বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন




স্বপ্ন নয় বাস্তব

পঞ্চগড়ে সবুজ পাতার সঙ্গে ঝুলে আছে থোকা থোকা আঙুর

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬ ৯:৫০ am

সুস্বাদু ফল আঙুর খেতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ হয়ত কোথাও খুঁজেও পাওয়া যাবে না; কিন্তু বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ফল আঙুরের বাজার মূল্য অত্যন্ত চড়া ও দুষ্প্রাপ্য হওয়ায় এটির ক্রয়ক্ষমতা বরাবরই থাকে সাধারণের নাগালের বাইরে।

এমন অবস্থায় আশার সঞ্চার করেছে পঞ্চগড়ে আঙুর ফল উৎপাদনে সফলতায়। পঞ্চগড় সদর উপজেলার তালমা গ্রামের কয়েকটি বাগানে এখন সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলে আছে থোকা থোকা আঙুর। এটি বিদেশের কোনো আঙুর বাগানের ছবি নয়। এ ছবি বাংলাদেশের মানচিত্রে পাখির ঠোটের মতো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সর্বপ্রথম জেলা পঞ্চগড়ের।

এদিকে আঙুর উৎপাদনের এমন বিস্ময়কর দৃশ্য উপভোগ করতে বিভিন্ন স্থান থেকে অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসছেন আঙুর বাগানে। কেউ কেউ আবার বাগানে ছবিও তুলছেন। আঙুর উৎপাদনের এমন বিস্ময়কর সফলতা দেখে মুগ্ধও হচ্ছেন অনেকেই।

দেশের সর্ব উত্তরের জনপদ পঞ্চগড় সমতলের চা উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থান দখল করার পর এবার আঙুর চাষে সফলতা যেন ধরা দিল। গত দুই যুগ ধরে পাথর ও বালির রাজ্য খ্যাত পঞ্চগড় জেলায় এবার নাম যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির সুমিষ্ট আঙুর ফল উৎপাদনের সফলতার। শীতপ্রধান অঞ্চল হিসেবে পরিচিত পঞ্চগড় জেলায় ধান, ভুট্টা, গম, আলুর পর চা ইতোমধ্যে কৃষি অর্থনীতিতে আলাদাভাবে জায়গা করে নিয়েছে।

এবার পরীক্ষামূলক ও বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করে ইতোমধ্যে সফলতার মুখও দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিশেষ করে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের তালমা এলাকাসহ জেলার কয়েকটি স্থানে গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন আঙুর বাগান।

স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগ ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে বিদেশি জাতের আঙুর চাষে ইতোমধ্যে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন উদ্যোক্তারা।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের তালমা এলাকার প্রধানপাড়া গ্রামের মনিরুজ্জামান সুমন অনেকটা শখের বসে শুরুতে অল্প কিছু আঙুর গাছ রোপণ করেছিলেন। পরে তিনি দেখতে পান এই এলাকার মাটি ও আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য বেশ উপযোগী। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এখন বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ শুরু করেছেন তিনি।

প্রায় ৫০ শতক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে লাগানো গাছগুলোর বয়স মাত্র ১১ মাস হলেও ইতোমধ্যে ভালো ফলন এসেছে। বাজারে আঙুরের চাহিদা বেশি থাকায় লাভের সম্ভাবনাও অনেক ভালো বলে আশা করছেন মনিরুজ্জামান সুমন।

বাগানের কেয়ারটেকার মো. মিরাজ ইসলাম বলেন, আমাদের বাগান এখনো নতুন। এখানে তিনটি জাতের প্রায় ৪শ আঙুর গাছ রয়েছে। আমরা আশাবাদী, আগামী বছর আরও বেশি ও ভালো ফলন পাব। আমাদের উৎপাদিত আঙুরগুলো বেশ মিষ্টি ও সুস্বাদু। বাগানে যারা ঘুরতে আসছেন, তাদেরও আঙুর খাইয়ে দেখাচ্ছি। সবাই এর স্বাদ ও মানের প্রশংসা করছেন। এতে আমরা আরও উৎসাহ পাচ্ছি। আমরা এখান থেকে চারা উৎপাদন করে বিক্রি করছি।

আরেক কৃষক আব্দুর রফিক বলেন, আগে ভাবতাম আঙুর শুধু বিদেশেই হয়। এখন নিজের জমিতে আঙুর ফলাতে পেরে খুব ভালো লাগছে। স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ পাচ্ছি। যদি সরকারি সহযোগিতা বাড়ে তাহলে আরও বড় পরিসরে চাষ করা সম্ভব হবে।

আঙুর বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থী আব্দুর রহমান বলেন, পঞ্চগড়ে এভাবে আঙুর চাষ হবে কখনো কল্পনাও করিনি। বাগানে এসে খুব ভালো লাগছে। অনেকেই ছবি তুলছেন, পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন। এটা পর্যটনের মতো আকর্ষণও তৈরি করেছে। স্থানীয়ভাবে আঙুর উৎপাদন হলে মানুষ বিষমুক্ত ফল খেতে পারবে।

এদিকে নিজ বাড়ির ছাদে আঙুর চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কলেজছাত্র ও কৃষি উদ্যোক্তা আল ফারুক সবুজ। পঞ্চগড় পৌর এলাকার রাজনগর মহল্লার এই তরুণ উদ্যোক্তা সবুজ তার প্রতিবেশী চাচা মতিয়ার রহমানের তিনতলার বাড়ির ছাদে ১৮-২০ জাতের ৩৬টি চারা রোপণ করেছেন। প্রশিক্ষণ বা পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই ইন্টারনেটের সহায়তা নিয়ে গড়ে তুলেছেন এই ব্যতিক্রমী বাগান।

সবুজ জানান, প্রথমে আমি আমার নিজ বাড়িতে একটি আঙুরের চারা রোপণ করি; কিন্তু গাছে প্রচুর ফল আসার পর দেখি আঙুর টক। পরে এ নিয়ে ইন্টারনেটে ঘাটাঘাটির পর বাগান আকারে আঙুর চাষ করার পরিকল্পনা করি। কিন্তু আমার তো জমি নাই। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেশী চাচার সঙ্গে কথা বললে তিনি তার ছাদে বাগান করার অনুমতি দেন। প্রথমবারেই সাফল্য পাই। আমার স্বপ্ন এই অর্গানিক আঙুর জেলাজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আসাদুন্নবী বলেন, পঞ্চগড়ের আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণ বিদেশি বিভিন্ন ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। আঙুর চাষ নিয়েও আমরা কৃষকদের নিয়মিত উৎসাহিত করছি। আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে এ জেলায় বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন কৃষক সফলতার মুখ দেখেছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD