শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন




আস্থার সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে পেনশন স্কিম

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬ ১০:৩৩ am
pension scheme Universal Pension pension সর্বজনীন পেনশন পেনশন স্কিম বিধিমালা
file pic

আস্থার সংকটে পড়েছে সর্বজনীন পেনশন স্কিম। নতুন করে স্কিমে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহে ধীরগতি তৈরি হয়েছে। আর আগে থেকে যারা স্কিমে যুক্ত, তাদের বড় অংশই চাঁদা পরিশোধে অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। ফলে সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে যে প্রত্যাশার পারদ তৈরি করা হয়েছিল, তা অনেকটাই থিতিয়ে পড়েছে।

এদিকে আস্থার সংকট উত্তরণের মাধ্যমে ঝিমিয়ে পড়া পেনশন স্কিমে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে করণীয় নির্ধারণে গত মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় পেনশন স্কিম কর্তৃপক্ষের বৈঠক হয়। এতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় অর্থমন্ত্রী সর্বজনীন পেনশন স্কিমে জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, প্রচার কার্যক্রম জোরদার, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষ ও পেশাদার জনবল নিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের প্রতিটি থেকে কমপক্ষে একজন সদস্যকে পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশনা দেন। শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন তিনি।

জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীরা কর্মজীবন শেষে পেনশন সুবিধা পেলেও বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের জন্য এ সুবিধা নেই। মূলত এ ধরনের কর্মজীবী মানুষের জন্য ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু হয়। পেনশন স্কিম পরিচালনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের আওতাধীন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়।

কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের আর্থিক অনিয়ম, লুটপাট ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষের কাছে এ ধরনের স্কিম সরকারের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একটি নতুন কৌশল বলেই সাধারণ মানুষের কাছে এ ধরনের উদ্যোগের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ফলে স্কিমের প্রতি সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের অনাগ্রহ দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে স্কিম গ্রহণে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সেবাপ্রাপ্তিতে স্কিম গ্রহণে এক ধরনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। থানা কর্মকর্তাদের স্কিমের লক্ষ্যমাত্রাও বেঁধে দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে এসব স্কিমে নাম লেখালেও তাদের মধ্যে এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হয়।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় চারটি স্কিম চালু করা হয়। বিদেশে কর্মরত বা অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ‘প্রবাস স্কিম’; অনানুষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক, শ্রমিক, কামার-কুমার, জেলে-তাঁতি, দোকানদার, ব্যবসায়ী ও গৃহিণীদের জন্য ‘সুরক্ষা স্কিম’; বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মচারীদের জন্য ‘প্রগতি স্কিম’ এবং স্বল্প আয়ের নাগরিকদের (যাদের বার্ষিক আয়সীমা অনূর্ধ্ব ৬০ হাজার টাকা) জন্য ‘সমতা স্কিম’। সমতা স্কিমে মাসিক চাঁদার পরিমাণ এক হাজার টাকা। এর মধ্যে স্কিম গ্রহীতা ৫০০ টাকা এবং সরকার বাকি ৫০০ টাকা দেবে। অন্য স্কিমগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এ চারটি স্কিমের পাশাপাশি স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা এবং তাদের অধীন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় ‘প্রত্যয় স্কিম’ নামে নতুন স্কিম চালু করা হয়। ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে নতুন যোগদান করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এ স্কিমটি বাধ্যতামূলক করেছিল সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পরই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। কোনো আলোচনা ছাড়াই এ ধরনের স্কিমে অন্তর্ভূক্ত করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করায় শিক্ষকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ ধরনের স্কিম একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বৈষম্য তৈরি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। শিক্ষকরা প্রত্যয় স্কিমের বিরুদ্ধে যখন আন্দোলন করছিলেন, তখন ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার আন্দোলন একদফার আন্দোলনে রূপ নেয়। শিক্ষকদের আন্দোলন মাঠ থেকে ফিরিয়ে আনতে ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ‘প্রত্যয় স্কিম’ পুরোটাই বাতিল করে সরকার। কিন্তু এটি বাতিলের একদিন পরই ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন ঘটে এবং তিনি ভারতে পালিয়ে যান।

এরপর সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে আন্দোলনের কারণে প্রত্যয় স্কিম বাতিলে সরকার বাধ্য হওয়ায় অপর চলমান স্কিমগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের বড় ধরনের আস্থার সংকট তৈরি হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে খুব কম মানুষই পেনশন স্কিমে যুক্ত হয়েছেন।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রবাস স্কিমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ৯০৯ জন। প্রগতি স্কিম গ্রহণ করেছিলেন ২২ হাজার ৩১৫ জন। সুরক্ষা স্কিমে অন্তর্ভূক্তির সংখ্যা ছিল ৬২ হাজার ৯৩৩ জন। সমতা স্কিমে এ সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৮৪ হাজার ৮৪০ জন। চারটি স্কিমে মোট যুক্ত ছিলেন তিন লাখ ৭১ হাজার ৫৭ জন এবং তাদের কাছ থেকে সংগৃহীত চাঁদার পরিমাণ ছিল ২৪৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

গত এপ্রিল পর্যন্ত চারটি স্কিমে যুক্ত রয়েছেন তিন লাখ ৭৭ হাজার ৫৫৪ জন। সে হিসাবে গত ২১ মাসে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ছয় হাজার ৪৮৮ জন এবং এ সময়ে জমার মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রবাস স্কিমে ১৭১ জন, প্রগতি স্কিমে দুই হাজার ৩৭৮ জন, সুরক্ষা স্কিমে এক হাজার ৯৮৫ এবং সমতা স্কিমে দুই হাজার ৩১৪ জন যুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে পেনশন স্কিমের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭২ কোটি টাকায়।

সূত্র জানায়, বর্তমানে যারা পেনশন স্কিমগুলোতে যুক্ত রয়েছেন তাদের ৪০-৪৫ শতাংশ নিয়মিত চাঁদা দিচ্ছেন না। স্কিমগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা ও অনাস্থা তৈরির কারণে এমনটা ঘটছে।

পেনশন কর্তৃপক্ষের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পেনশন স্কিম গ্রহণে কয়েকটি জেলায় সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাড়া পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে কি নাÑএ নিয়ে তাদের মধ্যে বড় ধরনের সন্দেহ তৈরি হয়। কিন্তু আমাদের পক্ষে এটি স্পষ্ট করাও কঠিন ছিল। ফলে এ সময়ে স্কিম গ্রহণে আগ্রহীর সংখ্যা খুব একটা বাড়েনি।

বিএনপি সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের ফলে আগামী দিনে পেনশন স্কিমে বড় ধরনের গতি আসবে বলে মনে করছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে বেসরকারি খাতের কর্মীদের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘পেনশন ফান্ড’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। ফলে সরকারের সমর্থনে আস্থার সংকট কাটিয়ে জনগণের বিপুল সাড়া মিলবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।

পেনশন স্কিম নিয়ে নব উদ্যোগে কাজ করার কথা জানিয়েছেন, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান। তিনি বলেন, পেনশন স্কিমগুলোতে বেশকিছু পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাতে স্কিমগুলো আরো আকর্ষণীয় হয় এবং সাধারণ মানুষ উদ্বুদ্ধ হয়। পেনশন স্কিম সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নানা ধরনের প্রচার চালানো হবে, যাতে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্কিমগুলো গ্রহণে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। প্রচারের অংশ হিসেবে জেলায় জেলায় মেলার আয়োজন করা হবে। জেলা প্রশাসক, স্থানীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম নেওয়া হবে। প্রগতি স্কিমে যুক্ত হওয়ার জন্য বড় বড় বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এছাড়া প্রবাসী স্কিমের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যম কর্মশালার আয়োজন করা হবে।

তিনি বলেন, আমরা পেনশন স্কিম কারো ওপর চাপিয়ে দেব না। বরং মানুষ যাতে স্বতঃর্স্ফূতভাবে স্কিমে যুক্ত হতে পারেন, সে প্রচেষ্টা থাকবে। বাংলাদেশে পেনশন স্কিম নতুন হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের স্কিম অনেক আগে থেকে বিদ্যমান। নরওয়ে, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডসে শক্তিশালী পেনশন স্কিম রয়েছে। ভারতেও ‘অটল পেনশন যোজনা’ বেশ কার্যকর। আমাদের পেনশন স্কিমগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেন তা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। পেনশন স্কিম রাষ্ট্রের ওপর থেকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি জনগণের সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তরিত করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদ্যমান স্কিমগুলোকে আরো আকর্ষণীয় করতে বেশকিছু প্রস্তাবনা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে প্রবাসী স্কিমে সর্বোচ্চ মাসিক চাঁদার পরিমাণ ১০ হাজার টাকা। ১০ হাজার টাকার চেয়ে বেশি অর্থ যদি কেউ জমা দিতে চায়, সে ধরনের সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসীরা যদি দেশে ফিরে আসেন, তাহলে তারা যাতে সুবিধা অনুযায়ী অন্য স্কিমগুলোতে স্থানান্তরিত হতে পারেন, সে সুযোগ রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রগতি স্কিমে সর্বনিম্ন মাসিক কিস্তি এক হাজার টাকা। এ স্কিমে ৫০০ টাকার একটি নতুন স্ল্যাব তৈরির বিষয়টিও প্রস্তাবনায় রয়েছে। এছাড়া ৬০ বছর পূর্তিতে পেনশন শুরুর পর কর্পাস হিসাবে জমাকৃত (জমা ও লভ্যাংশ) অংশের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এককালীন উত্তোলনের সুযোগ রাখার বিষয়টিও রয়েছে প্রস্তাবনায়।

এদিকে বর্তমানে পেনশন স্কিম থেকে প্রাপ্ত অর্থ শুধু সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করা যায়। বন্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্জিত মুনাফা সুদভিত্তিক হওয়ায় অনেকে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও স্কিমে যুক্ত হচ্ছেন না বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। এজন্য বর্তমানে বিদ্যমান চারটি স্কিমের শরিয়াহভিত্তিক ভার্সন চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। এজন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে এ সংক্রান্ত নীতিমালা চেয়েছে তারা। স্কিমগুলোর চাঁদা, মাসিক পেনশনের পরিমাণ ও বিনিয়োগের মতো বিষয়গুলো নীতিমালায় থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। নীতিমালা পাওয়ার পর ইসলামি ভার্সন চালুর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইসলামিক স্কিম চালু হলে সেগুলো পরিচালনার জন্য একটি স্বাধীন শরিয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ড গঠন করবে পেনশন কর্তৃপক্ষ। বোর্ডে ইসলামি অর্থনীতিবিদ ও আলেমরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। স্কিমগুলোর ইসলামি ভার্সন চালু হলে বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠী পেনশন স্কিমগুলোতে যুক্ত হবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পেনশন স্কিমে যুক্ত হওয়ার বয়সসীমা

১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব থেকে ৫০ বছর বয়সি সব বাংলাদেশি নাগরিক জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে চলমান চারটি পেনশন স্কিমের মধ্য থেকে প্রযোজ্য স্কিমে যুক্ত হতে পারবেন। তবে বিশেষ বিবেচনায় ৫০ ঊর্ধ্ব বয়সি নাগরিকরাও স্কিমে যুক্ত হতে পারবেন। সেজন্য নিরবচ্ছিন্ন ১০ বছর জমা দেওয়ার পর আজীবন পেনশন প্রাপ্ত হবেন।

পেনশন ফান্ড থেকে ঋণ

নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে জমাকারী ইচ্ছা করলে তার জমার বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ঋণ নিতে পারবেন। পেনশন কর্তৃপক্ষ ধার্যকৃত ফিসহ ২৪ কিস্তিতে তা পরিশোধ করা যাবে।

বার্ষিক জমার সুযোগ

সব স্কিমের জন্য জমাকারী পছন্দমাফিক মাসিক, ত্রৈমাসিক বা বার্ষিক ভিত্তিতে কিস্তির অর্থ জমা দিতে পারবেন। সর্বোচ্চ ১২ মাসের সমপরিমাণ অর্থ অগ্রিম হিসাবে জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

কিস্তি অনিয়মিত হলে করণীয়

যারা ইতোমধ্যে পেনশন স্কিমে যুক্ত হয়েছেন, তারা পুরোনো কিস্তির টাকা জমা দিয়ে পুনরায় এটিকে সচল করতে পারবেন।

পেনশনের অর্থ কখন পাওয়া যাবে

স্কিমে জমাকারীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে জমা দেওয়ার শর্তে ৬০ বছর পূর্তিতে আজীবন মাসিক নির্ধারিত হারে পেনশন প্রাপ্য হবেন এবং তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। যদি ১০ বছর জমার আগেই স্কিমগ্রহণকারী মারা যান, তাহলে সেটি নমিনিকে মুনাফাসহ এককালীন ফেরত দেওয়া হবে। অন্যদিকে স্কিম গ্রহীতা ৭৫ বছরের আগে মারা গেলে নমিনি বা নমিনিরা কিংবা বৈধ উত্তরাধিকারীরা অবশিষ্ট সময়ের জন্য (৭৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত) পেনশন প্রাপ্ত হবেন। নমিনিরাও যাতে আমৃত্যু পেনশন সুবিধা পান, সে বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। আমার দেশ




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD