীয় প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের নির্ধারক হতে পারেন স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহীরা। দুই ও এর বেশি উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনের ক্ষেত্রে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে চারটি বিষয়। এগুলো হলো– নারী ভোটার, নতুন ভোটার, প্রার্থীর নিজ এলাকার বাইরের উপজেলায় তাঁর ভোটব্যাংক ও দলীয় প্রভাব।

দেশের আট বিভাগের ১৬৭টি আসন থেকে প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কোন আসনে কোন বিষয়গুলো ফলাফল নির্ধারণে প্রভাবক হতে পারে, তা বের করার চেষ্টা। এ নিয়ে বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন: ১০১ আসনে প্রভাব ফেলতে পারে ১১৬ উপজেলার ভোট

প্রতিনিধিদের মাধ্যমে গত ২২ জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন জেলার নির্বাচনী আসনের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়। ২৭ জানুয়ারি পর্য‌ন্ত ১৮১টি আসনের তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু উপজেলাভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকায় তুলনার ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্য এড়ানোর স্বার্থে ১৪টি আসন বাদ দেওয়া হয়েছে। একাধিক উপজেলাভিত্তিক ১০১টি আসনে কোন উপজেলা ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে তা বিভাগভিত্তিক চিত্র তুলে ধরা হলো।

ঢাকা বিভাগ: মোট আসন ৭০ (তথ্য সংগ্রহ ২৬টির)
কিশোরগঞ্জ-১: ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত সব নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। দ্বিতীয় ও তৃতীয় নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। জামায়াত ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ভোট পায় ৪ হাজার ৬৮০টি। সদর ও হোসেনপুর নিয়ে গঠিত সাড়ে ৫ লাখ ভোটারের আসনে ভোটার বেশি সদর উপজেলায়; ৩ লাখ ৮০ হাজার ২৪টি। বিএনপি ও তাদের বিদ্রোহী প্রার্থী দুজনই সদরের স্থানীয়। জামায়াত আসনটি ছেড়ে দিয়েছে জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কাছে। সিপিবি ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীও সদরের স্থানীয়। ফলে হোসেনপুর উপজেলার ভোট ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।

কিশোরগঞ্জ জেলার বাকি আসনগুলোর মধ্যে কিশোরগঞ্জ-২-এ উপজেলাভিত্তিক ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় পাকুন্দিয়ার বিপরীতে প্রভাবক হতে পারেন কটিয়াদীর ২ লাখ ৯৫ হাজার ৫০২ জন ভোটার। কিশোরগঞ্জ-৩-এ করিমগঞ্জের বিপরীতে ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারে তাড়াইল। আসনটিতে জাতীয় পার্টির বড় একটি ভোট ব্যাংক আছে। বিগত নির্বাচনগুলোর মধ্যে ২০০৮ সালে জাপার মুজিবুল হক চুন্নু এ আসনের এমপি হন। ১৯৯৬ সালে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিক থেকে দলটি দ্বিতীয় এবং ২০০১ সালে তৃতীয় স্থানে ছিল। এবার দলটির প্রার্থী করিমগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক (প্রস্তাবিত) আবু বকর ছিদ্দিক। বিএনপির প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক। দুজনই করিমগঞ্জের স্থানীয়।

তুলনামূলক ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় অষ্টগ্রাম, মিঠামইন, ইটনা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে ফ্যাক্টর হতে পারে যথাক্রমে মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলা। ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত নির্বাচনে আসনটি ধরে রেখেছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। বিএনপি ছিল নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দল। এবার সেখানে দলটির প্রার্থী চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. ফজলুর রহমান।

ঢাকা বিভাগের অন্য আসনগুলোর মধ্যে কিশোরগঞ্জ-৫ এ স্থানীয় প্রার্থীর আধিক্য বিবেচনায় বাজিতপুরের বিপরীতে নিকলী এবং কিশোরগঞ্জ-৬ এ ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় প্রভাবক হতে পারে ভৈরব; ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ১৪৩ জন। জামায়াতের প্রার্থী ভৈরবের, বিএনপির প্রার্থী কুলিয়ারচরের।

ফরিদপুর-১ এ বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালীর মধ্যে প্রভাবক হতে পারে আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী। এ দুই উপজেলা মিলিয়ে ভোটার ২ লাখ ৯০ হাজার ৮৭৯ জন। ফরিদপুর-২ এ বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ। তিনি নগরকান্দার স্থানীয়। প্রভাবক হতে পারেন সালথার ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬৬ জন ভোটার।

প্রার্থীর আধিক্য ও ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় নারায়ণগঞ্জ-৫ এ বন্দরের বিপরীতে সদর, রাজবাড়ী-১ এ সদরের বিপরীতে গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী-২ এর তিন উপজেলার মধ্যে বালিয়াকান্দি ও কালুখালী, শরীয়তপুর-১ এ জাজিরার বিপরীতে পালং, শরীয়তপুর-২ এ সখিপুরের বিপরীতে নড়িয়া, শরীয়তপুর-৩ এর তিন উপজেলার মধ্যে ভেদরগঞ্জ ও ডামুড্যা, মানিকগঞ্জ-১ এর ঘিওর ও শিবালয়ের বিপরীতে দৌলতপুর, মানিকগঞ্জ-২ এ হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ-৩ এ সদরের বিপরীতে সাটুরিয়া উপজেলা প্রভাবক হতে পারে।

চট্টগ্রাম বিভাগ: মোট আসন ৫৮ (তথ্য সংগ্রহ ৩৪টির)
নোয়াখালী-১: চাটখিল ও সোনাইমুড়ীর একাংশ নিয়ে গঠিত আসনটিতে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের দুই প্রার্থী সোনাইমুড়ীর স্থানীয়। বিপরীতে চাটখিলের ২ লাখ ২৮ হাজার ভোটারের বিপরীতে স্থানীয় প্রার্থী শুধু জামায়াতের। ফলে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের জন্য চাটখিলের ভোট প্রভাবক হতে পারে।

নোয়াখালী-২: সেনবাগের সঙ্গে সোনাইমুড়ীর অপর অংশ পড়েছে এ আসনে। বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী, এনসিপি এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা সেনবাগের স্থানীয়। ফলে এ উপজেলার ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭২ ভোট তাদের মধ্যে ভাগাভাগি হতে পারে। বিপরীতে সোনাইমুড়ীর অংশের ৮৯ হাজার ৮২৩ ভোটারের বিপরীতে স্থানীয় প্রার্থী নেই। বিএনপির জয়নুল আবদিন ফারুকের সেনবাগের ভোটে ভাগ বসাতে পারেন বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান।

নোয়াখালী-৪: ৭ লাখ ২৬ হাজার ভোটারের মধ্যে সুবর্ণচরের ২ লাখ ৫২ হাজার ২৩৩ জন। সদরের একাংশে বাকি ভোটারের বিপরীতে স্থানীয় প্রার্থীকে বাছাই করেছে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন। ফলে ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় সদরের একাংশ ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারে।

নোয়াখালী-৫: সদরের আরেক অংশ, কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলা নিয়ে এ আসন গঠিত। সদরের এ অংশে ভোটার তুলনামূলক কম। বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা কোম্পানীগঞ্জের স্থানীয়। ফলে কবিরহাটের ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬৩টি ভোট প্রভাবক হতে পারে।

রাঙামাটি (১০টি উপজেলা): পার্বত্য চট্টগ্রামের আসনগুলোর মধ্যে জেলার সব উপজেলা নিয়ে রাঙামাটি আসন গঠিত। বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা সদরের বাসিন্দা। ফলে বাকি ৯টি উপজেলার ভোটাররা জয়ের নির্ধারক হতে পারে। মোট ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ ভোটারের বিপরীতে সদরে ১ লাখ ৪ হাজার, বাঘাইছড়িতে ৮১, লংগদুতে ৬৮, কাউখালীতে ৫৩, কাপ্তাইয়ে ৫০, বরকলে ৪২, নানিয়ারচরে ৪০, বিলাইছড়িতে ২৪, রাজস্থলীতে ২১ ও জুরাছড়িতে ২০ হাজারের বেশি ভোট। গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে প্রার্থীদের দলীয় ও ধর্মীয় পরিচয়। ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ পর্য‌ন্ত সব নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা জিতেছেন। এবারের নির্বাচন ঘিরেও প্রার্থী বাছাইয়ে একই প্রবণতা দেখা গেছে।

কুমিল্লা-১: বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, জাপার প্রার্থীরা দাউদকান্দির স্থানীয়। ফ্যাক্টর হতে পারে ১ লাখ ১২ হাজার ৩৩৫ ভোটারের মেঘনা উপজেলা। বিএনপির প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

কুমিল্লা-২: বিএনপির কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম ভুঁইয়া হোমনার স্থানীয়। সেখানে ভোটার ১ লাখ ৯৪ হাজার ৪৫৭ জন। তবে তাঁর বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন ‘বিদ্রোহী’ এমএ মতিন খান। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীও এ উপজেলার। জামায়াতের প্রার্থী অন্য আসনের, মেঘনা উপজেলার স্থানীয়। ফলে তিতাস (১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২০) উপজেলা প্রভাবক হতে পারে।

কুমিল্লা-৫: জামায়াত ও বিএনপির দুজন প্রার্থীই ব্রাহ্মণপাড়ার স্থানীয়। ভোটার সংখ্যাও কম; ১ লাখ ৯৫ হাজার ১৫০ জন। বিপরীতে বুড়িচংয়ের ভোটার ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৯২ জন।

কুমিল্লা-৬: বিএনপির মনিরুল হক চৌধুরী তিনবারের এমপি। তিনি সদর দক্ষিণ উপজেলার স্থানীয়। জামায়াতের কাজী দীন মোহাম্মদও সদর দক্ষিণের। মোট ৬ লাখ ৩২ হাজার ৮৬১ ভোটারের মধ্যে সদর দক্ষিণের ২ লাখ ১৪ হাজার ২৬৬ জন। ফলে সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটাররা ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারে

কুমিল্লা-৯: আসনে মনোহরগঞ্জের বিপরীতে প্রভাবক হতে পারে লাকসাম উপজেলা। কুমিল্লা-১০ আসনে নাঙ্গলকোটের বিপরীতে প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লালমাই।

চট্টগ্রাম জেলার ৪টি আসন একাধিক উপজেলা নিয়ে গঠিত। ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় চট্টগ্রাম-৫-এ হাটহাজারী, চট্টগ্রাম-৮-এ বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম-১৪তে চন্দনাইশ এবং চট্টগ্রাম-১৫তে প্রভাবক হতে পারেন সাতকানিয়ার ভোটাররা।

রাজশাহী বিভাগ: মোট আসন ৩৯ (তথ্য সংগ্রহ ৩০টির)
রাজশাহী-১: বিএনপি, জামায়াত, গণঅধিকার পরিষদ ও এবি পার্টির প্রার্থীরা গোদাগাড়ীর স্থানীয়। উপজেলাটির ভোটার ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫৫ জন। অপরদিকে তানোরে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫১ জন। ফলে প্রার্থীদের জিততে হলে তানোরের ভোট নিজের দিকে টানতে হবে। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি এমপি পেলেও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের কাছে আসন হারায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ, বিএনপির প্রার্থীদের বিপরীতে জামায়াতের প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার ভোট পাওয়া বোঝায়, এ আসনে তাদেরও ভোট ব্যাংক আছে।

রাজশাহী-৩: ভোটারের সংখ্যা পবায় ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৭৩টি। বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন বোয়ালিয়া থানার বাসিন্দা। অপরদিকে জামায়াত ও জাতীয় পার্টির দুজন প্রার্থী পবার স্থানীয়। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এ দুই দলের প্রার্থীরা যথাক্রমে ৩৩ হাজার ৮২৪ ও ৫৬ হাজার ৬৫২টি ভোট পেয়েছিলেন। আরেক উপজেলা মোহনপুরে স্থানীয় প্রার্থী কেবল ইসলামী আন্দোলনের ফজলুর রহমান। ২০০৮ সালে এ দলের প্রার্থীর ভোট ছিল ৪ হাজার ৬০টি। বর্তমানে মোহনপুরের ভোটার ১ লাখ ২৯ হাজার ১৯০ জন। ফলে মোহনপুরে ভোট যার দিকে বেশি যাবে তিনি এগিয়ে থাকবেন।

রাজশাহী-৫: প্রভাবক হতে পারে ১ লাখ ৪০ হাজার ৬০৪ জন ভোটারের দুর্গাপুর। বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সবাই পুঠিয়ার স্থানীয়। এ উপজেলার ভোটার ১ লাখ ৬০ হাজার ২১৩। বিএনপির জন্য চাপ তাদের দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী। দলীয় নজরুল ইসলাম ও বিদ্রোহী ইসফা খায়রুল হক দুজনই পুঠিয়ার। ফলে তাদের মধ্যে ভোট কাটাকাটির সম্ভাবনা আছে। আরেক বিদ্রোহী রেজাউল করিম দুর্গাপুরের ভোটার হলেও তিনি লন্ডনে থেকেছেন। তাই বিএনপিসহ সব প্রার্থীর লক্ষ্য হতে পারে দুর্গাপুরের ভোট পাওয়া।

রাজশাহী-৬: মোট চারজন প্রার্থীর সবাই নিজ দলের জেলা শাখার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ১ লাখ ৪৪ হাজার ১১০ জনের বাঘা থেকে স্থানীয় প্রার্থী বেছে নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। অপরদিকে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির তিন প্রার্থী চারঘাটের। এখানকার ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৬৮। ফলে বাঘার ভোটের দিকে তাদের নজর থাকতে পারে।

জয়পুরহাট-১: বিএনপি ও জামায়াতের দুই প্রার্থীই সদরের স্থানীয়। যেখানে ভোটার ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬২। প্রধান দলগুলোর প্রার্থীদের জয়ের নির্ধারক হতে পারেন পাঁচবিবির ২ লাখ ৯ হাজার ৮০৫ ভোটার। জয়পুরহাট-২: আসনটি ৩ উপজেলা নিয়ে গঠিত। মোট তিন প্রার্থীর মধ্যে দুজন (বিএনপি ও এবি পার্টি) কালাইয়ের স্থানীয়। বাকি দুই উপজেলার মধ্যে আক্কেলপুরের ভোটার ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৫, যা কালাইয়ের চেয়ে মাত্র ২৯টি বেশি। ক্ষেতলালের ভোটার ৯৮ হাজার ১১ জন। জামায়াতের প্রার্থী আক্কেলপুরের স্থানীয়। প্রার্থীর আধিক্য বিবেচনায় ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর প্রভাবক হতে পারে।

নাটোর-১: প্রধান দল বিএনপি, জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীরা লালপুরের স্থানীয়। ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৭। অপরদিকে বাগাতিপাড়ায় ভোটার ১ লাখ ১৯ হাজার ৩৫৯ জন। বিএনপির দলীয় প্রার্থী ও জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ফারজানা শারমিনকে চাপে ফেলতে পারেন বিদ্রোহী ও কেন্দ্রীয় কমিটির বহিষ্কৃত সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু। তিনিও লালপুরের স্থানীয়। ফলে প্রার্থীদের ভোটযুদ্ধের ক্ষেত্র হতে পারে বাগাতিপাড়া।

নাটোর-২: আসনের মোট ৪ লাখ ৬ হাজার ৮৮৬ ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ২১ হাজার ১৯৯ ভোটারের নলডাঙ্গা উপজেলা হতে পারে ‘ফ্যাক্টর’। বিএনপির দলীয় প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু সদরের স্থানীয়। এ উপজেলায় তাঁর মতোই স্থানীয় প্রার্থী জামায়াতের জেলা আমির ইউনুস আলী ও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক রকিব উদ্দিন। ১৯৯৬ সালে এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী পেয়েছিলেন ১৮ হাজার ১৬৯ ভোট। ২০০১ সালের নির্বাচনে রুহুল কুদ্দুসের ভোট ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ১৯৬টি। জামায়াত কিংবা অন্য দলের প্রার্থীরা সদরের স্থানীয় প্রার্থীর পরিচয় ও নতুন ভোটারের সুবিধা পেলে বিএনপিকে নলডাঙ্গার ভোটের দিকে তাকাতে হতে পারে। আবার সদরে রুহুল কুদ্দুসের ভোট ব্যাংককে টেক্কা দিতে হলে অন্য প্রার্থীদের নলডাঙ্গার ভোট টানতে হবে।

নাটোর-৪: ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ বড়াইগ্রাম; ২ লাখ ৫৪ হাজার ৯৪৪ জন। জামায়াত ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী এখানকার স্থানীয়। অপরদিকে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা গুরুদাসপুরের (১ লাখ ৯০ হাজার ২২৮)। এ উপজেলার চেয়ে বড়াইগ্রামের ভোট বেশি ৬৪ হাজার।

বগুড়া-১: বিএনপি ও জামায়াতের দুজন প্রার্থীর বাড়িই সারিয়াকান্দি। ফলে সোনাতলার ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৪৮টি ভোট গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হতে পারে নতুন ভোটার; ২০ হাজার ৮৬৪ জন।

বগুড়া-৩: বিএনপি ও জাপার প্রার্থী আদমদীঘির (ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৩০১) স্থানীয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জাপা এ আসনে দেড় লাখ ভোট পেয়ে জয়ী হন। আগের নির্বাচনগুলোতেও তাদের প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়েছিলেন। বিএনপির হাতে আসনটি ছিল ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ পর্য‌ন্ত। ভোট ব্যাংক বিবেচনায় এ দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। কিন্তু প্রার্থীরা একই উপজেলার হওয়ায় ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারে আরেক উপজেলা দুপচাঁচিয়া।

বগুড়া-৪: জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা কাহালুর। বিএনপির নন্দীগ্রামের। জাপার প্রার্থী সদরের। ভোট সংখ্যা বিবেচনায় প্রভাবক হতে পারে কাহালু; ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪২৫টি। নন্দীগ্রামের ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ১০০ জন।

বগুড়া-৫: প্রভাবক হতে পারে ধুনট। বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা শেরপুরের। মোট ৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৪০ ভোটারের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৪২৪ জনই শেরপুরের। ২ লাখ ৬৩ হাজার ৯১৬ জন ধুনটের। তবে প্রধান দলগুলোর প্রার্থীদের কেউই এখানকার স্থানীয় নন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হতে পারে নতুন ভোটার। বগুড়ার ৭টি আসনের মধ্যে এখানেই নতুন ভোটার সবচেয়ে বেশি; ৩২ হাজার ৬৬১ জন।

বগুড়া-৭: জিয়া পরিবারের এলাকা হিসেবে পরিচিত গাবতলী। ফলে বিএনপির প্রার্থীর প্রতি এ উপজেলার ভোটারদের বিশেষ ঝোঁক থাকতে পারে। ভোটার সংখ্যাও (২ লাখ ৯২ হাজার ৩৯২) শাজাহানপুরের (২ লাখ ৪৫ হাজার ৭০০) তুলনায় বেশি। ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ পর্য‌ন্ত এ আসনে জয়ী হয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

রাজশাহী বিভাগের অন্য আসনগুলোর মধ্যে পাবনা-২-এ সুজানগরের বিপরীতে প্রভাবক হতে পারে বেড়া উপজেলা। পাবনা-৩-এ চাটমোহর, ভাঙ্গুরা ও ফরিদপুরের মধ্যে প্রভাবক হতে পারে ফরিদপুর। বিএনপির দলীয় হাসান জাফিরের বিপক্ষে লড়বেন বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র কেএম আনোয়ারুল ইসলাম। হাসান জাফির পাবনা-২ আসনের বাসিন্দা। নির্বাচন করছেন ৩ নম্বর আসনে। আনোয়ারুল চাটমোহরের স্থানীয় ও সাবেক এমপি (২০০১)। জামায়াতের প্রার্থী ভাঙ্গুরার। ১৯৯৬ সালে প্রাপ্ত ১৪ হাজার ৯৩৬ ভোট ইঙ্গিত দেয়, এ আসনে জামায়াতের একটি ভোট ব্যাংক আছে। ফলে বিএনপি, বিদ্রোহী ও জামায়াতের প্রার্থীদের জন্য প্রভাবক হতে পারে ফরিদপুরের ১ লাখ ১০ হাজার ৪৫৩ ভোটার। পাবনা-৪ আসনে ঈশ্বরদীতে প্রার্থীদের আধিক্য বিবেচনায় প্রভাবক হতে পারে আটঘরিয়া।

এ ছাড়া প্রার্থীদের আধিক্য বিবেচনায় সিরাজগঞ্জ-১-এ কাজীপুরের বিপরীতে সদরের একাংশ, সিরাজগঞ্জ-২ এ সদরের আরেক অংশের বিপরীতে কামারখন্দ, সিরাজগঞ্জ-৩ এ রায়গঞ্জের বিপরীতে তাড়াশ এবং সিরাজগঞ্জ-৫ এ বেলকুচির বিপরীতে চৌহালী উপজেলার ভোটাররা প্রভাবক হতে পারে।

বরিশাল বিভাগ: মোট আসন ২১টি
বরিশাল-১: আগৈলঝাড়া হতে পারে এ আসনের প্রভাবক। বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনের বিপক্ষে লড়বেন কেন্দ্রের বহিষ্কৃত সদস্য আব্দুস সোবহান। জহির উদ্দিন গৌরনদীর স্থানীয়। এ উপজেলায় স্থানীয় প্রার্থী জামায়াতের কামরুল ইসলাম খান। স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী আব্দুস সোবহান আগৈলঝাড়ার স্থানীয়। স্থানীয় প্রার্থী কম থাকায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৫০৫ ভোটারের আগৈলঝাড়া উপজেলা ভোটের হিসাবে প্রভাব ফেলতে পারে।

একইভাবে বরিশাল-২ এ উজিরপুরের বিপরীতে বানারীপাড়া, বরিশাল-৩ এ ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় বাবুগঞ্জের বিপরীতে মুলাদী, বরিশাল-৪ এ মেহেন্দীগঞ্জের বিপরীতে হিজলা উপজেলা প্রভাবক হতে পারে।

ভোলা-২: দৌলতখান হতে পারে প্রভাবক। আসনটি দৌলতখানসহ বোরহানউদ্দিন উপজেলা নিয়ে গঠিত। বিএনপি, জামায়াত, এলডিপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর বাড়ি বোরহানউদ্দিনে। মোট ৩ লাখ ৯১ হাজার ৬৫১ ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৩ জন বোরহানউদ্দিনের বাসিন্দা। বাকি ১ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি ভোটার দৌলতখানের। ফলে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করতে পারে দৌলতখানের ভোটাররা।

ভোলা-৩: জয়ের নির্ধারক হতে পারে তজুমদ্দিন উপজেলার ভোটাররা। বিএনপি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টিসহ মোট পাঁচ প্রার্থীর চারজনের বাড়িই লালমোহনে। মোট ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৯০৬ জনের মধ্যে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫৬ ভোটারের উল্লেখযোগ্য অংশ যে প্রার্থীর দিকে যাবে, তিনি জয়ের দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারেন।

ভোলা-৪: দলগুলোর প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে একই প্রবণতা দেখা গেছে। মোট ৬ জনের মধ্যে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও জাতীয় পার্টির মনোনীতদের বাড়ি চরফ্যাসনে, যেখানে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৭ হাজার ৬৬৬। আরেক দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় ভোটার মাত্র সাড়ে ৬৬ হাজার। প্রার্থীর এলাকা ও দলীয় ভাবমূর্তির সূত্রে চরফ্যাসনের ভোটাররা যার দিকে ঝুঁকবে, তিনি এগিয়ে থাকবেন।

পিরোজপুর-১: তিনটি উপজেলার এ আসনে প্রার্থী মাত্র দুজন; বিএনপি ও জামায়াতের। বিএনপি প্রার্থী সদরে এবং জামায়াতের প্রার্থী ইন্দুরকানীর স্থানীয়। মোট ৩ লাখ ৯২ হাজার ভোটারের মধ্যে দেড় লাখের বেশি সদরের বাসিন্দা। ইন্দুরকানীতে ৭৫ হাজার এবং নাজিরপুরের ভোটার প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার। ফলে নাজিরপুর প্রভাবক হতে পারে। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী আলমগীর হোসেন জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। এ ছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় কমিটিরও সদস্য। অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় ব্যবসায়ী বিভাগের নেতা।

পিরোজপুর-২: মোট ৪ লাখ ৯ হাজারের বেশি ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭৩ জন নেছারাবাদের বাসিন্দা। কিন্তু এ উপজেলা থেকে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের কোনো প্রার্থী নেই। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটার ভান্ডারিয়ার (১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৩২)। এখানকার স্থানীয় হওয়ায় বিএনপির মনোনীত আহম্মদ সোহেল মনজুরের ভোটে ভাগ বসাতে পারেন স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী মাহামুদ হোসেন। অপরদিকে জাতীয় পার্টির (জেপি) মাহিবুল হোসেনও ভান্ডারিয়ার স্থানীয় হওয়ায় নিজস্ব ভোট ব্যাংক আছে। আরেক উপজেলা কাউখালীতে ৬৬ হাজার ৩৮৯ ভোটারের বিপরীতে স্থানীয় প্রার্থী ইসলামী আন্দোলনের আবুল কালাম আজাদ। জামায়াতের শামীম সাঈদী এ আসনের কোনো উপজেলার স্থানীয় নন। দলটির কেন্দ্রীয় ওলামা বিভাগের এই নেতার বাড়ি পিরোজপুর-১ আসনের উপজেলা ইন্দুরকানীতে। ফলে নেছারাবাদ হতে পারে ভাগ্যনির্ধারণী উপজেলা।

ঝালকাঠি-১: প্রভাব ফেলতে পারেন কাঁঠালিয়ার ভোটাররা। আসনের মোট ২ লাখ ২৫ হাজার ৩৪২ ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ২০০ জন কাঁঠালিয়ার। কিন্তু এ উপজেলায় স্থানীয় কোনো প্রার্থী নেই। মোট ১০ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীরা রাজাপুরের বাসিন্দা। এ উপজেলার ভোটার ১ লাখ ৫ হাজারের বেশি। আসনটিতে জামায়াতসহ বাকি ৬ প্রার্থী ভিন্ন জেলার বাসিন্দা। ফলে রাজাপুরের চেয়ে কাঁঠালিয়ার দিকে তাদের নজর থাকবে।

ঝালকাঠি-২: ভোটের সমীকরণে ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারে সদর উপজেলা; ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৩০। উল্লেখযোগ্য দলগুলোর প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি কিংবা জামায়াতের কেউ এখানকার স্থানীয় নন। তবে গণঅধিকার পরিষদের মাহমুদুল ইসলাম ও দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী এ উপজেলার স্থানীয়। বিপরীতে নলছিটির ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৬৫ ভোটারের বিপরীতে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ তিনটি দল স্থানীয় প্রার্থী দিয়েছে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেনের ঠিকানা ঢাকার উত্তরায়।

বরগুনা-১: তিন উপজেলার এ আসনে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা সদরের স্থানীয়। আসনের মোট ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৯ ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ৬০ হাজার ৩৬১ জন সদরের বাসিন্দা। বিপরীতে আমতলী ও তালতলী উপজেলা মিলিয়ে ভোটার ২ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৮। ফলে এ দুই উপজেলা প্রভাবক হতে পারে।

বরগুনা-২: এ আসনও তিন উপজেলা নিয়ে। সবচেয়ে বেশি ১ লাখ ৫০ হাজার ৮৫১ জন ভোটার পাথরঘাটার, যেখানকার স্থানীয় প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মণি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটার বেতাগীতে; ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৮৭ জন। জামায়াতের সুলতান আহমেদ এখানকার স্থানীয়। সবচেয়ে কম ভোটার বামনায় (৭০ হাজার ১০৬) স্থানীয় প্রার্থী জাতীয় পার্টির আব্দুল লতিফ ফরাজী। সর্বোচ্চ ভোটার এবং তুলনামূলক কম দলীয় প্রভাব বিবেচনায় পাথরঘাটা ও বামনা জয়ের নির্ধারক হতে পারে।

পটুয়াখালী-১: মির্জাগঞ্জ, দুমকীর বিপরীতে ভোটার সংখ্যা বেশি হওয়ায় সদর (৩ লাখ ৯ হাজার ৩৩১) উপজেলা প্রভাবক হতে পারে।

পটুয়াখালী-৩: বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে আছেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি গলাচিপার স্থানীয়, যেখানে ভোটার ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩৮ জন। তবে বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র হিসেবে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য হাসান মামুন। তিনি দশমিনার স্থানীয়, যেখানে ভোটার ১ লাখ ২১ হাজার ৫২৩ জন। নুরের উপজেলায় স্থানীয় প্রার্থীকে বেছে নিয়েছে জামায়াত। অপরদিকে মামুনের উপজেলা থেকে প্রার্থী দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। গলাচিপার ভোট ভাগাভাগি হতে পারে নুর ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে। অপরদিকে দশমিনায় বিএনপির সমর্থকরা হাসান মামুনের দিকে ঝুঁকলে সমীকরণ পাল্টে যেতে পারে। বিএনপি কিংবা জামায়াতের জন্য দশমিনার ভোট অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে।

পটুয়াখালী-৪: রাঙ্গাবালীর বিপরীতে ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় কলাপাড়া (২ লাখ ১৬ হাজার ৪৯২) প্রভাবক হতে পারে।

ময়মনসিংহ বিভাগ: মোট আসন ২৪ (তথ্য সংগ্রহ ১৬টির)
কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর নিয়ে গঠিত নেত্রকোনা-১ আসনের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা দুর্গাপুর। ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৭ জন। বিএনপির প্রার্থী ও কেন্দ্রের আইন সম্পাদক কায়সার কামাল কলমাকান্দার স্থানীয়। জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি গোলাম রব্বানী খেলাফত মজলিসের হয়ে নির্বাচন করছেন। তিনিও এ উপজেলার স্থানীয় ও ১৯৮৮ সালে জাপার হয়ে এমপি হয়েছিলেন। ফলে কলমাকান্দার ২ লাখ ৪৪ হাজার ১৮৫ ভোট একই দলের সাবেক ও বর্তমান দুই নেতার মধ্যে ভাগাভাগি হলে ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারে দুর্গাপুর। কলমাকান্দার আরেক স্থানীয় প্রার্থী কমিউনিস্ট পার্টির আলকাস উদ্দীন মীর।

নেত্রকোনা-২ আসনে মোট ৫ প্রার্থীর চারজনই সদরের স্থানীয়। প্রভাবক হতে পারেন বারহাট্টার ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭১১ ভোটার। নেত্রকোনা-৩ এও মোট ৬ প্রার্থীর চারজন কেন্দুয়ার। বিএনপির দলীয় প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হেলালীর প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন বিদ্রোহী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া। ভোটের প্রভাবক হতে পারে আটপাড়া উপজেলা। ১৯৯৬ সালের পর নেত্রকোনা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিপরীতে বিএনপি জয় পায় কেবল ২০০১ সালে। এমপি হন লুৎফুজ্জামান বাবর। পরে তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও হয়েছিলেন। মদন উপজেলার স্থানীয় বাবর এবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় এ আসনে প্রভাবক হতে পারে মোহনগঞ্জ উপজেলা; ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৮১ জন।

ময়মনসিংহ জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ৯টি এক উপজেলাকেন্দ্রিক। দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ-১ এ প্রভাবক হতে পারে ধোবাউড়া। বিএনপির দলীয়, বিদ্রোহী ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা হালুয়াঘাটের স্থানীয়। ময়মনসিংহ-২ এ বিএনপির দলীয়, বিদ্রোহী, জাতীয় পার্টির প্রার্থী তারাকান্দার স্থানীয়। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আসনের বাইরের উপজেলার। ফলে তারাকান্দার ভোট যখন ভাগাভাগি হবে তখন আসনটির ফুলপুর উপজেলার ৩ লাখ ১৭ হাজার ভোট ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারে।

রংপুর বিভাগ: মোট নির্বাচনী আসন ৩৩ (তথ্য সংগ্রহ ২২টির)
সিটি করপোরেশনের একাংশ ও গঙ্গাচড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-১ আসনে বিএনপি, জামায়াত, জাপার প্রার্থীরা গঙ্গাচড়ার স্থানীয়। এ উপজেলার ২ লাখ ৫১ হাজারের মধ্যে অধিকাংশ ভোট যে প্রার্থীর পক্ষে যাবে তিনি এগিয়ে থাকবেন। রংপুর-২ এ প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনিসহ বিএনপি ও জাপার প্রার্থী এ উপজেলার স্থানীয়। ফলে প্রভাবক হতে পারে আরেক উপজেলা তারাগঞ্জ। ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় রংপুর-৪ এ কাউনিয়ার বিপরীতে মুখ্য হতে পারে পীরগাছার ২ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫৪ ভোট।

তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত পঞ্চগড়-১ আসনে তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারীর বিপরীতে সদর এবং পঞ্চগড়-২ এ বোদার বিপরীতে প্রভাবক হতে পারেন দেবীগঞ্জের ৩ লাখ ৪ হাজার ৮৪৬ ভোটার। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও কেন্দ্রের পল্লি উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদের বিপক্ষে লড়বেন সাবেক এমপি আজহার হোসেনের ছেলে মাহমুদ হোসেন সুমন। দুজনেরই বাড়ি বোদা উপজেলায়।

এ ছাড়া ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় লালমনিরহাট-১ আসনে পাটগ্রামের বিপরীতে হাতীবান্ধা, লালমনিরহাট-২ এ আদিতমারীর বিপরীতে কালীগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও-২; হরিপুর ও রাণীশংকৈলের দুটি ইউনিয়ন, ঠাকুরগাঁও-৩; পীরগঞ্জ, নীলফামারী-১; ডিমলা এবং নীলফামারী-৪ আসনে প্রভাবক হতে পারে কিশোরগঞ্জ উপজেলার ভোট।

সিলেট বিভাগ মোট আসন-১৯ (তথ্য সংগ্রহ ১০টির)
সিটি করপোরেশনের এলাকা ও সদর নিয়ে গঠিত সিলেট-১ আসনের প্রভাবক হতে পারেন নতুন ৪০ হাজার ১৫০ ভোটার। এ ছাড়া ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় সদর উপজেলাও গুরুত্বপূর্ণ। সিলেট-২ এ বিশ্বনাথ এবং সিলেট-৩ আসনে প্রভাবক হতে পারেন দক্ষিণ সুরমার ২ লাখ ১৮ হাজার ২৭৭ জন ভোটার। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল মালিক দক্ষিণ সুরমার স্থানীয়। তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি। আসনের নতুন ভোটার ৪৩ হাজার ৩৬২ জন।

সিলেট-৪ এ উপজেলাভিত্তিক ভোটারের তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। সিলেট-৫ আসনে কানাইঘাটের বিপরীতে ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় ফ্যাক্টর হতে পারে জকিগঞ্জ। ভোটার ২ লাখ ৭১ হাজার ২৫২ জন। এখানে বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক। তিনি কানাইঘাটের স্থানীয়। সেখানে ভোটার ২ লাখ ১৯ হাজার ৭০৪ জন। বিএনপি জোটের বিদ্রোহী হয়েছেন মামুনুর রশীদ মামুন। তিনি জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সহসভাপতি। ২ লাখ ৬৬ হাজার ৭১১ ভোটার নিয়ে সিলেট-৬ আসনের প্রভাবক হতে পারে গোলাপগঞ্জ।

হবিগঞ্জ জেলার চারটি আসনের মধ্যে হবিগঞ্জ-১; নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ-২; আজমিরীগঞ্জ, হবিগঞ্জ-৩; লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনে ভোটার সংখ্যা ও প্রার্থীদের আঞ্চলিকতা বিবেচনায় প্রভাবক হতে পারে মাধবপুর।

খুলনা বিভাগ: মোট আসন ৩৬ (তথ্য সংগ্রহ ৮টির)
মেহেরপুর সদর উপজেলার ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৫৯ ভোটারের বিপরীতে মেহেরপুর-১ আসনে স্থানীয় প্রার্থী দুজন। বিএনপির মাসুদ অরুণ ও সিপিবির মিজানুর রহমান। অপরদিকে ৮৯ হাজার ২১৬ ভোটারের মুজিবনগরে স্থানীয় প্রার্থী জামায়াতের তাজউদ্দীন খান ও জাতীয় পার্টির আব্দুল হামিদ। ফলে ভোটের সমীমরণে এগিয়ে থাকতে হলে জামায়াত কিংবা জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের নিজ এলাকা (মুজিবনগর) ছাপিয়ে সদরেরও উল্লেখযোগ্য ভোট পেতে হবে।

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের তিন প্রার্থীই আলমডাঙ্গার। এখানকার ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭ হাজার ৫৬৪। প্রার্থীদের এগিয়ে থাকতে হলে সদর উপজেলার একাংশের ২ লাখ ৬ হাজার ১৫৪ ভোটারের উল্লেখযোগ্য সংখ্যককে নিজেদের দিকে টানতে হবে। চুয়াডাঙ্গা-২ এর মোট তিন প্রার্থীর (বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন) সবাই জীবননগরের। সেখানে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৭। আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯২ হাজার ৩৭৯ জন। ফলে ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারে দামুড়হুদা ও সদরের একাংশ।

এ ছাড়া কুষ্টিয়া-২ আসনে ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় ভেড়ামারার বিপরীতে মিরপুর উপজেলা এবং কুষ্টিয়া-৪ এ খোকসার বিপরীতে প্রভাবক হতে পারে কুমারখালী। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে কুষ্টিয়া-২ আসনে ৬৪ হাজার ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হলেও জামায়াতের প্রার্থী পেয়েছিলেন প্রায় অর্ধেক; ৩০ হাজার ৬৩২টি। ২০০১ সালে বিএনপি আসনটি ধরে রেখেছিল। কিন্তু ২০০৮ সালে ১৪ দলীয় জোটের পক্ষে জয়ী হন জাসদের হাসানুল হক ইনু। অপরদিকে কুষ্টিয়া-৪ এ ১৯৯৬ সালে জামায়াত ২৬ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিল। জয়ী হন বিএনপির সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। এবার বিএনপির প্রার্থী জেলা কমিটির সদস্য সচিব জাকির হোসেন। জামায়াত মনোনয়ন দিয়েছে ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজাকে। সমকাল




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD