সরকারী দল বিএনপিকে হুশিয়ারি দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আপনারা উল্টা পথে চলছেন। আপনারা মনে রাখবেন যেই পথ ধরে স্বৈরাচার চলেছিল, একই পথ ধরে আপনারাও হাটছেন। স্বৈরাচারের যে পরিণতি অতীতে হয়েছে, এই পথ থেকে ফিরে না আসলে আপনাদের পরিণতি ভিন্ন হবে না।’
শনিবার রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ১১দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের নেতা বলেছিলেন দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবেন। আপনারা ক্ষমতায় এসেই বললেন সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু নেওয়া হলে, এটা চাঁদা না। আপনাদের নাম ছিল জাতীয়তাবাদী দল। এখন মানুষ বলে চাঁদাবাজি দল।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিবাদীরা পালিয়ে যায়নি। যেদিন এই তরুণ তরুণীরা সিদ্ধান্ত নিয়ে সামনে এসেছিল, জনগণ তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিল। এখন সরকারি দলের বন্ধুরা তাদের কাউকে বলে শিশু পার্টি, আর কাউকে বলে গুপ্ত। এর পাওনা বুঝে নেওয়ার জন্য তৈরি হও। এই জাতি ঠিকই পাওনা বুঝিয়ে দেবে।’
তিনি বলেন, ‘আপনাদের নেতা বলেছিলেন আমরা যদি ধোকা দেই আগামীতে জনগণ আমাদেরকে আস্থাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে। সেই আস্থাকুঁড়ে দেখার জন্য আপনারা তৈরি হন। গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করার মানে হচ্ছে এদেশের জনগণকে অপমান করা। তাদের ভোটকে অস্বীকার করা। জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অতীতে কেউ কোনদিন রেহাই পায়নি। আপনারাও রেহাই পাবেন না। সময় থাকতে অনুরোধ করি এখনো সৎ পথে ফিরে আসুন। জাতির সাথে গাদ্দারি করবেন না।’
প্রশাসক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনারা ইশতেহারে লিখেছিলেন বাংলাদেশের কোথাও অনির্বাচিত কোন জনপ্রতিনিধি থাকবে না। সরকার গঠন হওয়ার পর ৪২ টা জেলায় ইতিমধ্যে আপনারা প্রশাসক নিয়োগ করেছেন। প্রশাসক কি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি? আপনারা তো আপনাদের ইশতেহারের সাথেই বিশ্বাসঘাতকতা করছেন।’
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে দাবি করেন জামায়াত আমির বলেন, ‘আপনারাই উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, প্রক্টরসহ সবাইকে সরিয়ে দিয়ে দলকানা লোকদেরকে সেখানে বসাচ্ছেন। এটা জাতির সাথে প্রহসন।’
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের নির্যাতন করা হচ্ছে দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, ‘প্রতিবেশীকে আমরা সম্মান করি। আমরা চাই আপনারা শান্তিতে থাকুন। কিন্ত আমরা দেখতে পাচ্ছি সেখানে শুধু মুসলিম নামের পরিচয় মানুষকে নাজেহাল করা হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সংসদে দেশের সমস্যা, অর্থনীতি, বেকারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়না। চর্চা হয় ৫৫ বছর আগে কে কি ছিল তাই নিয়ে। তখন যাদের ভুমিকা ছিলো আমরা তাদের সেলুট জানাই। কিন্ত একটা জাতির যদি ভবিষ্যতের দিকে না তাকিয়ে, চিংড়ি মাছের মত শুধু পিছনের দিকে তাকায়, তাহলে এই জাতি এগিয়ে যেতে পারবে না।’
পদ্মার পানির সুষ্ঠু বন্টনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পদ্মা-তিস্তার শুকনা মৌসুমে মরুভমি আর বর্ষার মৌসুমে এটা দুর্ভোগের কারণ। এখন এই মৌসুমে কৃষকের পানির প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের পানি দরকার। সরকারকে আমরা সাধুবাদ জানাই, তারা ইতিমধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন। এটা যেন লোক দেখানো না হয়, বাস্তবায়ন যেন হয়।’
এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) ওলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, ‘সাংবিধানিক পদে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আমরা বলেছিলাম সকল দলের সমন্বয়ে একটি কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষ নিয়োগ হোক। আমরা অরাজনৈতিক কাউকে নিয়োগ দাবি করেছিলাম। কিন্তু সেই দাবি মানেননি।’
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলম বলেন, ‘আমরা জাতীয় নির্বাচনে ছাড় দিয়েছি। কিন্তু স্থানীয় নির্বাচনে ছেড়ে দেয়ার কোন সুযোগ নাই। কেউ যদি ভোটের অধিকার চুরি করতে চায়, ব্যালট বাক্সে হামলা করতে চায়, উপনির্বাচনের মত এই ভোট বয়কট করবো না। বরং হয় ওই ভোট বন্ধ হবে। না হলে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে।’
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সিরাজগঞ্জ-০৪ আসনের এমপি রফিকুল ইসলাম। আরও বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) জামায়াতের আমির ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-০৩ আসনের এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী প্রমূখ।