পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি সরকার তিস্তা ব্যারেজও নির্মাণ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার গাজীপুরে এক সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের সকলের সামনে আজকে আমি পরিষ্কার একটি কথা বলে যাই, ইনশাআল্লাহ বিএনপি সরকার পদ্মা ব্যারেজের কাজেও হাত দেবে, তিস্তা ব্যারেজের কাজেও হাত দেবে।”
গাজীপুরের সাতাইশ চৌরাস্তায় জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন সরকারপ্রধান।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতি রক্ষায় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানিসঙ্কট দূর করতে সাড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার।
বিএনপি সরকার গঠনের পর গেল ১১ মে তৃতীয় একনেক বৈঠকে এই প্রকল্প অনুমোদনের মাধ্যমে প্রথম মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হল। ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেব বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, “যারা বড় বড় কথা বলছে, তাদের উদ্দেশ্যে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এই যে আজকে এখানে দুর্যোগমন্ত্রী (আসাদুল হাবিব দুলু) বসে আছেন, এই লোকটার নেতৃত্বেই তিস্তায় বিএনপি কর্মসূচি পালন করেছে; যা বাংলাদেশে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল করে নাই। তারা হয়ত বড় বড় কথা বলেছে, গরম গরম কথা বলেছে।
“কিন্তু কাজ যদি কেউ করে থাকে, ডেলিভারি যদি কেউ করে থাকে, পরিস্থিতি যদি কেউ তৈরি করে থাকে সেটা বিএনপিই করেছে।”
পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ কেন জরুরি, তার ব্যাখ্যা দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “আপনারা পত্রিকায় দেখেছেন কয়েকদিন আগে আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ করে রাজবাড়ীতে আমরা পদ্মা নদীতে ব্যারাজ তৈরি করব। পদ্মা ব্যারেজ এইজন্য আমরা তৈরি করব যে সীমান্তের ওপারে তারা (ভারত) ব্যারাজ তৈরি করার মাধ্যমে বিভিন্নভাবে পানি নিচ্ছে।
“কিন্তু আমাদের কাছে যে পানিটি আসছে শুকনা মৌসুমে, হয়ত আমরা কম পাচ্ছি। ফলে যেটা হচ্ছে নদীতে পানির স্রোত কমে যাওয়ায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। আস্তে আস্তে আশপাশগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন, ছোটবেলায় আমরা দেখেছি পদ্মা নদীর এপার থেকে ওপার দেখা যায় না। এখনো দেখা যায় না। তবে তখন পানি ছিল এখন পানি শূন্য।”
তিনি বলেন, “পদ্মা ব্যারাজটি আমরা এই জন্য করতে চাচ্ছি, যেন বর্ষা এবং শুকনা মৌসুমে কৃষকই হোক বা যে কোন মানুষ তারা যাতে পানি পায়।
“আরেকটা বিপদজনক ব্যাপার হচ্ছে, এই ফারাক্কা বাঁধ হওয়ার কারণে যেটি হচ্ছে ধীরে ধীরে, যেহেতু পানির পরিমাণ কম…সেজন্য ধীরে ধীরে যেটি হচ্ছে সমুদ্রের পানি দক্ষিণ অঞ্চলে ঢুকছে। ফলে সুন্দরবনসহ ওই সকল অঞ্চলে যেই সমস্যাগুলো আছে, লবণাক্ত পানি বেশি পরিমাণে ভিতরে চলে আসার কারণে গাছপালা নষ্ট হচ্ছে, বিভিন্ন পশু বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে ।”
“কাজেই আমরা যদি সেই প্রেসারটাকে রাখতে চাই আমাদেরকে ব্যারাজটা নির্মাণ করতে হবে এবং ব্যারেজের মধ্যে আমরা পানি ধরে রাখবো। যখন বাড়তি পানি, বর্ষার মৌসুমে যে পানিটা আসে সেই পানিটি আমরা ধরে রাখতে পারব। যাতে করে সেই পানিটি আমরা আমাদের মানুষের জন্য কাজে ব্যবহার করতে পারি। সেই পানিটিকে আমরা আরো যাবতীয় কাজে ব্যবহার করতে পারি।”