বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০৪:১৫ অপরাহ্ন




আওয়ামী লীগের ফেরার ২০ প্রেক্ষাপট তুলে ধরলেন মাহফুজ আলম

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬ ১২:৪৭ pm
Mahfuj Adviser উপদেষ্টা মাহফুজ
file pic

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দেশের রাজনীতিতে ‘ফিরে এসেছে’ বলে মনে করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। কীভাবে ফিরেছে, তা নিয়ে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই নেতা। পোস্টে আওয়ামী লীগের ফেরার ২০টির মতো কারণ ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, ‘লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে। কীভাবে ফিরল, সে গল্পই বলব আজ।’ কিছু সময় পরে তিনি এ নিয়ে আরেকটা পোস্ট দেন। সেই পোস্টে জুলাই আন্দোলনের পক্ষের সব শক্তির মধ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের একটি কমন স্পেইস তৈরির আহ্বান জানিয়ে যে যার জায়গা থেকে সক্ষম, যতবেশি সম্ভব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন গড়ে তোলার কথা বলেন।

প্রথম পোস্টে তিনি লেখেন, ‘লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে।’

তিনি লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন ২৪–কে ৭১–এর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল স্বাধীনতার বিরুদ্ধের শক্তি। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন থেকে ডানপন্থীদের উত্থানের জন্য অন্তরীণ সরকারের লোকজন কাজ করা শুরু করেছে, লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে। যেদিন আইনের শাসনের বদলে মবের শাসনে আনন্দ পেয়েছিল গত ১৭ বছরের মজলুমগণ।’

মাজারে হামলা, হিন্দুদের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে সরব না হওয়াও আওয়ামী লীগের ফেরার পথ সুগম করেছে মন্তব্য করে মাহফুজ আলম আরও লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন থেকে উগ্রবাদীরা মাজারে হামলা করেছে, মসজিদ থেকে ভিন্নমতাবলম্বীদের বের করে দিয়েছে। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন হিন্দুদের উপর নিপীড়ন নিয়ে মজলুমগণ চুপ ছিল।’

ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে ডানপন্থার উত্থানের আশঙ্কা এবং উগ্রবাদীদের নিরাপদ জায়গা করে দেওয়াটা আওয়ামী লীগের ফেরার জন্য সহায়ক হয়েছে জানিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন সেক্যুলার মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষজন এ দেশে সরকার প্রযোজিত ডানপন্থার উত্থানে ভয় পেয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন মবস্টারদের এ দেশে হিরো বানানো হয়েছিল। উগ্রবাদীর সেফ স্পেইস দেয়া হইসিল।’

অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি লিখেছেন, লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ব্যবস্থা বিলোপের বদলে ন্যূনতম সংস্কার ও ঐকমত্য কমিশন নাম দিয়ে জনগণকে বিচ্ছিন্ন এবং হতাশ করা হলো। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন থেকে বিএনপি ও অন্তরিণ সরকারের বিরুদ্ধে গেল আর বিএনপি ও ঠেকাতে জামায়াতকে কোলে নিল অন্তরীণ।’

মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ছাত্ররা বিপ্লবী সংগঠনে রূপ না নিয়ে লুম্পেন চরিত্রের ক্লাব আর মবে রূপ নিয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন মিডিয়া আর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা প্রযোজিত হলো। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন অন্তরিণ সরকার পলিটিক্যাল থেকে আমলাতান্ত্রিক হলো এবং আমলানির্ভর কিচেন ক্যাবিনেট থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু হলো। যে কিচেন ক্যাবিনেটের অধিকাংশ লোকই ছিল জামায়াত-বিএনপি বা লীগের ছুপা দালাল। যাদের কাছে জুলাই মানে ছিল, নিজেদের পরিবার, প্রজন্ম আর প্রতিষ্ঠানের স্বার্থরক্ষা।’

আওয়ামী লীগের ফেরার জন্য সহায়ক হয়েছে এ রকম আরও কিছু বিষয় তুলে ধরে মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রের বদলে সংঘতন্ত্র জয়ী হল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন নতুন মিডিয়া অনুমোদনে বাধা দেওয়ার জন্য একজোট হইসিল কিচেন ক্যাবিনেট। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন জুলাই ঘোষণাপত্র কিংবা সনদের প্রক্রিয়া তুলে দেয়া হইসিল আমলাতন্ত্র আর ভেস্টেড ইন্টারেস্ট গ্রুপের হাতে। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন বাম-শাহবাগী পিটাইলে আনন্দ পেয়েছিল মজলুমগণ।’

মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন এদেশে কাওয়ালি/ইনকিলাবি কালচারের মতন রিগ্রেসিভ কালচার–ব্যবস্থা দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদ মোকাবেলার মহারম্ভ হয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন নির্বাচনি বাঁটোয়ারার মাধ্যমে সংস্কার ও বিচারকে কম্প্রোমাইজ করা হলো এন্ড বিএনপি-জামাতের বার্গেইনিং টুল বানানো হলো। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন কমিশন, ট্রাইবু৵নাল, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদিকে একটি আদর্শের লোকদের মাধ্যমে ক্ষমতারোহণের বার্গেইনিং টুলে পরিণত করা হল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন কালচারালি-ইন্টেলেকচুয়ালি যারা জুলাইয়ে আমাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল, তাদের বাদ দিয়ে জিরো কন্ট্রিবিউশন গুপ্তদের ক্ষমতায়িত করা হলো।’ এই তালিকা আরও বাড়বে বলে পোস্টের শেষাংশে উল্লেখ করেছেন মাহফুজ আলম।

পোস্টের শেষে মাহফুজ লেখেন, ‘লীগ ফিরত আসবে। কারণ, সব দোষ মাহফুজ আলমের। প্রচারে- নিখিল বাংলাদেশের চিরকাল মজলুম-ডানপন্থী বলয়, অন্তরীণ কিচেনের দালাল-সুবিধাভোগী গুপ্ত বলয়, এবং দিস এন্ড দোস বটফোর্সেস, সিন্ডিকেট আর গং মানে গয়রহ।’

তার এই পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হলে আরেকটি পোস্টে মাহফুজ লেখেন, ‘যারা আগের পোস্টকে পর্যালোচনা হিসাবে পাঠ করেছেন, তাঁদের জন্য বলছি। আমাদের এখনকার কাজ হল- সকল নিপীড়নের বিরুদ্ধে, নিপীড়িতের পক্ষে থাকা। দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকের মানবাধিকারের পক্ষে থাকা। হঠকারী, উগ্রবাদী এবং অন্তর্ঘাতমূলক রাজনীতিকে পরাস্ত করা। সংখ্যালঘু ও মাজারপন্থিদের উপর হামলার বিচার করার দাবি অব্যাহত রাখা। জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিকে প্রধান করে তোলা এবং বিচারের ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে থাকা। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে বর্তমান সরকারকে বাধ্য করা।’

তিনি লেখেন, ‘বাংলার বহু ভাষা-সংস্কৃতিকে যাপন-উদযাপন করা এবং রিগ্রেসিভ-ডিফিটিস্ট কালচারাল লড়াইকে জায়গা না দেয়া। কালচারালি-ইন্টেলেকচুয়ালি যারা বিভিন্ন বর্গ থেকে জুলাইয়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদেরকে ঔন করা। লীগের ফ্যাসিস্টদের লক্ষ্যবস্তু এরাই।’

জুলাই আন্দোলনের পক্ষের সব শক্তির মধ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের একটি কমন স্পেইস তৈরির আহ্বান জানিয়ে যে যার জায়গা থেকে সক্ষম, যতবেশি সম্ভব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD