সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৯:০৪ অপরাহ্ন




৭ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬ ৫:৩১ pm
flood Water level Of Jamuna jamuna-river প্লাবন flood flood Disaster Flood Safety adb Flood Flooding overflow water rain snow coastal storms storm surges dangerous floodwaters floodwater বন্যা কবলিত পানি প্রবাহ প্রবাহিত পানি জোয়ার ভাটা কৃষি জোয়ার-ভাটা দুর্যোগ বন্যা বন্যার্ত পানি বন্যা-Kurigram বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই
file pic

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সোমবার এমন পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ।

পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের নেত্রকোনা জেলার জারিয়াজঞ্জাইলে ৭৪ মিলিমিটার; হবিগঞ্জ জেলার হবিগঞ্জে ৭৪ মিলিমিটার ও চাঁদপুর-বাগানে ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সকাল ৯টার তথ্যানুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় উত্তর পূর্বাঞ্চলের হাওর বেসিনের তিনটি জেলার সাতটি নদীর ৮টি স্টেশন প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সুনামগঞ্জ জেলার নলজুর নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ সেন্টিমিটার ওপরে (জগন্নাথপুর); নেত্রকোনার ধনু-বাউলাই নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৮ সেন্টিমিটার ওপরে (জারিয়াজঞ্জাইল); সোমেশ্বরী নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে ৫০ সেন্টিমিটার উপরে (কলমাকান্দা); ভুগাই-কংশ নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে ৬৭ সেন্টিমিটার উপরে (জারিয়াজঞ্জাইল); মগরা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৭৯ সেন্টিমিটার ওপরে (নেত্রকোনা); মগরা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে (আটপারা) প্রবাহিত হচ্ছে।

হবিগঞ্জ জেলার কালনি নদী ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ১০ সেন্টিমিটার ওপরে (আজমিরিগঞ্জ), সুতাং নদী ২৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩ সেন্টিমিটার ওপরে (সুতাং রেলব্রিজ), সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে নদীগুলোর পানির সমতল ঘণ্টায় ০ থেকে ১ সেন্টিমিটার হারে অত্যন্ত ধীরগতিতে বাড়ছে।

এদিকে ভারতের বিশেষ বুলেটিন থেকে জানা গেছে, মেঘালয় ও আসামে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সোমবার সকালে দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রাজশাহী , ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারী ও ভারী এবং অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

পাউবোর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার প্রধান নদীসমূহের মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা ও ধনু-বাউলাই নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি গেয়েছে। অপরদিকে ভুগাই-কংস নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে (আগরতলা-ত্রিপুরা) এবং অভ্যন্তরে হাওর অববাহিকায় মাঝারি-ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলে আগামী ১ দিন মাঝারী থেকে মাঝারী-ভারী এবং পরবর্তী ২ দিন মাঝারী-ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসমূহের পানি সমতল আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। দ্বিতীয় দিন কুশিয়ারা নদীর কোথাও কোথাও পানি সমতল প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওর-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যাপরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

পাউবো জানিয়েছে, নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীসমূহের পানি সমতল আগামী ৩ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস অববাহিকার হাওর-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ধনু-বাউলাই নদীসমূহের পানি সমতল আগামী ৩ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। এই অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ জানিয়েছে, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীসমূহের পানি সমতল আগামী ২ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং তৃতীয় দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। জুড়ি নদীর পানি সমতল আগামী ৭২ ঘন্টায় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। সুতাং নদীর পানি সমতল আগামী ১ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। পরবর্তী ২ দিন হ্রাস পেতে পারে, এবং প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় হবিগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD